রাজশাহীতে বিয়ের ১৫ দিনেই ৬ মাসের গর্ভবতী কিশোরী!

রাজশাহীতে বিয়ের ১৫ দিনেই ৬ মাসের গর্ভবতী কিশোরী!

কিশোরীর বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় জানা গেল- সে ৬ মাসের গর্ভবতী! অবাক করা এমন খবর রাজশাহীর বাঘা উপজেলার। পরে ওই কিশোরী তার পরিবারকে জানায়, ৬ মাস আগে তাকে ধর্ষণ করে সোহেল নামে স্থানীয় এক যুবক। শনিবার (৩১ জুলাই) সোহেলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই কিশোরীর পিতা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর বাবা একজন ভ্যানচালক। তারা দরিদ্র হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে মাঠে গবাদিপশু চারাতে যেতে হতো। প্রায় ৬ মাস আগে উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার একটি মাঠে গবাদিপশু চরাতে যায় ওই কিশোরী। সে সময় ওই এলাকার মকবুলের ছেলে মো. সোহেল ওই কিশোরীকে একটি ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় সে কিশোরী কাঁদতে শুরু করলে সোহেল তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলে। ফলে তখন কাউকে কিছু বলে নি ওই কিশোরী।

কিশোরীর মা জানান, গত ১৪ জুলাই তার মেয়েকে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। তবে বিয়ের কয়েকদিন পরই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসকের কাছে এবং বাঘায় একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায়, তার মেয়ে ৬ মাস ৯ দিনের অন্তঃসত্ত্বা।

মেয়েটির বাবা বলেন, আমরা গরিব মানুষ বলে কারো কাছে কোনো সাপোর্ট পাইনি। ধর্ষকের পরিবার সবসময় আমাদেরকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। স্থানীয় মেম্বারের কাছে বারবার গিয়েও কোনো আশ্বাস পাইনি ন্যায়বিচার প্রাপ্তির বিষয়ে। বাধ্য হয়ে শনিবার থানায় মামলা করেছি।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মো. মতিন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে জটিল হওয়ায় ভুক্তভোগীদের থানায় যেতে বলেছি। মনিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি। তবে তার পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছে।

জানতে চাইলে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে। আর ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন