৫০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডকে যত রানের টার্গেট দিলো বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডকে কঠিন লক্ষ দিল টাইগাররা…
সিরিজে টিকে থাকার ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। শুরুতে চাপে পড়লেও তা কাটিয়ে উঠে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। সিরিজ জিততে কিউইদের লক্ষ্য ২৭২ রান। ম্যাচটি শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়।

মঙ্গলবার ক্রাইস্টচার্চের হাগলি ওভালে পরপর দুই ম্যাচেই টস হেরেছে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয়টিতেও টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম।

ওপেনিংয়ে আসেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। তবে শুরুটা একদমই বাজে হলো বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশ হারাল লিটন কুমার দাশের উইকেট। কোনো রান না করেই লিটন সাজঘরে। ম্যাট হেনরির শর্ট বল

পুল করতে গিয়ে ইয়ংয়ের হাতে ক্যাচ দেন। ক্যারিয়ারে এটি তার ষষ্ঠ ডাক, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম। লিটন সাজঘরে ফেরার সময় বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৪। নতুন ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার।

পঞ্চম ওভারের বোল্টের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল ফ্লিক করতে গিয়ে মিস করেন তামিম। তার প্যাডে লেগে বল যায় উইকেটের পেছনে। ডানদিকে ঝাপিয়ে বল তালুবন্দি করেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। নিউ জিল্যান্ডের উইকেটের আবেদনে আম্পায়ার ওয়েন নাইটস সাড়া দেন। তামিম সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন। রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায় বল তামিমের প্যাডে আঘাত পেয়ে ল্যাথামের গ্লাভসে জমা হয়। রিভিউ থাকায় রক্ষা। নয়তো শুরুতেই বিপদ হতে পারত।

১৫তম ওভারের প্রথম বল মিড উইকেটে পাঠিয়ে ৩ রান নেন তামিম ইকবাল। ৪৯ থেকে বাংলাদেশের রান ৫২। মন্থর গতিতে রান তোলা বাংলাদেশ ১৫তম ওভারে পায় দলীয় পঞ্চাশ রান।

তামিম-সৌম্যর ব্যাটে শুরুতেই লিটনকে হারানোর চাপ সামলে উঠেছিল বাংলাদেশ। তবে মিচেল স্যান্টনারের বলে ক্রিকজের বাইরে এসে মারতে গিয়ে টম ল্যাথামের হাতে স্ট্যাম্পিং হন সৌম্য(৩২) দলীয় রান তখন ৮৪।

এরপর ধীরে ধীরে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫০ তম অর্ধশত তুলে নেন তামিম। ফিফটির পর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলছিলেন তামিম। নিউ জিল্যান্ড বোলারদের জন্য হয়ে উঠছিলেন থ্রেট। তাকে ফেরাতে টম ল্যাথাম বোলিংয়ে এনেছিলেন ম্যাট হেনরিকেও। কিন্তু কাজ হয়নি। দারুণ ব্যাটিংয়ে তামিম এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ভুল এক ডাকে সব

শেষ। নিশামের বল দেখেশুনে খেলেছিলেন মুশফিক। বল ছিল উইকেটের একদম কাছে। তামিম রান নেওয়ার জন্য কল দেন। মুশফিকও সাড়া দেন। কিন্তু নিশাম নিজের বোলিংয়ে ফিল্ডিং করে তামিমকে রান আউট করেন। পা দিয়ে উইকেট ভাঙেন নিশাম। তামিমের ইনিংসটি শেষ হয় ৭৮ রানে। ১০৮ বলে ১১ চারে ইনিংসটি সাজান তামিম।

মিচেল স্ট্যানারকে মিড অন দিয়ে উড়াতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করলেন মুশফিক। বল গেল হেনরি নিকোলসের হাতে। বৃত্তের ভেতরে থেকে সহজেই ক্যাচ নিলেন নিকোলস। মুশফিক সাজঘরে ফিরলেন ৫৯ বলে ৩৪ রান করে। তামিম আউট হওয়ার পর মুশফিক ও মিথুনের জুটি ছিল ৫১ রানের।

নিশামের ফুলটস বল দারুণ কাজে লাগালেন মোহাম্মদ মিথুন। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে হাঁকালেন ছক্কা। ৪৭ থেকে তার রান ৫৩। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি পেলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এটি তার তৃতীয় ফিফটি। ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয়। ৪৩ বলে ফিফটি পেয়েছেন মিথুন। ৪ চার ও ২ ছক্কায় সাজিয়েছেন ইনিংসটি।

শেষ দিকে রান বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন ছিল আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের। মিথুন একপ্রান্তে চেষ্টা চালালেও মাহমুদুলউল্লাহ দলের প্রয়োজন মেটাতে পারেননি। ৪৮তম ওভারে জেমিসনের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে গাপটিলের হাতে

ক্যাচ দেন। ১৮ বলে ১৬ রান করে মাহমুদউল্লাহ ফেরেন সাজঘরে। তবে পঞ্চম উইকেটে মিথুনের সঙ্গে জুটি গড়তে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ৪২ বলে তাদের জুটিতে আসে ৬৩ রান।

বোল্টের বলে নিকোলসের কাছে ক্যাঁচ দিয়ে ফেরেন মিরাজ(৭)।এরপর আর উইকেটের দেখা পায়নি কিউইরা। ৬ উইকেটে ২৭১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

শেয়ার করুন