রাষ্ট্রপতির যে সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে নুরুল হুদার ভাগ্য

দেশের বিশিষ্ট ৪২ জন নাগরিকের অ’ভিযোগের বি’ষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল সোমবার পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেয়নি। বি’ষয়টি নিয়ে কমিশনের কোনো বৈঠকও হয়নি। কয়েকজন কমিশনার বি’ষয়টি নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা গত রবিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটি রাষ্ট্রপতি দেখছেন, এ বি’ষয়ে আমার কিছু বলা ঠিক হবে না।’ অন্যদিকে অ’ভিযোগকারী দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরাও তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপের বি’ষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। তাঁদেরও প্রত্যাশা রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

(২) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বি’রুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অ’ভিযোগ এনে ‘সুপ্রিম জু’ডিশিয়াল কাউন্সিলের’ মাধ্যমে ত’দন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের ৪২ জন নাগরিক। এ বি’ষয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে আবেদন করেছেন তাঁরা।

পরে গত ১৯ ডিসেম্বর এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করে বি’ষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় অ’ভিযোগের বি’ষয়টি স’রকারপ্রধানকে জানানো হবে। একই সঙ্গে বি’ষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে অথবা নৈতিক কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আহ্বান জানান তাঁরা। তবে এ আহ্বানে নির্বাচন কমিশনারদের সাড়া মেলেনি।

(৩) এদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ৪২ বিশিষ্ট নাগরিকের ওই অ’ভিযোগ ও আবেদনকে বিএনপির অ’পচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। তিনি গতকাল বলেন, ‘নানা অনিয়ম ও অসদাচরণের অ’ভিযোগ এনে মূলত বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের এই চেষ্টা হালে পানি পাবে না।’

নির্বাচন কমিশন স’চিবালয়ের একজন কর্মকর্তা সার্বিক এই বি’ষয় সম্পর্কে বলেন, সাড়ে তিন বছরে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বি’রুদ্ধে অনেকের অনেক অ’ভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। নির্বাচনসংক্রান্ত অনেক অ’ভিযোগ আমলযোগ্য মনে হয়নি এ কমিশনের কাছে। নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্যের অ’ভিযোগও অগ্রাহ্য হয়েছে। এ অবস্থায় বিশিষ্ট নাগরিকদের এসব অ’ভিযোগ কমিশনের কাছে আমলযোগ্য নাও হতে পারে।

(৪) গতকাল নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইসির বি’রুদ্ধে ৪২ জন নাগরিকের রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের বি’ষয়ে আমার কিছু বলার নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে কথা বলেছেন, আমারও সেই একই কথা। যেহেতু রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁরা আবেদন করেছেন, সেহেতু আমাদের আর কিছু বলার থাকতে পারে না।’

এই নির্বাচন কমিশনার আরো জানান, বি’ষয়টি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তাঁর কোনো আলোচনা হয়নি এবং কমিশন সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে—এমন কোনো আলোচনার কথাও তিনি জানেন না। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ওই সব অ’ভিযোগ-আবেদনের বি’ষয়ে আমি যা বলেছি তা আমার ব্যক্তিগত মতামত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ বি’ষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন কি না আমার জানা নেই।’

(৫) গত রবিবার এ নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে যে বি’ষয়টি পীড়াদায়ক সেটি হচ্ছে, একদিকে রাষ্ট্রপতির কাছে অ’ভিযোগ করলেন, আবার অন্যদিকে আমাদেরও অ’ভিযুক্ত করে ফেললেন। শুধু সেটা নয়, আমাদের কী করণীয় বা দ’ণ্ড একঅর্থে সেটা দিয়ে দিলেন।

এটা কতটা বিবেচনাপ্রসূত ও শিষ্টাচারবর্জিত কি না, সেটা আপনাদের ও’পরই বিবেচনার ভার দিলাম। এসব অ’ভিযোগ হয়তো বা কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব অ’ভিযোগের কোনোটির ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না। এমন একটি বি’ষয় উপস্থাপন করা সুধীজনদের জন্য বিবেচনাপ্রসূত নয়।’

(৬) এ ছাড়া ইসির বি’রুদ্ধে যে নির্বাচন কমিশনারের অ’ভিযোগ বিশিষ্ট নাগরিকদের অ’ভিযোগের তালিকায় স্থান পেয়েছে, সেই মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘গত কয়েক দিন বি’ষয়টি নিয়ে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আমি নিজেও এ বি’ষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনকারী নাগরিকদের মধ্যে ড. শাহদীন মালিক গতকাল কালের কণ্ঠ’র এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘স’রকারপ্রধানকে আমরা এখনো বি’ষয়টি জানানোর উদ্যোগ নিইনি। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা আশা করছি, রাষ্ট্রপতি বি’ষয়টি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: