সন্তান নিয়ে ক্লাসে স্কুলছাত্রী, কোলে নিয়ে ক্লাস নিলেন শিক্ষক!

সন্তান নিয়ে ক্লাসে স্কুলছাত্রী, কোলে নিয়ে ক্লাস নিলেন শিক্ষক!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর আ’ঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে রবিবার থেকে দশম শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হয়েছে। ভিন্ন এক কারণে এখন সেটি আ’লোচনার খো’রাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রেণি কক্ষে সন্তান নিয়ে হাজির হয়েছেন এক ছাত্রী। আর ওই শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাস নিয়েছেন শিক্ষক।

এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছ’ড়িয়ে পড়লে সবার নজরে পড়ে। অধিকাংশ নেটি’জেনরা এ ঘটনায় শিক্ষকের প্র’শংসা করেছেন। তবে ওই স্কুলছাত্রীর বা’ল্য বিয়ে হওয়ার বিষয়ে সংশ্লি’ষ্টদের ক’ড়া সমা’লোচনা করেছেন অনেকে। মোবাইল ফোনে কথা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক প’ঙ্কজ কান্তি প্রতিবেদকে বলেছেন, ‘মেয়েটি পড়াশুনা থেকে যেন উৎ’সাহ হারিয়ে না ফেলে সে কারণে আমি তার সন্তানকে কো’লে নিয়ে পড়িয়েছি। আমি চাই মেয়েটি পড়াশুনা চালি’য়ে যাক। শিশুটিকে আদর করতে গিয়েই আমি কোলে নিয়ে ক্লাস চা’লিয়ে গেছি।’

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন স্থানীয় এক যুকক। রবিবার দুপুরে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘দশম শ্রেণিতে প’ড়ুয়া ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে শ্রেণি কার্য’ক্রম চালাচ্ছেন চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক প’ঙ্কজ মধু স্যার। সন্তান কোলে নিয়ে পাঠে মনযোগী হতে না পারা শিক্ষার্থীর সুবিধার্থে তিনি এ কাজ করেছেন। স্যারের প্রতি শ্র’দ্ধা, ভ’ক্তি, ভালোবাসা।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘কিন্তু, আমাদের গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে এখনো পুরোপুরিভাবে বাল্য বিয়ে রো’ধ সম্ভব হচ্ছে না। এর পুরোপুরি দায় নিতে হবে ইউনিয়ন পরিষদ অর্থাৎ মেম্বার চেয়ারম্যানের, পরিষদে কর্মরত উদ্যো’ক্তা, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। নিকাহ রেজি’স্ট্রারও এর দা’য় এড়াতে পারে না। দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী নিশ্চয় ১৮ বছর কিংবা ততোর্ধ্ব না।’

এ লেখাটি অনেকে কপি করে বিভিন্ন গ্রুপ ও নিজেদের আই’ডিতে দিয়েছেন। সেখানে অনেকেই শিক্ষকের প্র’শংসা করেন। পাশাপাশি বাল্য বিয়ে নিয়ে স’মালো’চনা করেছেন। রৌণক রুবেল নামে একজন লিখেছেন, ‘স্যারের প্রতি আরো রে’স্পেক্ট বেড়ে গেলো। তার প্রতি শ্রদ্ধা ও সালাম।

তবে এর চেয়েও অ’সংগতি এবং দুখের বিষয় হলো দশম শ্রেণির ছাত্রীর বাচ্চাসহ ক্লাস করা। … শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ আমরা প্রত্যেকেই এগিয়ে আসলেই এই বা’ল্যবি’বাহ নামক মা’রাত্ম’ক ব্যা’ধি এবং অন্যায় প্রতিরো’ধ সম্ভব।’ মুক্তি খান নামে একজন লিখেছেন, ‘এর দা’য়ভার নিতে হবে ইউনিয়ন পরিষদকে। এদের সঠিক তদ’ন্ত করা উচিত।’

শেয়ার করুন