হেলিকপ্টারে চড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল

হেলিকপ্টারে চড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল

হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগর, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও চিত্রনায়ক রুবেল।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টারে করে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে নামেন তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও দুজন উঠতি চিত্রনায়িকাও ছিলেন।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের সুবিস্তৃত হাওর এখন অবাধ জলরাশিতে কানায় কানায় পূর্ণ। ছুটির দিনে মানুষ হাওরের জলে একটু শরীর ভেজানোর জন্য ছুটে আসছে।

প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর এই হাওরে মানুষের মনকে আরেকটু রাঙাতে রাত্রিযাপনের প্রয়াসে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরের মধ্যে নির্মিত হয়েছে বিলাসবহুল প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট। হাওরের মাঝে বসেই প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখা যাবে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট থেকে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই রিসোর্টের দরজা খুলেছে।

প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই ঢাকা থেকে জায়েদ খান, মিশা সওদাগর, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও রুবেল হেলিকপ্টারের চড়ে হাওরাঞ্চলে এসেছেন।

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক ও অভিজাত প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট। হাওরাঞ্চলে এই প্রথম ব্যক্তি উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন একটি রিসোর্ট নির্মিত হয়েছে। যেখানে তারকা হোটেলের সমান সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা কিশোরগঞ্জের ‘হাওরের বিস্ময়’ হিসেবে পরিচিত ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অল-

ওয়েদার সড়কের মিঠামইন জিরো পয়েন্ট থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুরে দক্ষিণের হাওরে এর অবস্থান। স্থানীয় বাসিন্দা ডা. এ বি এম শাহরিয়ার তার হাওরের পৈতৃক সম্পত্তির ৩০ একর জায়গায় গড়ে তুলেছেন এই প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট।

দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের এলাকায় এই রিসোর্ট নির্মাণ হওয়ায় এর মালিক রিসোর্টের নামকরণ করেছেন ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’। সেখানে বিশাল একটি পুকুর আছে। পুকুরের চারদিকে গড়ে তোলা হয়েছে রিসোর্টটি।

পুকুরের উত্তর পাশে রেস্টুরেন্ট আর দক্ষিণ পাশে গড়ে তোলা হয়েছে কটেজগুলো। এর চারদিকে লাগানো হচ্ছে সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির হাজারো গাছ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিস্তীর্ণ হাওরে সবুজের এই সমারোহ পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেবে মুহূর্তেই। কটেজগুলোর দক্ষিণে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ জলরাশি নিঃসন্দেহে হাওরপ্রেমীদের চোখ জুড়াবে।

বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা ও স্পিডবোট। তবে শুকনো মৌসুমে মোটরসাইকেল বা গাড়িযোগে অনায়াসে যাওয়া যাবে এই রিসোর্টে। প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে মোট ১০টি ডুপ্লেক্স কটেজ রয়েছে।

তবে সেগুলোর কাজ এখনো শেষ হয়নি। কটেজগুলোর ভেতরের অংশের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র। এখন মিস্ত্রিরা বাইরে রঙের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই রিসোর্টটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। তবে লকডাউনের কারণে তা পিছিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনের ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের দক্ষিণ পাশে হাওরে ৩০ একর জায়গায় অত্যাধুনিক ও মানসম্মত সুবিধা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট।

অত্যাধুনিক এ রিসোর্টে রয়েছে ১০টি আবাসিক ডুপ্লেক্স কটেজ, যার প্রতিটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। দুতলা বিশিষ্ট এ সকল কটেজে ৪০টি পরিবার থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

রয়েছে অত্যাধুনিক পার্টি সেন্টার (আউটডোর), বিশাল ক্যান্টিনে ৪ শতাধিক লোকের একত্রে খাবারের ব্যবস্থা। ইনডোরে রয়েছে চাইনিজ ও বাংলা রেস্টুরেন্ট। লেকের পাশে রয়েছে কালচারাল সেন্টার, সাইট লিংক ও গলফ কার রাইডিং। লেকের মাঝখানে রয়েছে হেলিপ্যাড।

মাছ ধরার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক চৌকি। আনুমানিক ৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। রয়েছে সবজি বাগান। গাছের মাঝখানে শিশুদের জন্য খেলার সামগ্রীসহ ২০টি ছাতা রয়েছে বিশ্রামের জন্য।

বিভিন্ন কারুকার্যে খচিত পাথরের মাছ ,বাঘ, সিংহও রয়েছে। পাঁচ তলা ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে লেকের পশ্চিম পাশে। যেখান থেকে বিস্তীর্ণ হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। মনোরম পরিবেশে লেকের দুপাশে অত্যাধুনিক দুটি সিঁড়ি ঘাট রয়েছে। সুদৃশ্য পাইপের ভেতর চারজন বসার মতো জায়গাও রয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে সুইমিং প্লটিং, পেডেল বোট, জেডস কি ওয়াটার বাইক, শিশুদের জন্য কিডস কর্নার। বর্ষাকালে যাতায়াতের জন্য দুটি অত্যাধুনিক ট্রলার ও তিনটি স্পিড বোট রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে রিসিপশনিস্টসহ ৮০ জন স্টাফ রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সিকিউরিটি এজেন্সির ১০ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *