১০০ মণ মিষ্টি নিয়ে রাস্তায় নামব, যারে পাব তারেই খাওয়াব: পরীমণি

দেশের আ’লোচিত নায়িকা পরীমণি গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বপ্নের রাজপুত্র শরিফুল রাজকে বিয়ে করেছেন। শুধু তাই নয় দুজনের ঘর আলোকিত করে আসছে নতুন মানুষ। এবার আর সিনেমা’র কোনো দৃশ্য কিংবা গল্পে নয়, বাস্তবেই এই নায়িকা মা হতে যাচ্ছেন। যে খবরে এখন সরগরম দেশের শোবিজ পাড়া।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে পরীমণি ও রাজ জানিয়েছেন, কী’ভাবে শুরু হয়েছিল দুজনের প্রে’ম। কী’ভাবে এক হলো দুজনের চার হাত। গতকাল সোমবার ১০ জানুয়ারি বিকেলে পরীমণি এবং রাজ দুজন একই মুঠোফোন ভাগাভাগি করেই শোনান নিজেদের হঠাৎ প্রে’মের এই গল্প। গল্পের ঝাঁপিটা খোলেন পর্দা থেকে পরীর বাস্তব জীবনে আসা ‘ন ডরাই’ নায়ক শরীফুল রাজ।

এ সময় এই অ’ভিনেতা বলেন, ‘বিয়ে করেছি। বাবা হচ্ছি। সব মিলিয়ে খুব ভালো লাগছে। বাবা হওয়ার খবর শোনার পর থেকে তো খুশিতে নাচতেছি। আম’রা দুজন এখন বনানীতে। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে আছি। আমাদের পরিবারও মহাখুশি। খুশিতে ওরাও নাচেতেছে।’

এ সময় পাশ থেকে রাজের কথা কেড়ে নিয়ে বলতে শুরু করেন তার বাস্তব জীবনের নায়িকা, নববধূ পরীমণি। তিনি বলেন, ‘১০০ মণ মিষ্টির অর্ডার দিয়েছি। আম’রা হাঁটব আর বিলাব। যারে পাব তারে দেব। এটাই হেডিং করেন। রাস্তায় নামব। যারে পাব তারেই মিষ্টি খাওয়াব।’

তিনি বলেন, “রাজকে আমি প্রথম যেদিন দেখেছি, সেদিনই কাহিনিটা ঘটে গেছে। আসলে ‘গুনিন’ সিনেমা’র মিটিংয়ের জন্য সেলিম (গিয়াস উদ্দিন সেলিম) ভাই সেদিন আমাকে অফিসে ডাকেন। শুরুতে আম’রা সিনেমা’র একটা গান শুনি। গানটা হলো-‘আমি ঘোমটা খুলে, বদন খুলে দেখেছিলাম চাইয়া গো, দেখেছিলাম চাইয়া।”

এদিকে পরীমণির ভাষ্যে, ‘গানটা শোনানোর পর আমাদের লুক সেট হচ্ছে। আমি কস্টিউম পরলাম। পাশে দেখি এক মাল (রাজ) বইসা আছে। সাদা পাঞ্জাবি পরে, সুন্দর করে বসে আছে, কোনার মধ্যে। হাতে ব্যান্ডেজ লাগানো। মুখে মাস্ক। মুখটা দেখতে পারছি না। তখন সন্ধ্যা। সবাই স্ক্রিপ্ট নিয়ে বসলাম। সেলিম ভাই পড়ছে। একটা সিনের মধ্যে জিন ভুতের কথা ছিল। এরপর-‘রাখো তুমি, বুকে আসো’ এই টাইপের একটা ডায়লগ। এটা শরীফুল রাজের ডায়লগ। ও এটা বলতে লজ্জা পাচ্ছিল। বলেছে, কিন্তু সেলিম ভাইয়ের মনপুত হয়নি। আমি তখন বললাম, ‘না না শুটিংয়ে গিয়ে হয়ে যাবে।’

এ সময় পরীমণি বলেন, “তখন সেলিম ভাই আমা’র দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘হয়ে যাবে না?’ আমি বলি, হ্যাঁ, হয়ে যাবে। এবার সেলিম ভাই হেসে দিয়েছে, আমিও হেসে দিয়েছি। রাজ তখন আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। এরপর সেলিম ভাই বলল, ‘আচ্ছা, ছে’লেটা সুন্দর না? তাকা, তাকা! আমি এরমধ্যে লজ্জায় পড়ে গেছি। তিনি বলেন, ‘সুন্দর না? সুন্দর না? বর সুন্দর না? আমি বলি, হ্যাঁ, ‘সুন্দর তো (হাসি)! এই যে দেখাদেখি হলো সেদিন, তারপরই মনের মধ্যে ঢুকে গেছে জিনিসটা (রাজ)।”

তিনি বলেন, ‘ওই দেখার সাত দিনের মা’থায় আম’রা বিয়েশাদি করে ফেলেছি। এর আগে কখনো রাজের সঙ্গে আমা’র দেখাই হয়নি। সেলিম ভাই সব অঘটনটা ঘটাইল।’ এ সময় পরীর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে পাশ থেকে রাজ হেসে ওঠে বলেন, ‘আমাদের প্রে’মের নায়ক হচ্ছেন গিয়াসউদ্দিন সেলিম। তিনিই আমাদের প্রে’মটা করিয়ে দিয়েছেন।