২০২০ সালে ঘর ভেঙেছে যেসব জনপ্রিয় তারকার

সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার খেলায় নিত্যই ডুবে থাকে শোবিজ। আজ এই তারকার বিয়ে তো কাল ওই তারকার ছাড়াছাড়ি! এসব নিয়ে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি তো চলেই। এসব দেখে বিরক্ত দর্শক-ভক্তরাও। তাই কোনো তারকার বিয়ে হলে তারা প্রার্থনা করেন, বিচ্ছেদটা যেন অন্তত শান্তিতে হয়!

চলতি বছর শোবিজের অনেক জনপ্রিয় তারকার সুখের সংসার ভেঙেছে। আবার অনেকেরই বিচ্ছেদ চূড়ান্ত না হলেও ঝুলে আছে আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। অনেকেই আবার স্বামী-সংসার কিংবা বউ ছেড়ে আলাদা থাকছেন। তারকাদের সম্পর্কের নানা গল্প নিয়ে এই আয়োজন-

সম্পর্কিত খবর
বলিউড তারকারা যে কারণে মালদ্বীপে বেড়াতে যান
বাইডেন ও কমলার জয়, কাঁদছে তারকারা
‘নেকেড ব্যালট’ বুজাতে নগ্ন হলেন তারকারা, ভাইরাল ভিডিও
স্বামী অনিককে ডিভোর্স দিয়েছেন শাবনূর, ৮ বছরেই ভেঙে গেল সংসার ২০০৮ সালে ‘বধূ তুমি কার’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে অনিক নামে এক নবাগত অভিনেতার সাথে পরিচয় হয় ঢাকাই সিনেমার নন্দিত অভিনেত্রী শাবনূরের। পরিচয়ের সূত্রে প্রেম। ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর অনিক মাহমুদ হৃদয়ের সঙ্গে আংটি বদল করেন শাবনূর। এরপর ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তারা বিয়ে করেন। সেই সংসারে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর আইজান নিহান নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

কিন্তু সেই সংসার ভেঙে গেল আট বছরের মাথায়। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি বনিবনা না হওয়ায় অনিককে তালাক দেন শাবনূর। নায়িকার সই করা নোটিশটি অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদের মাধ্যমে গত ৪ ফেব্রুয়ারি অনিকের উত্তরা এবং গাজীপুরের বাসার ঠিকানায় পাঠানো হয়। শাবনূরের পাঠানো তালাক নোটিশের অনুলিপি তার স্বামী অনিকের এলাকার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং কাজি অফিস বরাবরও পাঠানো হয়। এ তালাক নোটিশে সাক্ষী রয়েছেন মো. নুরুল ইসলাম ও শামীম আহম্মদ নামে দুজন। আইনগতভাবে ৯০ দিন পর তাদের এ তালাক কার্যকর হয়ে গেছে।

ভেঙে গেল শবনম ফারিয়ার সংসার ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী হারুন অর রশীদ অপু। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই সম্পর্ক শিথিল হতে শুরু করে তাদের। অনেক দিন আলাদা থাকতেন দুজন। অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হলেন তারা।

গত ২৭ নভেম্বর তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। দুজনই তালাকনামায় সই করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া নিজেই।

অপূর্ব’র সংসার ভাঙনের খবর চমকে দিয়েছিলো সবাইকে দীর্ঘ ৯ বছরের দাম্পত্য জীবন ছিলো জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও তার স্ত্রী নাজিয়া হাসান অদিতির। ২০১১ সালে বিয়ে করেছিলেন তারা। শোবিজে তাদের আদর্শ দম্পতি হিসেবে দেখা হতো। ১৭ মে খবর পাওয়া যায় তাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। হঠাৎ পাওয়া সেই খবরে চমকে গিয়েছিলেন সবাই। ডিভোর্সের ব্যাপারটি নিজেরাই জানিয়েছেন অপূর্ব ও অদিতি। ১৭ মে রাতে এক ইংরেজি স্ট্যাটাসে অপূর্ব ডিভোর্সের কথা স্বীকার করে তার জন্য এবং সাবেক স্ত্রী অদিতি এবং তাদের সন্তানের জন্য দোয়া চান।

সেখানে অপূর্ব লেখেন, বেদনার সাথে আমি সবাইকে জানাচ্ছি যে নাজিয়া হাসান অদিতির সাথে আমার ৯ বছরের দুর্দান্ত যাত্রাটি অপ্রত্যাশিতভাবে থেমে গেল। আমরা এমনটা চাইনি। তবে আমাদের জীবন এখানে আমাদের এনে দাঁড় করিয়েছে। এত বছর যাবত আমরা একসাথে ছিলাম। সে সর্বদা দুর্দান্ত একজন সঙ্গী এবং সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। আমার অনেক সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে অদিতি। সে এক আশ্চর্য ব্যক্তি, একজন আত্মবিশ্বাসী উদ্যোক্তা এবং সর্বোপরি অত্যন্ত দয়ালু এবং মানবিক ব্যক্তি।

প্রসঙ্গত, অদিতি ছিলেন অপূর্ব’র দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে অপূর্ব সংসার পেতেছিলেন অভিনেত্রী প্রভার সঙ্গে।

নায়িকা মুনমুনের দ্বিতীয় সংসারও টিকলো না ঢাকাই সিনেমার সমালোচিত চিত্রনায়িকা মুনমুনের দ্বিতীয় সংসার ভেঙে গেছে। তার দ্বিতীয় স্বামী মীর মোশাররফকে তিনি চলতি বছরের আগস্টে ডিভোর্স দিয়েছেন। দশ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তারা। খোঁজ নিতে গেলে বেশ সুখী দম্পতি হিসেবেই তাদের নাম শোনা যেত। নানা অনুষ্ঠানে স্বামীকে নিয়ে আসতেন মুনমুন। পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সিনেমার মানুষদের সঙ্গে। দুটি সন্তানও রয়েছে। বোঝা যেত সংসারের প্রতি বেশ মনোযোগী চিত্রনায়িকা মুনমুন।

সেই সংসার টিকলো না। স্বামী মীর মোশাররফ হোসেন রোবেনের নির্যাতন ও স্বার্থপরতার শিকার হয়ে তাকে তালাক দিয়েছেন ‘রানি কেন ডাকাত’খ্যাত এ নায়িকা। চলতি বছরের কোরবানি ঈদের পরদিন ২ আগস্ট তালাক কার্যকর হয়েছে বলে জাগো নিউজকে জানান মুনমুন।

এর আগে নায়িকা মুনমুন ২০০৩ সালে সিলেটের একজন ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন। সিনেমায় অনিয়মিত হওয়ার পর স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। ২০০৬ সালে সেই সংসার ভেঙে যায় মুনমুনের। এরপর দেশে ফিরে আসেন। যোগ দেন যাত্রা ও স্টেজ শোতে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় দ্বিতীয় স্বামী রোবেনের সঙ্গে।

পরীমনির ৩ টাকার বিয়ে ৫ মাসও টিকল না ‘জানেন, আমরা তিন টাকায় বিয়ে করেছি! কিউট না? আমাদের বিয়ের দেনমোহর তিন টাকা’-এভাবেই হঠাৎ বিয়ের খবর জানিয়েছিলেন ঢালিউডের আলোচিত নায়িকা পরীমনি। কিন্তু সেই বিয়েটা পাঁচ মাসও টিকলো না। চলতি বছরের ৯ মার্চ দিবাগত রাতে অভিনয়শিল্পী ও পরিচালক হৃদি হকের অফিসে কাজি ডেকে বিয়ে করেন পরীমনি। বর পরিচালক কামরুজ্জামান রনি। সে সময় পরীমনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘অনেক হিসাব–নিকাশ করে তো জীবনের পরিকল্পনা করাই যায়। কিন্তু জীবন চলে তার নিজস্ব পথে। জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে সবই আল্লাহর হাতে-এটা আমি খুবই মানি। আমার কাছে মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাসও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটার ওপর নির্ভর করে মানুষ জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

কিন্তু পরীর সেই সংসার এগুতে পারেনি। আগস্টে খবর আসে পরী আর রনির বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। তবে সেসব নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেননি পরীমনি। তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বেশ কিছু সিনেমার শুটিং নিয়ে।

তমা মির্জার সংসারে অশান্তি প্রকাশ্যে তাদের বেশ ‘রোমান্টিক কাপল’ হিসেবেই দেখা যেত। তবে গত ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর বাড্ডা থানায় চিত্রনায়িকা তমা মির্জার বিরুদ্ধে স্বামী হিশাম চিশতি হত্যাচেষ্টার মামলা করার খবরটি প্রকাশ হতেই জানা গেল ঘটনা ভিন্ন। নায়িকা তমার সংসারে ভাঙনের সুর বাজছে।

হিশাম তার করা মামলায় তমা মির্জাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বাবা-মা, ভাই এবং অজ্ঞাতপরিচয় একজনকেও আসামি করা হয়েছে। হিশাম চিশতি জানিয়েছেন, তিনি নানা কারণে তমা ও তার পরিবারের উপর বিরক্ত হয়ে বিচ্ছেদ চাইছেন অনেকদিন ধরেই। সেই জেরেই হামলার শিকার হতে হয়েছে তাকে।

এদিকে মামলার খবর গণমাধ্যমে আসার পর জানা গেছে, তমা মির্জাও স্বামী হিশাম চিশতির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। যৌতুক দাবি, নির্যাতন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্বামী হিশাম চিশতির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নায়িকা। দুটি মামলাই হয়েছে রাজধানীর বাড্ডা থানায়। অনেকেই মনে করছেন, এই সংসারটি টিকিয়ে রাখা মুশকিল হবে তমা ও হিশামের পক্ষে। বিচ্ছেদের মাধ্যমেই হয়তো দুজন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে হাঁটবেন।

ভাঙনের হুমকিতে শওকত আলী ইমনের দ্বিতীয় সংসার সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সংবাদ পাঠিকা হৃদিতা রেজার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তিনি।এ বিয়েতে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা উপস্থিত ছিলেন।কিন্তু বিয়ের চার মাস না পেরোতেই স্ত্রীকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শওকত আলী ইমনের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগ করেন স্ত্রী হৃদিতা রেজা। এ নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। তাদের সংসার রয়েছে ভাঙনের হুমকিতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: