মসজিদের মাইকে ডেকে হিন্দু বাড়িতে হা’মলা করে মামুনুল হকের অনুসারীরা

তরা মু’ক্তিযোদ্ধা আগে তরারে বাইচ দিতাম। হালার মালাউনের বাচ্চারা আর তরারে ছাড়তাম না। তরা আম’রার বড় হুজুরের সম্মান ন’ষ্ট খরছস’ বলে মু’ক্তিযোদ্ধা খুঁজে খুঁজে এভাবে হা’মলা করেছে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের অনুসারীরা। এর আগে গ্রামের মসজিদের মাইকে মুসলমানদের হা’মলা য় অংশ নিতে আ’হ্বান জা’নানো হয়।

বুধবার সকালে দিরাই উপজে’লার নাচনি, চণ্ডিপুর, সন্তোষপুর, সরমঙ্গল, শাল্লার কাশিপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম নোয়াগাওয়ে এই তা’ণ্ডব চালায়। তারা গ্রামের বাড়িতে লুটপাটসহ নারীদের নি’র্যাতন করেছে। পুরুষরা হাজারো আ’ক্রমণকারীদের সশস্ত্র অব’স্থায় দেখে আশপাশের গ্রামে পালিয়ে গিয়ে র’ক্ষা পান।

পু’লিশ ও র‌্যাবসহ প্রশা’সনের খবর পেয়ে তারা গ্রামে ফি’রে আসে। বর্বরোচিত এ ঘ’টনায় নির্বাক হয়ে গেছেন গ্রামের মানুষ। তারা ক’ঠোর শা’স্তি দা’বি করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আ’ক্রমণকারী কাউকে আ’টক ক’রতে পারেনি পু’লিশ। তবে গ্রামে পু’লিশ-র‌্যাব টহল দিচ্ছে।

এদিকে ওই গ্রামে আ’ক্রমণ করার পর উপজে’লা সদর গুঙ্গিয়ার গাওয়েও আশপাশের কয়েকটি মুসলিম গ্রামের লোকজন সশস্ত্র হয়ে হা’মলা ক’রতে আ’সলে প্রশা’সন তাদের ফিরিয়ে দেয়।

সরেজমিন বুধবার দুপুরে গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামবাসী আত’ঙ্কিত। কিছুক্ষণ আগে বয়ে যাওয়া তা’ণ্ডবের ট্রমায় ভু’গছেন তারা। মানুষ দেখলেই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাচ্ছেন। দুপুরে গ্রামে ছুটে যান জে’লা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও পু’লিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

তারা গ্রামে গিয়ে ক্ষ’তিগ্রস্ত লোকদের স’ঙ্গে কথা বলেন এবং দোষীদের বি’রুদ্ধে ব্যব’স্থা নেওয়ার আশ্বা’স দেন। একই স’ঙ্গে ক্ষ’তিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতারও আশ্বা’সও দেন জে’লা প্রশাসক।

সরেজমিন গ্রামবাসী স’ঙ্গে কথা বলে জা’না যায়, ১৫ মা’র্চ হেফাজত নেতা মামুনুল হক দিরাইয়ে সমাবেশে বক্তব্য দেন। তিনি সমাবেশে সাম্প্রদায়িক কথা’বা র্তা বলেন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে শাল্লা উপজে’লার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন মামুনুলের বি’রুদ্ধে আপ’ত্তিকর পোস্ট দেন ফেসবুকে।

এরপরই তার অনুসারীরা তাকে হু’মকি-ধমকি দিতে থাকে। গ্রামবাসী আসন্ন বি’পদ আঁচ ক’রতে পেরে নিজে’রাই পু’লিশ ডেকে ঝুমন দাস আপনকে ধ’রিয়ে দেয়। তারপরও সোমবার রাতেই নাচনী, চণ্ডিপুর, সন্তোষপুর, কাশিপুর, সরমঙ্গলসহ কয়েকটি গ্রামের হাজারো মামুনুল অনুসারী বিক্ষোভ করেন।

পু’লিশ ও প্রশা’সন তাদের নিবৃত্ত করলেও সকালে আবার নাচনি মসজিদ থেকে মাইকে ঘো’ষণা দিয়ে ‘হুজুরের সম্মান র’ক্ষায় হিন্দু গ্রামে’ হা’মলা র আ’হ্বান জা’নানো হয়। মসজিদের মাইকে এই আ’হ্বান শুনে বিভিন্ন বয়সের হাজারো পুরুষ লাঠিসোঁটা, দা, রামদা কিরিচসহ নানা দেশীয় অ’স্ত্র নিয়ে ছুটে আসে।

তারা দাড়াইন নদী পেরিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে আসতে থাকে। বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে গ্রামের নারী-পুরুষ ঘরবাড়ি ফে’লে বাইরে পালিয়ে যান। অনেকে ঘর তালাবদ্ধ করে ঘরেই বসে থাকেন।

নাচনি গ্রামের স্বাধীন মেম্বার ও ফক্কনের নেতৃত্বে কয়েক শ মানুষ প্রথমে গ্রামের বীর মু’ক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্র দাস, কাজল চন্দ্র দাস, সুনু রঞ্জন দাস, কাজল চন্দ্র দাস, অনিল কান্তি দাসসহ গ্রামের সাতজন মু’ক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘরে হা’মলা করে। মু’ক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্রের পাকা ঘরের দরজা-জা’নালা ভে’ঙে প্রবেশ করে সব কিছু তছনছ করে।

এ সময় তিনি মু’ক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিলে হা’মলা কারীরা আরো আগ্রাসী হয়ে ওঠে। বীর মু’ক্তিযোদ্ধাদের বি’রুদ্ধে খিস্তি-খেউড় করে। মু’ক্তিযোদ্ধাদের মালাউন আখ্যায়িত করে তাদের বাড়িঘর ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার হু’মকি দেয়। এরপরে একে একে গ্রামের ৮৮টি ঘরে হা’মলা ও লুটপাট করে তারা। চারটি পারিবারিক মন্দির ভাঙচুর করে।

একটি থেকে কষ্টিপাথরের মূর্তিও নিয়ে যায়। প্রতিটি ঘর থেকেই টাকা, পয়সা, সোনা দানাসহ মূল্যবান জিনিষপত্র লুট করে নিয়ে যায়। গ্রামবাসী পাশের ভাণ্ডবিল হাওর হয়ে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে পালিয়ে বাঁচেন।

শেয়ার করুন