হতাশায় দুই কন্যাকে হত্যার পর সুখেন্দুর আত্মহত্যা: পুলিশ

চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন এলাকায় সুখেন্দু বড়ুয়া (৪৮) নামের এক ব‌্যক্তি হতাশার কারণে দুই কিশোরী কন্যাকে গলা টিপে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দিন জানান, প্রাথমিক তদন্তে যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে তাতে ধারণা করা যাচ্ছে, হতাশার কারণে সন্তানদের হত্যা করে সুখেন্দু বড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি করোনা পরিস্থিতিতে চাকরি হারিয়ে হতাশা থেকেই সন্তানদের হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া, পাঁচ বছর আগে স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় সুখেন্দু সন্তানদের নিয়ে হতাশায় ভুগতেন। চাকরিচ্যুত হওয়ায় তিনি আরো হতাশাগ্রস্ত হন।

গত বুধবার (১ জুলাই) ভোর রাতে পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নে ভান্ডারগাওয়ে টুকু বড়ুয়া (১৪) ও নিশু বড়ুয়া (১১) নামের দুই কন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন সুখেন্দু বড়ুয়া। এর পর তিনি বিষপানে আত্মহত‌্যার চেষ্টা করেন। সকালে পুলিশ বাড়ি থেকে দুই শিশুর মরদেহ এবং সুখেন্দুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। সুখেন্দুকে চট্টগ্রাম মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

সুখেন্দু বড়ুয়া দূরসম্পর্কের এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাইজিংবিডিকে জানান, পাঁচ বছর আগে স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকত সুখেন্দুর পরিবার। সুখেন্দু ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। করোনা পরিস্থিতির কারণ মার্চে চাকরিচ্যুত হন সুখেন্দু। বাড়িতে ফিরে তিন মাস ধরে অভাব-অনটনের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে দিনযাপন করছিলেন তিনি। চরম হতাশায় ছিলেন তিনি। সুখেন্দু হতাশার কারণেই সন্তানদের হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন বলে সবাই ধারণা করছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: