স্বামী আমার অন্যদের মতো নয়: মৌসুমী

স্বামী আমার অন্যদের মতো নয়: মৌসুমী

বিয়ের ২৫ বছর পার করলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও নায়ক ওমর সানী। গত রোববার রাতে গুলশানের বাসায় কেক কেটে রজতজয়ন্তী উদ্‌যাপন করলেন এ দম্পতি। সেই কেক কাটার তিনটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে ওমর সানী লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের দোয়াতে, আল্লাহর হুকুমে, পরিবার–পরিজন, বন্ধুবান্ধব সবাইকে নিয়ে, তার চেয়ে বড় আমাদের ভক্তদের দোয়াতে বাকি জীবন যেন কবর পর্যন্ত যেতে পারি।’বিনোদন দুনিয়ায় তারকাদের বিচ্ছেদের খবর যতটা শোনা যায়,

সফল বা দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের খবর সেভাবে আসে না। এ প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘সবকিছু ম্যানেজ করা গেলেও সম্পর্কের ছন্দপতন করা যায় না। পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধায় সম্পর্ক বেঁচে থাকে। অনেকে ভাবতে পারেন, খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয় চেহারার কোনো ছেলেমেয়ে বিয়ে করলেই বুঝি সংসার সুখের হয়, মোটেও নয়।

সংসারজীবনে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের স্যাক্রিফাইসের মানসিকতা থাকতে হবে। দ্বন্দ্ব তৈরি হতেই পারে, এ রকম ছোটখাটো বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে।’ ২৫ বছরের সংসারজীবন কীভাবে কেটে গেছে টেরই পাননি মৌসুমী। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার এখনো বিশ্বাস হয় না। এত বছর পার হয়ে গেল, ভাবতেই অবাক লাগে।

মনে হয়, এই তো কদিন আগে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে প্রেম করার সময় পাইনি। বিয়ের পর প্রেম করছি। যদিও ভালোবাসার কথা সামনাসামনি বলা হয় না।’ বললে অত্যুক্তি হবে না, চলচ্চিত্রে সমসাময়িকদের তুলনায় দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে এগিয়ে মৌসুমী–সানী। সুখে-শান্তিতে সংসার করার রহস্যটা কী? ওমর সানী বলেন, ‘মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব আমাকে মুগ্ধ করে। একে অপরকে ছাড় দিই। বোঝাপড়া ভালো।

দুজনই সন্তানদের নিয়ে চিন্তা করি।’ অন্যদিকে মৌসুমী বলেন, ‘স্বামী আমার অন্যদের মতো নয়। আজ এই মেয়ে দেখলে হাঁ হয়ে যায়, কাল ওই মেয়ে দেখলে মাথা ঘুরে পড়ে যায়, মোটেও তেমন নয়। পরিচয়ের শুরুতে এমন ছিল না, এখনো নেই।

অনেক মেয়েকেই দেখি স্বামী নিয়ে খুব আফসোস করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমার সানীকে নিয়ে কোনো অভিযোগ করতে হয়নি। সানীর ইতিবাচক দিক খুব সহজে মানুষকে ভালোবাসে, বিশ্বাস করে। যত সহজে রাগে, তার চেয়ে দ্রুত রাগ কমে যায়। মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। এটা আমার খুব পছন্দ।’ মৌসুমীকে ওমর সানী বিয়ে করেন ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ। কাউকে না জানিয়ে হুট করে বিয়ে। পাঁচ মাস পর ২ আগস্ট হয়েছিল বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। এ দিনকেই নিজেদের বিয়ের দিন হিসেবে পালন করেন তাঁরা।

তাঁদের দুই সন্তান ফারদীন ও ফাইজা। এ বছরের ২৬ মার্চ ছেলের বিয়ে হয়ে গেছে। কনে কুমিল্লার মেয়ে আয়েশা। মা–বাবার সঙ্গে কানাডায় থাকেন, সেখানেই পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা। কয়েক মাসে আগে ফারদীনের সঙ্গে আয়েশার পরিচয়। তারপর বন্ধুত্ব ও ভালো লাগা। সে কথা দুই পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন দুজন। এরপর পারিবারিক আলোচনার ভিত্তিতেই বিয়ে।

শেয়ার করুন