ভারতে টিকটক ব্যান হওয়ার পরই বেজিং কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বেজিং থেকে সরে গেল টিক টক।

রিউটার্সের এক সংবাদপত্র অনুযায়ী, ভারত দেশে 59 টি চীনা অ্যাপ্লিকেশন নিষিদ্ধ করার পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপ টিকটক বেইজিং থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে।

টিকটকের প্রধান নির্বাহী কেভিন মায়ার ২৮ শে জুন তারিখে ভারত সরকারের দেওয়া একটি চিঠি দেখে গত শুক্রবার রিউটার্সকে বলেছেন, চীন সরকার কখনও ব্যবহারকারীর ডেটার জন্য অনুরোধ করে নি, অনুরোধ করলেও সংস্থাটি এটিকে ফিরিয়ে দেবে না।

টিকটক, যা চিনে উপলভ্য নয়, এটি চীনের বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন, তবে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে আবেদন করার জন্য সংস্থা চীনা মূল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। টেনসেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের ওয়েচ্যাট এবং আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেডের ইউসি ব্রাউজার সহ 58 টি চাইনিজ অ্যাপের পাশাপাশি, এই সপ্তাহে চীনের সাথে সীমান্ত সংঘর্ষের পরে ভারতে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

“আমি নিশ্চিত করতে পারি যে চীনা ব্যবহারকারীরা ভারতীয় ব্যবহারকারীদের টিকটোক ডেটার জন্য আমাদের কাছে কোনও অনুরোধ করেননি,” মিঃ মিয়ার লিখেছেন, সিঙ্গাপুরে সার্ভারে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য ডেটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। “ভবিষ্যতে আমরা যদি কখনও এ জাতীয় অনুরোধ পাই তবে আমরা তা মেনে চলব না।”সংস্থা ও সরকারের মধ্যে আগামী সপ্তাহে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে এই চিঠিটি প্রেরণ করা হয়েছিল, বিষয়টি নিয়ে পরিচিত একটি সূত্র রিয়টার্সকে জানিয়েছে সংস্থা।

ভারতের এক সরকারী সূত্র রিউটার্সকে এই সপ্তাহে বলেছে যে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে শিগগিরই তা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই নিষেধাজ্ঞার জন্য ভারতের জাতীয় সুরক্ষা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে আইনজীবিরা বলেছেন যে আইনী চ্যালেঞ্জ এ সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ভারত সরকার ৫৯টি চীনা মোবাইল অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মোবাইল অ্যাপের তালিকায় রয়েছে টিক টক-এর মত ভিডিও তৈরি ও শেয়ার করার চীনা অ্যাপ টিক টক, এছাড়াও উইচ্যাট এবং শেয়ারইট।

ভারতে টিক টকের বিশাল বাজার রয়েছে।ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে ভারত সরকার দেশটির সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই অ্যাপগুলো নিষিদ্ধ করেছে।

ভারত সরকার বলছে এই পদক্ষেপ ভারতের কোটি কোটি মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর স্বার্থ রক্ষা করবে।ভরতের সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে পিআইবির টুইটে জানানো হয়।ভারতে কয়েক লক্ষ সাবস্ক্রাইবার ছিল ওই অ্যাপের। কিন্তু, কেন্দ্রের অভিযোগ ওই সব অ্যাপের মাধ্যমে ভারতীয়দের তথ্য অন্য দেশের সার্ভারে জমা হচ্ছিল। এই ঘটনার পর সংস্থার ভারতীয় কর্মীদের জন্য বিশেষ বার্তা দিলেন টিক টিক সিইও।

সংস্থার ওয়েবসইটে ওই বার্তা দিয়েছন সিইও। তিনি লিখেছেন, ‘টিক টকের ক্ষেত্রে আমরা ইন্টারনেটের নিয়ম বজায় রাখার চেষ্টা করেছি, আর তাতে আমরা সফল। আমরা আমাদের লক্ষ্যে অবিচল। ডেটা প্রাইভেসি সহ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা নিয়ম মেনে চলেছি।’
ভারতীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, ‘২০১৮ সাল থেকে আমরা খেয়াল রেখেছি যাতে ভারতের ২০০ মিলিয়ন ইউজার তাঁদের ক্রিয়েটিভিটি প্রকাশ করতে পারে এই অ্যাপের মাধ্যমে। নিজেদের কাজ শেয়ার করে নিতে পারে গ্লোবাল কমিউনিটির সঙ্গে। আমাদের কর্মীরাই আমাদের সবথেকে বড় শক্তি। তাদের ভালো রাখা আমাদের কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ২০০০ কর্মীকে ভালো অভিজ্ঞতা দেওয়ার জ্ন্য সবরকমের চেষ্টা করব।

প্রসঙ্গত, রাতের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে টিক টক। চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এমন ঘটনা চোখে পড়েছে। এমনকি, চিনের অ্যাপগুলি আর মিলছে না।, অনেকেই টুইটারে লিখেছেন। এরপরই এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন এই চিনা সংস্থা।

এই অ্যাপ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে এবার সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চলেছে এই সংস্থা। কেন অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হল, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে সরকারের কাছে।টিক টকের ভারতীয় শাখার প্রধান নিখিল গান্ধী এর আগেও একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।

তিনি ট্যুইটারে লিখেছেন, ‘সরকারের তরফ থেকে টিক টক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের তরফ থেকে সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। ভারতীয় আইন মেনেহী আমরা ডেটা সংরক্ষণ করি। ভারতীয় গ্রাহকদের ডেটা চিন বা অন্য কোনও সরকারের সঙ্গে আদান-প্রদান করা হয় না। ভবিষ্যতেও আমরা এরকম কিছু করব না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: