সৌরভকে বিয়ে করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সুন্দরী তরুণী

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উপজেলার ছাপরহাটী ইউপির কেয়ামনি মহন্ত (১৮)। সুশ্রী হওয়া সত্ত্বেও ২৫ বছর বয়সী সৌরভ ঘোষ সোনা নামে এক বুদ্ধিপ্রতিব’ন্ধীকে বিয়ে করে বিরল দৃ’ষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। সৌরভকে আদর-ভালোবাসা দিয়ে প্রতিব’ন্ধী স্বামীকে সুস্থ করে সংসার জীবনে সফল হয়ে দৃ’ষ্টান্ত স্থাপন করতে চান এই তরুণী। কেয়ামনি গাইবান্ধার সুন্দগঞ্জের পূর্ব ছাপরহাটি গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শ্রী গণেষচন্দ্র মোহন্তর চতুর্থ মেয়ে।

আর সৌরভ গাইবান্ধা পৌরসভার ডে’ভিড কোম্পানি পাড়ার অ্যাডভোকেট সুশীল কুমার ঘোষের দ্বিতীয় ছেলে। হিন্দু রীতি অনুযায়ী গত ৪ মার্চ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের বিয়ে সম্প’ন্ন হয়েছে। সৌরভ জানান, কেয়ামনি আমার বউ নয়, আমার গার্লফ্রেন্ড (প্রেমিকা)। কেয়ামনি জানান, নয় দিনের সংসার জীবনে সৌরভের অনেক ভাব-ভাষাই বুঝতে সক্ষ’ম হয়েছেন তিনি। তবে শুরুটা অনেক কঠিন ছিল। কেয়ামনি বিশ্বাস করেন তার এই যু’দ্ধে কিছুটা সময় লাগলেও তিনি সফল হবেন।

কেয়ামনি আরও বলেন, সৌরভের বাহ্যিক চে’হারা ও কথাবার্তায় কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিব’ন্ধী মনে হলেও আচরণগত তার কোনো ত্রু’টি নেই। আমি আমার জীবনের সবটুকু দিয়ে তাকে স্বাভাবিক করে তুলতে চাই। আমি পারব, এটি আমার বিশ্বাস। মকেন এত ত্যা’গ আর প্রতি’জ্ঞা? এমন প্রশ্নের জবাবে কেয়ামনি বলেন, প্রথম দেখাতেই সৌরভকে আমার ভালো লেগেছিল। আর সেই ভালো লাগা এক সময় ভালোবাসায় রুপ নেয়।

পরে তাকে আমি বিয়ে করি। সৌরভের মা সুলেখা দাস বলেন, গর্ভ ধারণের আট মাস ১০ দিনের মাথায় অপরি’ণত বয়সে জন্ম হয় সৌরভের। ডাক্তার তার বু’দ্ধিপ্রতিব’ন্ধী হওয়ার ব্যাপারে আগেই বলেছিলেন। কেয়ামনির পরিবারের প্রতি কৃত’জ্ঞতা জানিয়ে সুলেখা বলেন, কেয়ামনি শিক্ষিত পরিবারের যোগ্য মেয়ে। বিয়ের মাত্র আট দিনেই আমার ছেলেটাকে আপন করে নিয়েছে। সেবা করছে। এখন সৌরভকে নিয়ে আর চিন্তা নেই। আমরা দেশ ও দেশের বাইরে সৌরভের চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।

তবে, আমি মনে করি, আমার বউমার সেবা আর ভালোবাসা পেলে স্বাভাবিক হয়ে যাবে সৌরভ। চিকিৎসা বিজ্ঞান এই মেয়েটির কাছে হার মানবে। কেয়ামনির বাবা শ্রী গণেষ চন্দ্র মোহন্ত বলেন, কেয়ামনি নিজে থেকেই যখন বিয়ে করতে চেয়েছে তখন আমরা ওকে বা’ধা দেইনি।

এখন ওরা সুখী হলেই আমরা সুখী। আমার মেয়েটা ছোট থেকেই অনেক নরম। মানুষের প্রতি ওর অনেক মায়া। বর্তমান সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিব’ন্ধীদের অবহেলা করার প্রবণতা রয়েছে। কেয়ামনির মতো তরুণী জেনে বুঝে সৌরভকে ভালোবেসে তাকে বিয়ে করার বিষয়টি ছুঁয়ে গেছে গোটা দেশ। সুখী হোক কেয়ামনি-সৌরভ, সুন্দর হোক তাদের সংসার জীবন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.