লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড : শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে বাঁচালেন উদ্ধারকর্মী

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনেক মানুষ হতাহত হয়েছে। লঞ্চের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার সামনে এলো ৬ মাসের শিশুকে বাঁচানোর ঘটনা। শিরিন আক্তার নামে এক উদ্ধারকর্মী লঞ্চ অগ্নিকাণ্ডে ৬ মাসের শিশুকে উদ্ধার করে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে বাঁচালেন। কোনো বিনিময়ে নয়, সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসার দৃষ্টান্তমূলক এ কাজের জন্য বিভিন্ন মহলের প্রশংসায় ভাসছেন এ নারী।

দেশের বেসরকারি একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনাস্থল দিয়াকূল এলাকার বাসিন্দা শিরিন বেগম নদীর চড়ে পানির মধ্যে শিশুটিকে কাঁদতে দেখে কোলে তুলে নেন। বাড়িতে নিয়ে সন্তানদের পোশাক পরিয়ে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে মাতৃস্নেহ ও সেবা দিয়ে শিশুটিকে সুস্থ করে তোলেন। পরে সকালে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হাসপাতালে পৌঁছে দেন।

শিরিন বলেন, অনেক মায়া-মহাব্বত দিয়ে আমার নিজের সন্তানের মতো শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াইয়া আমি সুস্থ করছি। শুধু তাই নয়, দিয়াকূল গ্রামের এই নারী বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের নদীর তীর থেকে বাড়ি নিয়ে সেবা দিয়ে হাসপাতালে পাঠাতেও সহযোগিতা করেছেন। ওই নারী বলেন, আমরা নদী থেকে যাদের পারছি উদ্ধার করে আনছি।

শিরীনের এমন কাজে কৃতজ্ঞতা জানান শিশু ইয়ামিনের পরিবার। শিশুটির বাবা বলেন, ওখানের স্থানীয় লোক ওরে পেয়ে বাড়িতে নিছে। কাপর পরাইছে, বুকের দুধ খাওইছে, তারপর পুলিশের মাধ্যমে আমার ছোট বাবু পাওয়া গেছে। কেবল শিরিন একাই নন, ওই রাতে দিয়াকূল, চরবাটারকান্দা গ্রামের প্রতিটি বাড়ি এবং ঝালকাঠি শহরের অসংখ্য মানুষ উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।