ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জয়, হ্যাট্রিক করে নেইমারের ইতিহাস

একই রাতে জয় পেয়েছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। নিজেদের পৃথক পৃথক ম্যাচে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দারুণ ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে এনেছে দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশ। নিজেদের মাঠে বরাবরই দুর্দান্ত খেলা বলিভিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পরেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মেসির দল। অপরদিকে, নেইমার জাদুতে পেরুকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল।

মাঠে মেসির দল সর্বশেষ জিতেছিল সেই ২০০৫ সালে। তার পরের তিন ম্যাচের দুটিতে হার একটি ড্র। দুই হারের মধ্যে একটি ছিল ৬-১ গোলের! এতো প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, এবার তার দল ড্র করতে পারলেই তিনি খুশি। তবে ড্র নয়, জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা।

মানিয়ে নেওয়ার জন্য শুরুতে অনেকটা হেঁটে হেঁটেই ফুটবল খেললেন আর্জেন্টাইনরা। এই সুযোগে বলিভিয়া এগিয়েও যায়। তবে আর্জেন্টিনার শক্তি জমিয়ে রাখার পন্থা পরে কাজে লেগেছে দারুণভাবে। ঘুরে দাঁড়িয়ে পরে দুটি গোল আদায় করে নেয় দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যার একটি করেছেন লাউতরো মার্টিনেজ, অন্যটি হোয়াকিন কোররেয়া।

সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। সাউল তরেসের ক্রসে ঠিকঠাক হেড করতে পারলেন না মার্সেলো মেরেনো মার্টিন্স বলে সম্ভব হয়নি। স্বাগতিকরা এগিয়ে গেছে ২৪ মিনিটে। আলেজান্দ্রো সাউলের চমৎকার ক্রস থেকে গোল করেন সেই মার্সেলো মার্টিন্সই।

সাত মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বলিভিয়া। কিন্তু মার্টিন্সের ক্রসে নেওয়া হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি সাউসেদো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে চেয়েছে আর্জেন্টিনা। ৪০ মিনিটে পারদেসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে গোলবঞ্চিত হয়েছে সফরকারীরা। তার কয়েক মিনিট পরই অবশ্য প্রথম গোলটা পেয়েছে আর্জেন্টিনা।

বাঁ দিক থেকে মার্টিনেস পাস বাড়িয়েছিলেন ওকাম্পোসকে। কিন্তু বলিভিয়ার কারাসকো তা ঠেকিয়ে দিতে চান। সেখানেই ভুলটা হয়। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন তিনি। মার্টিনেজের গায়ে লেগে বল চলে যায় জালে, ১-১ গোলের সমতা।

দ্বিতীয়ার্ধে বলিভিয়াকে ছেড়ে কথা বলেনি আর্জেন্টিনা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে খেলা। তবে সুযোগ মিস হচ্ছিল বারবার। ৬০ মিনিটে ফ্রি-কিক কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। ৬৭ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন মার্টিনেজ। কিন্তু তবুও গোল করতে পারেননি ইন্টার মিলান তারকা। ৭৫ মিনিটেও মেসির পাস ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন তরুণ তারকা। ব্যর্থ হয়েছে সেবারও। অবশেষে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেছে ৭৯ মিনিটে।

মেসির কাছ থেকে বল পাওয়া মার্টিনেজ পাস বাড়ান বদলি নামা কোররেয়াকে। জোড়ালো শটে গোল আদায় করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। বাকি সময়ে বহু চেষ্টা করেও গোল আদায় করতে পারেনি কোনো দল। যাতে ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা।

অপরম্যাচে, পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নতুন এক রেকর্ড হাতছানি দিচ্ছিল নেইমার জুনিয়রকে। এক গোল করতে পারলে ছুঁতে পারবেন কিংবদন্তি রোনালদো দ্য লিমাকে আর দুই করতে পারলে তাকে টপকে বনে যাবেন ব্রাজিলের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। পেরুর রাজধানী লিমাতে হ্যাটট্রিক করে ব্রাজিলকে জেতালেন ২-৪ গোলের ব্যবধানে আর সেই সঙ্গে ব্রাজিলের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও বনে গেলেন হালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করে শীর্ষ স্থান দখল করে আছেন কিংবদন্তি পেলে। সেলেকাওদের জার্সিতে তার গোল সংখ্যা ৭৭টি। আর রোনালদো লিমার এতদিন ৬১ গোল করে ধরে ছিলেন দ্বিতীয় স্থান। পেরুর বিপক্ষে এক গোল করে নেইমার স্পর্শ করেন এই কিংবদন্তীকে, দ্বিতীয় গোল করে টপকে যান রোনালদো লিমাকে আর হ্যাটট্রিক করে পেলের আরও কাছে চলে যান এই সুপারস্টার। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন স্যালেসাওরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: