মেহমান আসলে যদি ঘরের মানুষ রক্তাক্ত হয়, ঐ মেহমানকে না আনাই উত্তম

দেশের চলমান অস্থিরতা নিয়ে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার তার ভেরিফাই করা ফেজবুক একাউন্টে একটি পোস্ট দেন। পাঠকদের জন্য তা হুবহুব তুলে ধরা হলো। মেহমান আসলে যদি ঘরের মানুষ রক্তাক্ত হয়, তাহলে ঐ মেহমানকে স্বাগতম না জানানো-ই বুদ্ধিমানের কাজ।

ইমানের দাবিতে ধর্মীয় অনুভুতি থেকে যারা আজ জুমার পর বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে, তারা কি সরকার পতন আন্দোলনের ডাকে জড়ো হয়েছিল? নাকি এয়াপোর্ট ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছিল? না, এর কোনটাই না।

এরা সেরেফ প্রতিবাদ জানাতে আর ঘৃণা প্রকাশ করতে জড়ো হয়েছিল। স্বাধীন দেশের জনগণের কি এতটুকু বাক-স্বাধীনতা থাকতে নেই? প্রতিবাদকারীরা তো এদেশেরই নাগরিক, তারা তো ভীনদেশী হানাদার নয়। নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে এভাবে নির্মম পেশীশক্তি প্রয়োগ— কতোটা যুক্তিযুক্ত?

দল মত নির্বিশেষে এদেশের আপামর জনগণ মনে প্রাণে বাংলাদেশকে ভালোবাসে। মাতৃভূমির প্রতি মায়া, দরদ আর ভালোবাসা— কোনটারই কমতি নেই কারো। কারণ বাংলাদেশ আমাদের সবার, আমরা সবাই বাংলাদেশ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতা নিয়ে অতি বাড়াবাড়ির ফলে, জনমনে মারাত্মক বিতৃষ্ণা ও তিক্ততা তৈরী হচ্ছে।

বারবার ইসলাম আর স্বাধীনতাকে, একটিকে আরেকটির বিপক্ষে দাঁড় করানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। দয়া করে, জাতিকে বিভক্ত করার এই নোংরামো বন্ধ করুন।

এভাবে জাতীয় ঐক্য নষ্ট করার মতো নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ কোন কাজ আর হতে পারেনা। স্বাধীনতার ৫০ এ পা দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ তো আমাদের সবাই মিলে আনন্দ উদযাপনের কথা ছিল। আজ কেন এই রক্তাক্ত দৃশ্য?

শেয়ার করুন