মৃত্যুর ঠিক কিছুক্ষণ আগে ওয়ার্নের কক্ষে প্রবেশ করেন ২ নারী

অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন গত শুক্রবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় অন্যলোকে চলে গেছেন তার এই মৃত্যুর খবরে শোকের চেয়েও অবিশ্বাস্যের রেণুই উড়ছিল বেশি। থাইল্যান্ডে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। সেখানেই একটি ভিলায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অস্ট্রেলিয়ার স্পিন লিজেন্ড শেন ওয়ার্নকে।

স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ধারণা করা হয়, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন তিনি। কিন্তু তারপরও তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা ধারণা করা হয়েছিলো। কিন্তু থাই পুলিশ ময়নাতদন্ত করে জানিয়েছে, স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছিলো তার। তবে সম্প্রতি রিসোর্টের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মিলছে সম্পূর্ণ নতুন একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য।

শেন ওয়ার্ন যে রিসোর্টে মারা গিয়েছেন, শুক্রবার (মার্চ) সেখানে প্রবেশ করেছিলেন ৪ নারী। এদের মধ্যে দু’জন চলে যান ওয়ার্নের কক্ষে। বাকি দু’জন চলে যান তার বন্ধুদের রুমে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে এদের। এ খবর দিয়েছে মেইল অনলাইন।

তার মৃত্যুর ওইদিন অর্থাৎ শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে কো সামুইয়ের সামুজানা রিসোর্টে পৌঁছান ওই চার নারী। এদের মধ্যে দু’জন ওয়ার্নের রুম থেকে বের হন ২টা ৫৮ মিনিটে। এর ঠিক ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট বাদে ওয়ার্নকে নিথর অবস্থায় আবিষ্কার করেন তার বন্ধুরা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুই নারী ওয়ার্নকে জীবিত দেখা শেষ ব্যক্তি। তবে পুলিশ সন্দেহজনক কিছু খুঁজে পায়নি। সোমবার লাশের ময়নাতদন্তেও বলা হয় অজি কিংবদন্তি ক্রিকেটারের মৃত্যু ‘স্বাভাবিক’।

মেইল অনলাইন জানায়, ওয়ার্নের রুমে নারী প্রবেশের কারণ অনুসন্ধান করেছে থাই পুলিশের একটি ইউনিট। পুলিশের ভাষ্য, মূলত বডি ম্যাসাজের জন্য গিয়েছিলেন ওই দুই নারী। এজন্য হোটেল স্টাফের কাছে আবেদন জানান ওয়ার্ন। তবে বডি ম্যাসাজকারীদেরকে পুলিশ কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কিনা তা জানা যায়নি। একজন পুলিশ সোর্স ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘ফুটেজে দেখা গেছে শুক্রবার দুপুরের দিকে চারজন নারী রিসোর্টে আসেন।

তাদের দু’জন ওয়ার্নকে ম্যাসাজ করতে যান, বাকি দু’জন চলে যান তার বন্ধুদের কক্ষে। রিসোর্টের স্টাফদেরকে এ ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ওয়ার্ন। প্রায় ৩টার দিকে দু’জন রুম ত্যাগ করেন। ৫টা ১৫ মিনিটে ওয়ার্নকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কিছুর যোগসূত্র নেই। আর রুমে কোনো অ্যালকোহল কিংবা ড্রাগসও পাওয়া যায়নি।’

পুলিশ প্রধান ইয়ুত্তানা সিরিসোমবাত বলেন, ‘সে (ওয়ার্ন) বডি ম্যাসাজের জন্য মেয়েদের ডেকেছিল। ওটা ছিল কেবল ম্যাসাজ। ওয়ার্নের মৃত্যু ম্যাসাজের কারণে হয়নি। তিনি সুস্থ ছিলেন না।’ মেডিকেল রিপোর্টে দেখা গেছে, অ্যাজমা এবং বুকের সমস্যায় ভুগছিলেন ওয়ার্ন। এজন্য ডাক্তারও দেখান তিনি।

তাছাড়া ১৪ দিনের ডায়েট রুটিন পূর্ণ করেন ওয়ার্ন। শুধু তরল জাতীয় খাবার খাচ্ছিলেন তিনি। এসব কারণে শারীরিকভাবে আরও দুর্বল ছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর ওয়ার্নের রুমে জায়গায় জায়গায় রক্তের দাগ লেগেছিল। যেগুলো মূলত সিপিআর দেয়ার সময় বমির সঙ্গে মুখ দিয়ে বের হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.