মামুনুল হক গ্রে’প্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার

হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে গ্রে’ফতা’রের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলি’শের নিরা’পত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রবিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পু’লিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

এর আগে হেফাজতের তাণ্ডবের পর ৯ এপ্রিল পুলি’শ সুপারের কার্যালয়সহ জেলার সব থানা, ফাঁ’ড়ি, ক্যাম্প ও তদন্ত কেন্দ্রগুলোতে এলএমজি পোস্ট বসানো হয়।

এদিকে রোববার বিকেল তিনটা থেকে জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে পুলি’শ সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পুলি’শের পাশাপাশি র‌্যা’ব সদস্যদেরও মহড়া দিতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্ম’ণবাড়ি;য়ার অতিরিক্ত পুলি’শ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, লক’ডাউ’নের কারণে পুলি’শ মোতায়েন রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরি’স্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য চলমান কার্য’ক্রমে’রই অংশ এই মহড়া। এটি ব্যতিক্রম কিছু না। তবে যে কোন অপ্রী’তিকর ঘটনা কঠোর হ’স্তে দমন করা হবে।

ডাক্তার বড় না পুলি’শ বড়, আমি দেখব’

করোনার বিস্তার রোধে চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ রোববার দুপুরে রাজধানীর এলিফেন্ট রোডে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় পুলিশ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন এক নারী চিকিৎসক। বাকবিতণ্ডার সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই নারী নিজেকে শওকত আলী বীর বিক্রমের মেয়ে সাইদা শওকত বলে পরিচয় দেন। ‘ডাক্তার বড় না পুলিশ বড়’- সেই প্রশ্ন তুলে তা দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন ওই নারী চিকিৎসক। রোববার দুপুরে রাজধানীর এলিফেন্ট রোডে পুলিশ চেকপোস্টে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে উঠেন ওই নারী। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক পরিচয় দেন তিনি। তবে পুলিশ বারবার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলেও তিনি তা দেখাননি।

৫ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকে উদ্দেশ করে ওই নারী বলেন, ‘করোনায় জীবন গেছে কয়জন ডাক্তারের, আর আপনারা কতজন মরছেন। আমার কাছে আবার চান মুভমেন্ট পাস।’

এরপরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। পুলিশের এক সদস্য ওই নারীকে বলেন, ‘আপনি আমাদের ধমক দিচ্ছেন কেনো?’ জবাবে নারী বলেন, ‘আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর মেয়ে।’ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমিও মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। আপনি আমাকে শোনাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার কথা।’

এসময় উত্তেজিত হয়ে ওই নারী পুলিশকে বলেন, ‘ডাক্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আমি বিএসএমএমইউ প্রফেসর, বীর বিক্রমের মেয়ে। আমাকে আপনারা হয়রানি করতে পারেন না।’ পরে পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘আপা আপনাকে তো হয়রানি করা হচ্ছে না। আপনার কাছে পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে।’

এরপরে নিজ গাড়িতে ওঠে যান ওই নারী চিকিৎসক। তখন পুলিশের এক সদস্য ওই নারীকে বলেন, ‘আপনি আমাকে তুই করে বলছেন কেন?’ এক পর্যায়ে আন্দোলনের হুমকি দেন ওই নারী। পুলিশ কর্মকর্তা জবাবে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের ভয় দেখাচ্ছেন?’

‘আর আমি কে, সেটা এখন তোদের দেখাচ্ছি হারামজাদা’- এই কথা বলে এক ‘মন্ত্রীকে’ ফোন করেন তিনি। ফোনে তাকে হয়রানি করার কথা বলেই পুলিশ সদস্যের হাতে তার ফোন তুলে দেন কথা বলার জন্য।

ভাইরাল ভিডিওতে ওই নারীকে তার পরিচয়পত্র দেখাতে দেখা যায়নি।

শেয়ার করুন