হেফাজতের আন্দোলন সমর্থন করে জকিগঞ্জে ছাত্রলীগ সভাপতির পদত্যাগ!

হেফাজতে ইসলামের চলমান আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে জকিগঞ্জে এক ছাত্রলীগ নেতা পদত্যা’গ করেছেন। ওই নেতা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজ মাজেদ। শনিবার রাতে তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে

এক স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগী ছাত্রলীগ সভাপতির ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেখা যায়, তিনি পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘মুসলিম জনতার মানবতাকে উপেক্ষা

করে ভারতের ইসলাম বি’দ্বে’ষী, সীমান্ত হ”ত্যাকা’রী, কাশ্মীর দখ’লকারী, ক’সা’ই মুদিকে দেশে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ও নামাজি মুসলমানদের ওপর ব’র্ব’র নি”র্যা’ত’ন ও হ”ত্যাকা’ণ্ডের মতো ঘৃ’ণ্যতম’ কাজের কারণে তীব্র নি’ন্দা ও প্র’তিবাদ’ জানিয়ে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে পদত্যা’গ করলাম’।

হাফিজ মাজেদ ছাত্রলীগকে ব’য়ক’টের ঘোষণা দিয়ে নানা বিত’র্কি’ত লেখা পোস্ট করেন’। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে তৃণমূল ছাত্রলীগ নেতাদের মাঝে চরম ক্ষো’ভ দেখা দিয়েছে। তৃণমূল ছাত্রলীগের একাধিক নেতা ক্ষো’ভ প্রকাশ করে বলেন, রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে ও অবমূল্যায়ন করে ছাত্রলীগের কমিটিতে অনুপ্রবেশকারী ও অন্য দলের

এজেন্টদেরকে পদপদবী দিয়ে পু’রস্কৃত করা হয়েছে। তাছাড়াও বিভিন্ন ভু’ইফোঁ’ড় সংগঠনের নামেও শিবির-ছাত্রদলসহ বি’রো’ধী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে আওয়ামী ব্যানারের নিচে নি’রাপ’দে স্থান করে দেয়া হয়েছে।

সুযোগ পেলে তারাই সংগঠনকে বিত’র্কের মাঝে ফে’লে দেয়। পদপদবী দেবার সময় ত্যাগীদের ব’ঞ্চি’ত করার কারণে বৃহৎ সংগঠনটি কঠিন সময়ে কল’ঙ্কি’ত হয়।

তারা আরও জানান, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন কমিটিসহ ওয়ার্ড কমিটিগুলোতেও অনুপ্র’বেশকারী অসংখ্য পদধারী রয়েছে। এই অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বি’ব্র’তকর পরিস্থিতির মাঝে আছেন দলের কঠিন সময়ের পরীক্ষিত কর্মীরা। সুদিনে অনুপ্রবেশকারীরা সংগঠনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় তাদের দাপটে প্র’কৃ’ত ছাত্রলীগ কর্মীরা খুবই অ’সহা’য়। ত্যাগী অনেকজন অনুপ্রবেশকারীর কুনই ঠে’লায় রাজনীতি থেকেও দূরে সরে গেছেন। দলের ভিতর

অনুপ্রবেশকারীরা ছদ্মবেশে ঘাপটি মে’রে পদপদবী নিয়ে বসে আছে বলে প্রকাশ্যে বহু অ’ভিযো’গ রয়েছে। সরকার বি’রো’ধী আন্দোলনের সময় তারাই রাজপথে না গিয়ে ধর্মের বাহানা সামনে এনে নীরব ভূমিকা পালন করে।

অভিযো’গ রয়েছে, কতিপয় নেতারা তাদের বলয় গড়তে বিরোধী সংগঠন থেকে আগত নেতাকর্মী দিয়ে বলয় বৃহৎ করে নিজেদের প্রভাব বি’স্তার করেছেন। বিরোধী সংগঠনের সমর্থকরাও তাদের প্রশ্রয়ে নিরাপদে আছেন। সিনিয়র নেতাদের এমন কর্মকাণ্ডেও ক্ষো’ভ আছে অনেকের মনে। এখনই এদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দল থেকে বহি’ষ্কা’র

করতে তৃণমূল কর্মীরা দাবি জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি বাবর হোসাইন চৌধুরী বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচি পালন না করার কারণে ত্যাগীরা অভিমানে নীরব হয়েছেন।

ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী আছেন স্বীকার করে তিনি বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের ব্যর্থতার কারণেই অনুপ্রবেশকারীরা কেন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষ’ম হয়। হেফাজতের নৈরাজ্যর প্র’তিবা’দে গত ২৭ মার্চও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছিল কিন্তু উপজেলা ছাত্রলীগ তা বাস্তবায়ন করেনি। পরে তৃণমূল ছাত্রলীগ বি’ক্ষো’ভ করেছে। ছাত্রলীগের কমিটিতে পদপদবী নিয়ে

সুবিধাভোগীরা বসে থাকলেও সরকার বি’রো’ধীদের নানা ইস্যুতেও তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও নীরব ভূমিকায় থাকেন। এ নিয়ে ‘ক্ষো’ভের শেষ নেই। নতুন কর্মী সংগ্রহ না করেই আগতদের লালন পালন করা হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি।

পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুল আমিন বলেন, পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজ মাজেদ এখন ছাত্রলীগের কোনো দায়িত্বে নয়। তিনি প্রায় দুই বছর আগে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর প্রবাসে চলে যাবার কারণে পদ’ত্যা’গ করেছেন। এখন হেফাজত ইস্যুতে পদত্যাগ করেছেন বলে তার জানা নেই বলে জানান। তিনি

বলেন, পৌরসভা ছাত্রলীগে কোন অনুপ্রবেশকারী নেই। ওয়ার্ড কমিটিগুলোতে অনেক যাচাই বাছাই করে পদপদবী দেয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন গ্রুপে অনুপ্রবেশকারী আছেন বলে স্বীকার করেছেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, পৌরসভা ছাত্রলীগ আলাদা একটি ইউনিট। তাই তারাই ভালো বলতে পারবে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি কেন পদত্যাগ করলেন। এরপরও বিষয়টি দুঃখজনক। এত ত্যাগী ছাত্রলীগ কর্মী থাকাকালে কিভাবে অনুপ্রবেশকারী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পায়। তা তারাই বলতে পারবে। উপজেলা ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী রয়েছে- এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগে কোনো

অনুপ্রবেশকারী নেই। উপজেলা শাখা যে কোনো ইউনিয়ন কমিটি গঠনের আগে ভালো করে যাচাই বাছাই করে নেতা নির্বাচিত করে। এরপরও অনুপ্রবেশকারী কেউ ছাত্রলীগের মিছিল মিটিংয়ে আসলেও আমরা তাকে কমিটিতে স্থান দেই না।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তাৎক্ষণিক কেন্দ্রীয় কর্মসূচির খবর পাননি। তবে

হেফাজতের হর’তা’ল প্রতিহত করতে সারাদিন ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলেন। ছাত্রলীগের তৎপরতার কারণে জকিগঞ্জের কোথাও হেফাজত কর্মীরা পি’কে’টিং করতে পারেনি। জকিগঞ্জ ছাত্রলীগ ঐক্যব’দ্ধ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। সূত্রঃ যুগান্তর

শেয়ার করুন