স্কুল-কলেজ খোলার ব্যাপারে নতুন করে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

স্কুল-কলেজ খোলার ব্যাপারে নতুন করে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

করোনা সংক্রমণের হার সন্তোষজনক পর্যায়ে আসলে স্কুল-কলেজ খোলা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এছাড়া তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকাংশকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে সে বিষয়ে এখনই বলা কঠিন। আজ রোববার (১৫ আগস্ট) এক সংবাদ বুলেটিনে এ তথ্য জানা যায়।

এদিকে গতকাল শনিবার শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসময় তিনি বলেন, সবকিছুই নির্ভর করছে দেশের করোনা পরিস্থিতি ওপর।

গত ১৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রুপভিত্তিক তিনটি বিষয়ের ওপর শুধু নৈর্বাচনিক পরীক্ষার মাধ্যমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পূর্ববর্তী ক্লাসে আবশ্যিক যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা নেয়া হয়েছে, সেগুলোর পরীক্ষা না নিয়ে আগের পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

তবে পরীক্ষার প্রশ্ন, নম্বর ও সময় কেমন হবে? এ প্রশ্নেরও উত্তর দেন শিক্ষামন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিন ঘণ্টার পরীক্ষা হবে দেড় ঘণ্টায়। আর প্রশ্নপত্র এখন যেভাবে বহুনির্বাচনী ও রচনামূলক হয়, সেভাবেই হবে। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন বাছাই করার ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ পাবে। যেমন আগে যেখানে ১০টি প্রশ্নের মধ্যে থেকে ৮টির উত্তর দিতে হতো, সেখানে এখন হয়তো সেই ১০টি প্রশ্নই থাকবে। তবে তার মধ্যে তিনটি বা চারটির উত্তর দিতে বলা হতে পারে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন বেছে নেয়ার সুযোগ বেড়ে যাবে।

ডা. দীপু মনি জানান, প্রতি বিষয়ে মোট নম্বর ১০০–এর বদলে ৫০ নম্বর করা হবে। পরে এই ৫০ নম্বরকে ১০০–তে রূপান্তর করে পরীক্ষার ফল দেয়া হবে।

এ সময় তিনি আরো জানান, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার্থীদের আগামী ১৮ আগষ্ট থেকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া শুরু হবে। ১২ সপ্তাহে মোট ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। ৩টি নৈর্বাচনিক বিষয়ের ওপর প্রতি সপ্তাহে ২টি করে মোট ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার্থীদের আগামী ২৬ জুলাই থেকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া শুরু হবে। ১৫ সপ্তাহে মোট ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। ৩টি নৈর্বাচনিক বিষয়ে (৬টি পত্রে) প্রতিটি পত্রে ৫টি করে মোট ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে।

ডা. দীপু মনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির সার্বিক বিবেচনায় পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর পূর্ববর্তী জেএসসি বা জেডিসি বা এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে সাবজেক্ট ম্যাপিং করে এবং অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে অথবা শুধু সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে এসএসসি বা এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

শেয়ার করুন