শিক্ষকদের শাস্তিতে মাদ্রাসার ২০ শিশু অসুস্থ, আটক ৪

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নুরানীয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এক শিক্ষার্থীর চানাচুর অন্য শিক্ষার্থীরা চুরি করে খাওয়ার অপরাধে ওই মাদ্রাসার সভাপতি ও শিক্ষকরা মিলে ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থীকে (হেড-ডাইন) মাথা নিচে পা উপরে করে শাস্তি দেয়।

এরপর ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী বমি ও নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এ সময় অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে। স্থানীয়রা মারমুখী হয়ে ওই মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় অভিযুক্ত মাদ্রাসার সভাপতিসহ ৪ শিক্ষককে আটক করে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল আশ্রাফুল উলুম হাফেজিয়া নুরানীয়া ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায়।

রাতে বুড়িচং থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুমিল্লার মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর বাবা মো. ফিরোজ মিয়া (৩৮) বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, শংকুচাইল আশ্রাফুল উলুম হাফেজিয়া নুরানীয়া ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার এক শিক্ষার্থী ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া গ্রামের মো. আল-আমিন (১০) কয়েকদিন ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে তার মায়ের সঙ্গে সোমবার বিকেলে মাদ্রাসায় আসে।

এসময় আল-আমিনের মা একটি চানাচুরের প্যাকেট তার ছেলেকে কিনে দেন। আল-আমিন তার মাকে রাস্তায় এগিয়ে দিয়ে এসে দেখতে পায় মায়ের দেয়া চানাচুরের প্যাকেটটি কে যেন নিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে তার মাকে ফোন করে জানালে তিনি রাস্তা থেকে ফিরে আসেন এবং মাদ্রাসার সভাপতি ও শিক্ষকদের বিষয়টি জানান।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাদ্রাসার সভাপতি ও শিক্ষকরা চানাচুর চুরির অপরাধে ৫০-৬০ জন শিশুকে (হেড-ডাউন) মাথা নিচে পা উপরে করে আধা ঘণ্টার মতো শাস্তি দেয়। তারপর তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেযারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করে এবং বুড়িচং থানা পুলিশকে খবর দেন।

এ মামলার আসামিরা হলেন- মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বাদশা মিয়া (৭০), শিক্ষক মো. মোতালেব (৩৫), শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান (৩৫) ও হাফেজ মো. সফিকুল ইসলাম।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন- ইসমাইল হোসেন বাধন (১০), এনায়েত (১০), হিফজুল করিম (৮), মো. আশ্রাফুল (১০), সাকিব (১২), মো. আশিকুর রহমান (১১), রুহুল আমিন (৯), জুনায়েদ (১০), সাইফুল ইসলাম (৯), মো. সিফাত (৯) ও মো. ছাব্বির (১০)।

বুড়িচং থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদেরকে উদ্ধার করে আমাদের গাড়ি দিয়ে বুড়িচং এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। রাতে অভিযুক্ত ৪ জনকে আটক করে থানায় আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার সকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়। সূত্র : সময় নিউজ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: