সড়কের উদ্বোধন করলেন রিকশাচালকের স্ত্রী

সড়কের উদ্বোধন করলেন রিকশাচালকের স্ত্রী

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার জলকর রোহিতা এলাকায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০০ ফুটের একটি সড়ক ইট দিয়ে পাকা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে সড়কটির উদ্বোধন করা হয়েছে। মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানমের উপস্থিতিতে স্বপ্না খাতুন নামের এক নারী ফিতা কেটে সড়কটির উদ্বোধন করেন।

স্বপ্না খাতুন উপজেলার জলকর রোহিতা গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী। রবিউল ইসলাম রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ৯ আগস্ট কর্দমাক্ত সড়কে এক নারীর রিকশা ঠেলার একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, কাদার মধ্য দিয়ে রিকশা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। রিকশার চাকা কাদার মধ্যে দেবে যাচ্ছে। পেছন থেকে রিকশা ঠেলছেন এক নারী। সেই নারীই স্বপ্না খাতুন। আর রিকশা টানছিলেন তাঁর স্বামী রবিউল ইসলাম।

স্থানীয় লোকজন জানান, জলকর রোহিতা গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় পাকা সড়কের পাশে একটি কাঁচা সড়ক ছিল। বর্ষায় সড়কটিতে অনেক কাদা হতো। সড়কের পাশে ২৫-৩০টি বাড়ি রয়েছে। বাসিন্দাদের অধিকাংশই রিকশা বা ভ্যান চালান। বর্ষা মৌসুমে ভ্যান-রিকশা নিয়ে সড়কটি দিয়ে কাদার মধ্যে যাতায়াতে তাঁদের চরম ভোগান্তিতে

পড়তে হতো। ওই সড়ক দিয়ে কাদা মাড়িয়ে নিয়মিত রিকশা আনা-নেওয়া করতেন রবিউল ইসলাম। তিনি হার্টের রোগী। এ জন্য কাদার মধ্যে রিকশা টানতে তাঁর কষ্ট হতো। তখন স্বপ্না খাতুন মূল সড়কে তুলতে রিকশা ঠেলে স্বামীকে সাহায্য করতেন।

এতদিন সড়কের কাদা মাড়িয়ে রিকশা আনা-নেওয়া করতেন রবিউল ইসলাম। তিনি হার্টের রোগী। এ জন্য তাঁর কষ্ট হতো। তখন স্বপ্না খাতুন মূল সড়কে তুলতে রিকশা ঠেলে স্বামীকে সাহায্য করতেন।
বিজ্ঞাপন

ফেসবুকে নারীর রিকশা ঠেলার ছবি দেখে মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম সড়কটি পরিদর্শনে যান। তখন তিনি সড়কটি ইট দিয়ে পাকাকরণের উদ্যোগ নেন। আজ তিনি নিজে উপস্থিত থেকে স্বপ্না খাতুনকে দিয়ে ফিতা কাটিয়ে সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রোহিতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু আনছার সরদার, আওয়ামী লীগ নেতা হাসেম আলী, আলতাফ হোসেন, শেখ রাশেদ আলী, ইউপি সদস্য মহিতুল হোসেন, শিক্ষক দেবাশীষ বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিতি ছিলেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, ‘ফেসবুকে ছবিটি দেখে খুব খারাপ লেগেছিল। একজন নারী প্রতিদিন বাড়ি থেকে তাঁর স্বামীর রিকশা ঠেলে মূল সড়কে তুলে দেন। বিষয়টি আমাকে নাড়া দেয়। এরপরই এডিপির অর্থায়নে উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে সড়কটির ৫০০ ফুট ইট বিছানোর কাজ করা হয়। সড়কটির পাকাকরণে ওই নারীর ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। এ জন্য সড়কটির উদ্বোধন ওই নারীই করেছেন।’

শেয়ার করুন