সাহেদের চাল তখন কেউ বুঝতে পারিনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

করোনা পরীক্ষায় প্রতারণার ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, করোনার চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে অনেক হাসপাতালই যখন ভয়ের মধ্যে ছিল তখনই সাহেদ এগিয়ে আসে। এটি যে তার একটি চাল ছিল তখন তো কেউ বুঝতে পারেনি। আমিও তার হাসপাতালে চার-পাঁচজন পাঠিয়েছিলাম।বুধবার (১৫ জুলাই) মন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসভবনে আয়োজিত এক প্রেস বিফ্রিংয়ে একথা বলেন তিনি। সাহেদ করিম গ্রেফতার হওয়া উপলক্ষে এই ব্রিফ্রিংয়ের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, এভাবেই তিনি (সাহেদ) প্রতারণার ফাঁক-ফোকর তৈরি করে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় চলে যান। অনেকের সঙ্গেই তার ফটো রয়েছে। এ ধরনের কাজগুলো তিনি সবসময়ই করে এসেছেন- এ জন্যই তিনি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে সবসময়ই ফাঁক-ফোকর খোঁজে- কীভাবে বেরিয়ে যাবে বা প্রতারণাটা করবে। সে অনেক জায়গাতেই প্রতারণা করেছে, কিন্তু পার পায়নি। আমরা তাকে ধরে ফেলেছি। এবার আমরা সবকিছু উদঘাটন করে বিচারকের কাছে উত্থাপন করবো। সে যাতে আর সুযোগ না পায় সেটা আমরা দেখবো।

তিনি বলেন, অপরাধী দলের হোক, আর যেই হোক, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। আমাদের দলের হোক, জনপ্রতিনিধি হোক কিংবা সরকারি কর্মকর্তাই হোক, কেউ কিন্তু বাদ যাচ্ছে না।

আবারও নতুন কোনো সাহেদ তৈরি হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতারকরা কিন্তু সবসময়ই কোনো না কোনো একটা কায়দা বের করে নেয়। সে জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময়ই সজাগ থাকে। আমরা কিন্তু কাউকে ছাড় দিচ্ছি না, সেটাই আমরা বলছি। যেদিন প্রতারকদের প্রতারণা প্রকাশ হচ্ছে সেদিনই আমরা তাদের ধরছি। আমার মনে হয় এই বার্তাটি সবার কাছেই যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়।

একদিন পর গত ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে সাহেদ পলাতক ছিলেন।

সাহেদের খোঁজে সোমবার মৌলভীবাজারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর সাড়ে পাঁচটায় সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: