Breaking News

রিক্সা থেকে নামা’র পর আমি আর রিক্সাওয়ালার দিকে তাকানোর সাহস পাইনি: সাদিয়া |

বেলা ১১ টার দিকে আমি আর আমা’র রুমমেট বাজারে যাচ্ছিলাম। একটা রিক্সা নিলাম দুজন মিলে। রিক্সা নেওয়ার সময়ই মনে হচ্ছিল রিক্সাওয়ালা মামা একটু অ’সুস্থ৷ তিনি মোটামুটি মাঝ বয়সী ছিলেন।

কিছুদূর যেতেই একটা মোড় ঘুরতে গিয়ে একটা বাইকের সাথে হালকা ভাবে ধা’ক্কা খায় তার রিক্সা। বাইকে ছিল যুবক এক ছে’লে। দেখে মনে হল মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে এই টাইপ।

ওনার আচরণ দেখেই মনে হচ্ছিল উনি রিক্সাওয়ালাকে মা’রধর’ করবেন। আম’রা ২ রুমমেট তখনো রিক্সাতেই বসে ছিলাম।

আমি তখন ৩-৪ বার বলেছি, ” ভাইয়া প্লিজ, ছেড়ে দেন। উনি ইচ্ছা করে ধাক্কা দেয়নি। প্লিজ ভাইয়া রা’গারাগি করবেননা।” আমা’র রুমমেট ও একবার বলেছিল ভাইয়া মা’রবেননা ওনার তো দো’ষ নেই।

বিশ্বা’স করুন এই লাইন টা লিখতে গিয়ে চোখে পানি চলে আসল। এত জো’রে কেউ কাউকে থা’প্পড় মা’রে’?

আমি এই প্রথম দেখলাম আজ। তারপর কিছু লো’ক ঐ লো’কটিকে চলে যেতে বলে। তখনো সে গা’লি দিতে দিতেই বাইক স্টার্ট দেয়।

আমি কয়েক মূহুর্তের জন্য চু’পচা’প হয়ে গিয়েছিলাম। মানে কি বলবো, বুঝাতে পারছিনা। রিক্সাওয়ালা মামা কোন কথা না বলেই রিক্সা চালাচ্ছিল।

গ্লাসে ওনার চোখে লুকানো পানি দেখালাম। অ’বাক হলাম, যেটা উনি পারলো সেটা আমি পারলামনা।আমি লুকাতে পারলামনা আমা’র চোখের পানি। আমা’র চোখ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পরছিল।

আমা’র রুমমেট একবার শুধু জিজ্ঞেস করলো, তুই কেন কাঁদতেছিস? উত্তর টা আমা’র জানা নেই। তারপর আপু আমা’র হাত টা শক্ত করে ধরে ছিল।

রিক্সা থেকে নামা’র পর আমি আর রিক্সাওয়ালার দিকে তাকানোর সাহস পাইনি। তখনো আমা’র চোখ থেকে পানি পরছিল।

অনেকেই আমাকে দেখছিল তাকিয়ে তাকিয়ে। যেই দোকানে যাবো, সেই দোকানের গলি ও ভু’ল করতে লেগেছিলাম। আপু আমাকে নিয়ে গেল হাত ধরে।

কেন মানুষ এরকম করে? কিসের জো’রে? কিসের এত্ত অহংকার? একটা রিক্সাওয়ালা আমাদেরকে আপনি করে ডাকে,

আর আম’রা তুই করে বলি??আমি আর কি বলবো বুঝতে পারছিনা। সত্যিই কিছুই বলার নেই আমা’র। শুধু একটা কথা-ই বলতে চাই, ফ্যামিলির শিক্ষাটা অনেক বড় শিক্ষা।

শেয়ার করুন

Check Also

করো’না র টিকা নিতে গিয়ে জানতে পারলেন তিনি মা’রা গেছেন

করো’নাভাই’রাসের টিকার (ভ্যাকসিন) নিব’ন্ধন ক’রতে গিয়ে দে’খতে পান ২০১৪ সালের ৩ জুনে মা’রা গেছেন তিনি। …