রেটিং ৬.৪ তবুও বন্ধ হচ্ছে কলকাতার সিরিয়াল ফিরকি!

এখনও একবছরও হয়নি কিন্তু তার আগেই দর্শক দেখছে না এই অজুহাত দিয়ে ফিরকি ধারাবাহিকটি বন্ধ করে দিতে চলেছে জি‌ বাংলা কর্তৃপক্ষ! যা নিয়ে অ’ত্যন্ত অসন্তোষের মহল তৈরি হয়েছে ধারাবাহিকের তৃতী’য় লি’ঙ্গের সদস্যদের মধ্যে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, চ্যানেলের তরফে ১৮ ডিসেম্বর কলাকুশলীদের জানিয়ে দেওয়া হয় ধারাবাহিকের শেষ শুটিং ২৪ ডিসেম্বর। আর শেষ সম্প্রচার ২ জানুয়ারি।কারণ হিসাবে বলা হয়েছে যে জি বাংলার তরফের একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল। সেখান থেকে নাকি জানা গিয়েছে যে তৃতীয় লি’ঙ্গের মানুষদের টিভির পর্দায় দেখতে পেলেই নাকি চ্যানেল ঘুরিয়ে দিচ্ছে দর্শকরা!তাই এই ধারাবাহিক আর সম্প্রচার করতে রাজি নয় চ্যানেল কর্তৃপক্ষ।

স্বাভাবিকভাবেই চ্যানেলের এই সিদ্ধান্তে মা’থায় হাত সুজি ভৌমিক ও কুসুম সামন্তদের যারা এই ধারাবাহিকে পার্বতী মাসি, রানীর চরিত্র অ’ভিনয় করছিলেন।

তৃতীয় লি’ঙ্গের মানুষরাও যে সমাজে গ্রহণযোগ্য এবং তাদেরও যে সম্মান রয়েছে এই দিকটি দেখাতেই প্রযোজনা সংস্থা অ্যাক্রপলিস এন্টারটেইনমেন্ট ফিরকি ধারাবাহিকটি প্রযোজনা করতে শুরু করেছিল। ধারাবাহিকের সাংবাদিক সম্মেলনে ট্যাগ লাইন ছিল সমান সম্মান। কিন্তু সম্মান তো দূরের কথা সামান্য সম্মানটুকু তাদের দিল না জি বাংলা কর্তৃপক্ষ এবং টিআরপি চার্টের রেটিং ৬.৪ থাকা সত্ত্বেও তারা এই ধারাবাহিকের সম্প্রচার বন্ধ করে দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের মুখ খুলেছেন গল্পের পার্বতী মাসি এবং রানী। পার্বতী অর্থাৎ কুসুম সামন্ত বলছেন যে, যদি দর্শকরা তৃতীয় লি’ঙ্গের চরিত্রদের পর্দায় দেখেই চ্যানেল ঘুরিয়ে দেন তাহলে রেটিং কী’ করে চলতি সপ্তাহে ৬.৪ আসে?আমাদের জন্য হয়তো অনেক আইন এবং সুবিধা এসেছে কিন্তু এই ধারাবাহিকটি বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে বুঝিয়ে দেওয়া যে আমাদের কোন সম্মান এখনো সমাজে তৈরি হয়নি।

আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয় কিন্তু খুব আশা নিয়ে কাজটা শুরু করেছিলাম, রোজগারও হচ্ছিল। তবে টাকা’টাই তো শেষ কথা নয়, সম্মানটাও সেই সঙ্গে জরুরি। আজ রাস্তায় বেরোলে লোকে চিনতে পারে পার্বতী মাসি বলে।কিন্তু এবার কাজ থমকে গেল তাই হয়তো আবার হাসির খোরাক হয়ে যাব।

গল্পের রানী মাসি অর্থাৎ সুজি ভৌমিক গোটা ঘটনায় অ’ত্যন্ত অসন্তুষ্ট। তার বক্তব্য, “হঠাৎ করে এভাবে আমাদের কারণে সিরিয়াল লোকে দেখছে না এমন অ’পবাদ দিয়ে ‘ফিরকি’ বন্ধ করে দেওয়া যে আমাদের জন্য কত বড় অ’পমান তা চ্যানেল বুঝল না। শুধু অ’ভিনয়টুকু শিখেছি৷ অ’ভিনয় করে নিজেদের কমিউনিটিকে রিপ্রেজেন্ট করছিলাম আম’রা। এখন তো আমাদের কমিউনিটির কাছেও আম’রা খাটো হয়ে গেলাম।”

তবে জি বাংলা চ্যানেলের কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে যে শুরু থেকেই খা’রাপ ব্যবহার করেন সে কথা এক বাক্যে বলছেন সুজি। সোনার সংসারে তাদেরকে ডা’কা হলেও সেখানে তাদের জন্য কোন আসন বরাদ্দ হয় না। লক্ষ্মীকে সেখানে পরিচয় দেওয়া হয় না। জি বাংলার জন্ম’দিনের কেক লক্ষ্মীর বাড়িতে অর্থাৎ যেখানে শুটিং হয় সেখানে পৌঁছায় না। কিন্তু সেই কেক ফিরকির শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছে যায়। দিদি নাম্বার ওয়ানে তাদেরকে ডা’কা হয়নি।

তাই চ্যানেলের থেকে এত অ’পমান সহ্য করেও তারা একটা জিনিসই চাইছেন যে জি বাংলা যে সার্ভে রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই ধারাবাহিক বন্ধ করে দিতে চলেছে সেই সার্ভে রিপোর্টটা তাদের জন্য একবার দেখানো হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: