মৃত্যুর পর ভাইরাল শিমুর যে ভিডিও

স্বামীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু। মৃত্যুর পরও থামছে না এই অভিনেত্রীকে ঘিরে আলোচনা। উঠে আসছে একের পর এক তথ্য। অভিনেত্রী হয়েও শিল্পী সমিতির ভোটাধিকার হারিয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে ক্ষোভেরও শেষ ছিল না শিমুর। বিভিন্ন সময় সরব থেকেছেন শিল্পী সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে।

শিমুর হত্যার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তার পুরোনো একটি ভিডিও। যেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমার প্রথম সিনেমা ‘বর্তমান’। যার পরিচালক ছিলেন কাজী হায়াৎ। দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম, শরিফ উদ্দিন খান দিপু, এ জে রানা, শবনম পারভীন, এনায়েত করিমের মতো বড়-বড় নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছি আমি। চলচ্চিত্র সমিতির সদস্য যাচাই-বাছাই সময়ে যখন আমাকে ইন্টারভিউ বোর্ডে ডাকা হয়। তখন সেখানে উপস্থিতি ছিলেন রিয়াজ ও মিশা ভাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘রিয়াজ ভাই আমাকে ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্ন করেন আপনার সর্বশেষ সিনেমা কোনটা। তখন আমি রিয়াজ ভাইকে বলি আমার সর্বশেষ সিনেমা আপনার সঙ্গে। নাম ‘জামাই শ্বশুর’। ২০০৩ সালে মুক্তি পায়। তখন রিয়াজ ভাই বলেন ওহ দশ বছর আগে। এরপর মিশা ভাই জিজ্ঞাসা করেন হাউজ ওয়াইফ নাকি, তখন আমি বলি, না। টেলিভিশনে কাজ করি। বিষয়টি আমার কাছে খুবই লজ্জাজনক লেগেছে। কারণ আমি সেই ১৯৯৮ সালে ফিল্মে এসেছি। এখন যদি আমাকে পরিচয় দিতে হয় আমি শিল্পী। তাহলে আর কিছু বলার নেই।’

১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক হয়। একে একে অভিনয় করেছেন ৫০ টিরও বেশি নাটকে। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও দর্শকরা তাকে পর্দায় পেয়েছে। দেখতে দেখতে রাইমা ইসলাম শিমু চলচ্চিত্র ও নাটকের ক্যারিয়ার দুই দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন। চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর মরদেহ গত ১৭ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ব্রিজের কাছে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। পাশাপাশি এ রকম ঘটনা আর যেন না ঘটে তার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করছেন।