স্কুল-কলেজ খোলা নেই, তবুও চলছে কোচিং সেন্টার

বাংলাদেশে করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই বন্ধ সারাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ স্থানে সবকিছু স্বাভাবিক হতে চললেও কমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কোন স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খুলনার কোচিং সেন্টারগুলোতে পড়ানোর নামে চলছে রমরমা ব্যবসা। কোচিং সেন্টারগুলো চালানোর কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

খুলনা স্বাস্থ্য দপ্তর বলছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অধিকতর যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে না মানার কারণে জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে প্রতিপালন ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিতে (সোমবার) থেকে জেলায় বিশেষ অভিযান শুরু হবে।

খুলনার পুরো শহর জুড়েই ছেয়ে গেছে কোচিং সেন্টারে। কেউ নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা বলতে না পারলেও নগরীতে এর সংখ্যা ছয় শতাধিকের বেশী বলে জানিয়েছেন অনেকেই। আহসান আহমেদ রোড, ইউসুফ রোঁ মির্জাপুর রোড, শামছুর রহমান রোড, টি বি বাউন্ডারী রোড, মডার্ণ মোড়, সুলতান আহমেদ রোড, বাবুখান রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, সিটি কলেজ সংলগ্ন এলাকাসহ খালিশপুর, দৌলতপুর, বয়রা বাজার সংলগ্ন এলাকাতে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে এ সকল কোচিং সেন্টার।

নগরীর বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টারে ঘুরে দেখা যায়, সেখানে এক সাথে প্রায় ৩৫-৪০ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস করানো হচ্ছে। আর বেশীর ভাগ কোচিংয়ে শিশুদের উপস্থিতি বেশী। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শিক্ষার্থীদের বসানো হয়েছে গায়ে-গায়ে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীদের মুখে নেই মাস্ক। নেই কোন সেনিটাইজেশনেরও ব্যবস্থা। এক একটি কোচিং সেন্টারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে ক্লাস।

গত ১৯ ও ২১ মার্চে বিভিন্ন সময়ে নগরীর বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টারে ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলছে ক্লাস। নগরীর মৌলভীপাড়া টিবি বাউন্ডারি রোডের একাধিক কোচিং সেন্টারে এ দৃশ্য দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থীদের এক সাথে ক্লাস করানো হচ্ছে। নেই কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ও কেন পড়াচ্ছেন এমন প্রশ্নের সামনে বিভ্রান্তিতে পড়েন কোচিংগুলোর পরিচালকরা। সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং চালানো হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তারা।

নগরীর ইউসুফ রো রোডস্থ বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাডমিশনের কোচিংয়ে গিয়েও দেখা যায় একই অবস্থা। সেখানকার কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সময়ে কোচিং সেন্টার চালানো মানেই সরকারে নির্দেশনা অমান্য করা। তারপরও আমরা নিজেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য ঝুঁকি নিয়ে খুলেছি। দীর্ঘ ৭-৮ মাস আমাদের কোচিং বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বাড়ি ভাড়া দেওয়া লেগেছে প্রতি মাসের। এটা আইন বিরোধী যেনেও আর্থিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমার কোচিং খুলেছি।

গত ১৭ মার্চ শিশু দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘরে বসেই পড়াশোনা ও খেলাধুলা করার আহবান জানান। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ মো. জাফর বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এতো দিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোচিং সেন্টারগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ক্লাস করানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে জানান এই শিক্ষাবিদ।

খুলনা বিভাগীয় শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, আমরা শুনেছি নগরীর বেশির ভাগ জায়গায় কোচিং সেন্টার চালানো হচ্ছে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ সরকারি নির্দেশনা পরিপন্থী। আমরা বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টারের পরিচালকদের সতর্ক করেছি। কিন্তু তারা আমাদের অমান্য করে কোচিং চালিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন