২৪ ঘণ্টায় এক উপজেলাতেই লাশের মিছিল, আক্রান্ত ২২৩৫

সাভারে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃ’ত্যু হয়েছে। সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক (পিআর) মো. জাহিদুর রহমান।

মৃ’তদের মধ্যে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিল ছয়জন। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুইজন নারী রয়েছেন। এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, আব্দুল্লাহ আল কাফি (৬৪), আফতাব উদ্দিন শেখ (৫৩), বাবুল মিয়া (৬৪), ইমরান মাহমুদ জুলহাস (৩৭), ছালেহা হক (৪৫) ও সাবিনা ইয়াসমিন (৭২)।

এছাড়া সাভারের অমরপুর এলাকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে বাবলু মিয়া নামের এক ব্যক্তির মৃ’ত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সাভারে সর্বমোট করোনায় মৃ’ত্যুর সংখ্যা ৪৪ জন।

এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার মামুনুর রশীদ বলেন, সকাল থেকে হাসপাতালে করোনায় চারজন পুরুষ ও দুইজন নারী মারা গেছেন। এছাড়া হাসপাতালে ৮৫ জন করোনা রোগী রয়েছেন।

উল্লেখ্য, সাভারে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারিভাবে মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৭২ জনের। এদের মধ্যে
সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ২৩৫ জন। এছাড়া গত ১৭ এপ্রিল নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯৪ জনের। এরমধ্যে নতুন করে আরো ২৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

লকডাউনে মিলছে না ভিক্ষা, না খেয়ে ‘প্রতিবন্ধী পরিবার’

মোন্নাফ আলী (৫৮) দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক হিসেবে পরিচিত এলাকায়। তার ভিক্ষার টাকায় চলে পরিবারের ছয় সদস্যের সংসার। এদের মধ্যে আবার এক ছেলে ও এক মেয়ে তার মতোই জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। মোন্নাফ আলী নিজে একে তো দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তার উপর বয়সের কারণে আগের মতো চলাচল করতে পারেন না। তবুও পরিবারের সদস্যদের তিন বেলা আহার ও চিকিৎসা ব্যয় যোগাতে প্রতিদিন স্ত্রীর হাত ধরে ভিক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হয় তাকে। কিন্তু গত তিন

দিন ধরে কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। ভিক্ষা করতে না পারায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাদের।আজ শুক্রবার বিকালে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের রহমত চর গ্রামের বাসিন্দা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক নামে পরিচিত মোন্নাফ আলীর(৫৮) সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, পরিবারের ৩ জন সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা

পায়। তবে সেই টাকার চেয়েও বেশি টাকা খরচ হয় পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসায়। তাই খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে ভিক্ষার বিকল্প নেই তার। বাধ্য হয়েই স্ত্রীর হাত ধরে ভিক্ষার আশায় ঘোরেন তিনি। তিনি আরো জানান, গত কয়েক দিন ধরে অলস সময় পার করছেন। একদিন ভিক্ষা না করলে অর্ধাহারে অনাহারে হয় পরিবারের ছয় সদস্যকে। ফলে নিত্যদিনেই ভিক্ষা করতে হয় তাকে। মাঝে মাঝে বেশি ভিক্ষার আশায় মোন্নাফ আলী

তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে ভিক্ষায় বেরিয়ে পড়েন। লকডাউনের প্রথম দিনে পীরগাছা উপজেলা সদরসv বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরেও তেমন আয় হয়নি। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন। ভিক্ষা করতে না পাড়ায় স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে তাদের।বর্তমানে তার সংসারে স্ত্রী অমিলা বেগমসহ চার সন্তান রবিউল ইসলাম (২৬), আমেনা খাতুন (১৬), জামেলা খাতুন

(১৫) ও রেজাউল ইসলাম(১২)। এদের মধ্যে জন্ম থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আমিনা খাতুন ও রেজাউল ইসলাম বলেন, বাবাতো হাঁটতে পারে না। তাই আমরাও মাঝে মাঝে বাবার সাথে ভিক্ষা করতে যাই। অনেক সময় আমরা না খেয়ে থাকি। কেউ আমাদেরকে সহযোগিতা করে না।ক্ষুধার যন্ত্রণায় অন্ধ দুই সন্তানসহ স্ত্রী ও শারীরিকভাবে অসুস্থ সন্তানরা মোন্নাফ আলীকে ভিক্ষার জন্য বাইরে বের হতে

কাকুতি মিনতি করেন। কিন্তু বাইরে তেমন লোকজন নেই এবং আইনশৃঙ্খলার ভয়ে বাইরে বের হতে পারছেন না মোন্নাফ আলী। এছাড়া তার শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ায় বেশি সময় হাঁটতেও পারেন না তিনি।উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাহেব উদ্দিন জানান, প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ায় তাদেরকে আর কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি।পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন