ভ্যাকসিন নিয়ে ভারতকে পাপনের কড়া জবাব

আগাম টাকা নিয়েও ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট দুই মাস ধরে টিকা না পাঠানোয় সরকারকেই সরব হওয়ার কথা বলছে টিকা আমদানির দায়িত্বে থাকা একমাত্র প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো। টিকা কবে মিলবে জানা নেই স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নাজমুল হাসান পাপন জানান, সবার দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করাই এখন সংশয়। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন স্পষ্ট জবাব দেন- বসে নেই সরকারও, তৎপর হতে হবে বেক্সিমকোকেও।

গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয় ভারত সরকারের উপহার ২০ লাখ ডোজ টিকা। এর ৪ দিনের মাথায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে আসে সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা ৫০ লাখ ডোজের প্রথম চালান।

ফেব্রুয়ারিতে আরও ২০ লাখ ডোজ আসার পর চুক্তি অনুযায়ী আসেনি আর কোনো চালান। এর বাইরে মিলেছে ভারতের উপহারের আরও ১৩ লাখ ডোজ। সব মিলিয়ে দেশে এক কোটি ৩ লাখ ডোজ টিকার মধ্যে এরই মধ্যে প্রয়োগ হয়েছে প্রায় ৭৮ লাখ। এ অবস্থায় দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

এ যখন অবস্থা, তখনো সরকারের অনুমোদন না পাওয়ার অজুহাতে দুই মাস ধরে টিকার চালান আটকে রেখেছে সেরাম ইনস্টিটিউট। যদিও প্রতিষ্ঠানটিকে আগাম পরিশোধ করা হয়েছে দেড় কোটি ডোজের টাকা। সরকারকেই জোরালো উদ্যোগ নেয়ার কথা বলছে সেরামের দেশীয় এজেন্ট বেক্সিমকো।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নাজমুল হাসান পাপন বলেন, আমার কথা হচ্ছে, আমরা যে টাকা মানে সরকার অগ্রিম টাকা দিয়েছে, এটা আটকানোর কোনো- কোনোভাবেই তারা (ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট) পারে না। কোনোভাবেই সেটা তারা পারে না। টাকা নিয়ে দেবে না, এটা শুধু আমি মনে করি, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

বর্তমান অবস্থায় দেশে টিকা বানানোর বিকল্প নেই জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ইঙ্গিত, চলতি বছরই হয়তো মিলবে পারে দেশে তৈরি ভ্যাকসিন।পাপন আরও বলেন, আমাদের সরকারকে খুব দ্রুত ওদেরকে (ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট) স্পষ্ট ভাষায় বলা উচিত, এটা ভ্যাকসিন; আগে অগ্রিম টাকা দিয়ে কিনেছে, এটা আমাদের দিতেই হবে।

এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, সরকার বসে নেই। তৎপর হতে হবে বেক্সিমকোকেও। সময় সংবাদকে তিনি আরও জানান, আমরা ভারত সরকারকে প্রতিনিয়ত বলছি ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য এবং তারা কখনো না করেনি। কিন্তু তারা দিতে পারছে না। ভারতে হঠাৎ করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাকসিন পেতে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *