ব্যরিস্টার সুমনের কঠোর শাস্তি চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ­

ব্যরিস্টার সুমনের কঠোর শাস্তি চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ­

সুপ্রিম কোর্টের আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের অবমাননা করেছেন দাবি করে তার বার কাউন্সিল সনদ বাতিলসহ কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রোববার বিকেলে আয়োজিত সমাবেশে এমন দাবি করেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ।

সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট বলেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানই ১৯৭১ সালে এই দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষদের উজ্জীবিত করেছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালত ‘জয় বাংলা’কে রাষ্ট্রীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করেছে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের বিরোধিতা করা মানে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। তার ভাষ্য, সুমন এ স্লোগানকে ‘অবমাননা করে’ রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন। তাকে দ্রুত অব্যাহতি দেয়ায় ধন্যবাদ প্রাপ্য যুবলীগের।

ব্যারিস্টার সুমনের শাস্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এতে সুমনের সনদ বাতিল না করলে বার কাউন্সিল ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। ব্যারিস্টার সুমন কীভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পান, সে প্রশ্নও তোলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি সনেট।

সমাবেশে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা। জয় বাংলা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা বাংলাদেশকে অবমাননা করা। ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন দেশের উচ্চ আদালতের রায় এবং সংবিধান চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। জয় বাংলা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কখনো মেনে নেবে না। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধুকে’ রাষ্ট্রীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানান আল মামুন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ ছেলে শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের এক কর্মসূচিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন। ওসির ওই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সুমন বলেন, পুলিশের কর্মকর্তা আক্তার হোসেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ, দেশ ও পুলিশ বিভাগের ক্ষতি হয়েছে। ওসির উদ্দেশ্যে সুমন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্লোগান দেয়ার মানুষ কি এতই কম যে একজন ওসি সাহেবের এই স্লোগান দিতে হবে?’ ওই বক্তব্যের রেশ না কাটতেই যুবলীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় ব্যারিস্টার সুমনকে।

শেয়ার করুন