Breaking News

সুনামিতে আল্লাহর যে কু’দরত দেখে ই’সলাম গ্র’হণ ক’রলেন তিনি

ভয়াবহ সুনামির পর ২০০৫ সালে ইস’লাম গ্রহণ করেন ইন্দোনেশিয়ার আচেহ শহরের বা’সিন্দা মুহাম্মদ চেং। সুনামিতে মহান ‘রা’ব্বুল আ’লামিন আল্লাহ তায়ালার যে কুদরত দেখে ইসলাম গ্রহণ করলেন তিনি; চলুন সে সম্পর্কে তার মুখ থেকেই শুনি- আমি চীনা বংশোদ্ভূত। আমার পরি’বার তিন প্র’জন্ম ধরে

ইন্দো’নেশিয়ার আ’চেহতে বাস করে। আমার পূর্বপুরুষরা ব্যবসার জন্য আসেন এবং অনুকূল পরিবেশ পেয়ে তারা এখানেই স্থায়ী হন। তারা চীনা সংস্কৃ’তি ও ধর্মাচার পালন করতেন। আমিও তাদের অনু:সারী ছিলাম। আমার দোকানটা মস’জিদের খুব কাছাকাছি। প্রতিদিন আমি আজানের ধ্বনি শুন’তাম,

তবে তা আমাকে মুসলিম হতে উ’দ্বুদ্ধ করেনি। অবশেষে ভয়াবহ সেই সকাল এলো। ২৬ ডি’সেম্বর ২০০৪ সকালে প্রতিদিনের মতো আমি ‘গ্র্যা’ন্ড মস্ক অব বান্দা আচেহ’ এর পাশে অবস্থিত আমার দোকানটি খুলি। আবহাওয়া ছিল চমৎকার, কোনো কিছুই অস্বা’ভাবিক মনে হয়নি। হঠাৎ বিকট শব্দ ও ছো’টাছুটি শুরু হলো। মানুষ দৌড়াতে শুরু করল এবং চিৎ’কার করতে

লাগল- পানি, সমু’দ্রের পানি এখানে চলে এসেছে। মানুষ ছিল দিশাহারা। তারা মসজিদের দিকে ছুটছিল, চিৎকার ও কান্না করছিল। আমি ধূপের ধোঁয়া নিতে গেলাম, আমি আ’মার উপা’স্যের সাহায্য কামনা করতে চাইলাম। তত’ক্ষণে পানি চলে এসেছে। ধেয়ে আসছে সড়কের নিচে, মসজিদের দিকে।

আমি ভয় পেয়ে গেলাম এবং উ:পরতলায় উঠে গেলাম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আ:মি সুনামি দেখছিলাম। পানি শুধু বাড়ছিল। এ’রপর আমি বি’স্ময়কর একটি দৃশ্য দেখলাম। আমি সাদা পো’শাক প’রিহিত দী:র্ঘকায় ব্যক্তিদের দেখলাম। তারা ট্রা:ফিক পুলি’শের মতো মানু:ষকে চলাচলে নির্দেশনা দিচ্ছিল। তারা ম’সজিদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে ছিল এবং পানি’ তাদের নির্দেশনা মান্য করছিল।

মসজিদের কয়েক মিটার সা:মনে এসে পানি ভাগ হয়ে মসজিদের ডানে ও বাঁয়ে প্র’বাহিত হয়ে যাচ্ছিল। এরপর আরো পানি এলো। সমুদ্র সমস্ত শক্তি দিয়ে তা শহর ও মসজিদের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। সাদা পোশাক পরা লোকগুলো তখনো সরে গেল না। ঢে:উয়ের পর ঢেউ এলো, কিন্তু মস’জিদের ভেতর পানি ঢুকল না।

ভেতরের মানু’ষগুলো বেঁচে গেল। পুরো দৃশ্য আমি আমার বা’রান্দায় দাঁ:ড়িয়ে দে’খছিলাম। এরপর আরো সাদা পোশাক পরিহিত লোক এলো এবং পুরো মসজিদ ওপরে তুলে ধরল। ম’সজিদটি ওপরে ঝু:লছিল এবং নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। আমি হত:বাক হয়ে গেলাম। এটা কী ছিল? যদি কেউ বলে আমি যা দেখেছি তা সে বিশ্বাস করে না। কখনোই না করুক!

তবু আমি তা চোখে দেখেছি এবং আমি তখন সজ্ঞানে ছিলাম। আল্লাহ মসজি’দ রক্ষা করেছেন। ভয়াবহ দুর্যোগ ও সুনামির কয়েক সপ্তাহ পর আমি যা দেখেছি তা বলতে প্রতিবেশী এক মু’সলিম দো:কানদারের কাছে গেলাম। তিনি আমাকে ই’মামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরামর্শ দিলেন। দ্বিধা-সং:কোচ নিয়েই আমি মসজিদের দিকে পা বাড়ালাম। ইমাম আমাকে

স্বাগত জানাতে মস’জিদের বাইরে চলে এলেন। আমি তাকে পুরো ঘটনা খুলে ব’ললাম। তিনি শুনলেন এবং চোখের পানি ফেললেন। শেষে আমরা পরস্পরকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। ইমা’ম বললেন, আপনি যাদের দেখেছেন তারা আল্লাহর ফে’রেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে এসেছিল। আল্লাহ চাননি

ধ্বংসাত্মক সুনামির ভেতরও এ মসজিদ ধ্বংস হোক। আল্লাহ হয়তো আ’পনাকে আরো: কাছে টেনে নিতে চান। তিনি আ’পনাকে দু:নিয়া ও আখিরাতে সুখী করতে চান। আপনি কি মু’সলিম হবেন? তার প্র:শ্নে আমি দ্বিধায় পড়ে গেলাম। একজন চীনা ব্য’ক্তি কি’ভাবে মুসলিম হবে? আমাদের জীবনযাপন, সংস্কৃতি,

ঐতিহ্য ও বি’শ্বাস সব কিছু ভিন্ন। ইমামকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে এলাম। দো:কানে এসে আমি দরজা বন্ধ করলাম। কিন্তু বারবার সুনা:মি দি:নের দৃ:শ্যগুলো মনে পড়ছিল। দুই দিন পর্যন্ত দোকান খু:ললাম না। বসে বসে শুধু ভা’বলাম। তৃ’তীয় দিন ‘দ’রজায় টো:কা পড়ল। মসজি:দের ইমাম আমাকে খুঁ:জতে এসেছেন। তিন দিন দোকানের দরজা বন্ধ দেখে তিনি

চিন্তিত হয়েছেন। কেননা আগে কখনো এমন হয়নি। তাকে বললাম, আ’পনিই ঠিক ব’লেছেন। আল্লাহ আমাকে নিদর্শন দে’খিয়েছেন। এখন বো’কার মতো তা উপেক্ষা করা উচিত হবে না। অ’নুগ্রহ করে

বলুন, আমি কীভাবে মুস’লিম হব। ইমাম বললেন, এটা খুবই সহজ। শুধু দুটি বাক্য উচ্চা’রণ করলেই হবে। তিনি আমাকে একটা কাগজ দিয়ে তা পাঠ করতে বললেন। আমি তা (কলেমা) উচ্চারণ করলাম এবং একটি দীপ্তি যেন আমার দোকানে ছড়িয়ে পড়ল।

শেয়ার করুন

Check Also

করো’না র টিকা নিতে গিয়ে জানতে পারলেন তিনি মা’রা গেছেন

করো’নাভাই’রাসের টিকার (ভ্যাকসিন) নিব’ন্ধন ক’রতে গিয়ে দে’খতে পান ২০১৪ সালের ৩ জুনে মা’রা গেছেন তিনি। …