বিধিনিষেধ শিথিলে যেসব শর্তে রাস্তায় চলছে গণপরিবহন

বিধিনিষেধ শিথিলে যেসব শর্তে রাস্তায় চলছে গণপরিবহন

টানা ১৯ দিন পর শিথিল হলো বিধিনিষেধ। রাস্তায় গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। বেলা বারার সাথে সাথে রাজধানীতে দেখা যায় চিরচেনা রুপ। গণপরিবহনে স্বাস্থ্য বিধি বরাবরের মতই উপেক্ষিত। গত রোববার মন্ত্রিপরিষদের উপ সচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বিধিনিষেধ শিথিল করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

যেখানে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস আদালত খোলার পাশাপাশি সব আসনে যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া, শপিংমল, মার্কেট ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখার ব্যাপারেও বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিধি-নিষেধের অনুবৃত্তিক্রমে কিছু শর্ত সংযুক্ত করে সার্বিক কার্যাবলী/চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলো।

গণপরিবহন চলাচলের শর্তগুলো হলো-

সড়ক, রেল ও নৌ-পথে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন/যানবাহন চলাচল করতে পারবে। সড়ক পথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন (সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক) নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর/সংস্থা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে।

সকল ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

গণপরিবহন, বিভিন্ন দপ্তর, মার্কেট ও বাজারসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে, ঈদুল আজহার পর ঈদের তৃতীয় দিন (২৩ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। লকডাউন ঘোষণার সময় সবকিছু বন্ধ থাকবে বলে জানানো হলেও পহেলা

আগস্ট থেকে রফতানিমুখী সকল শিল্পকারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পরবর্তীতে এই লকডাউন আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যা শেষ হচ্ছে আজ।

তবে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আবারও কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হবে। বিধিনিষেধের ফলে সব কিছু স্তব্ধ হলে কিছু কিছু মানুষ রাস্তায় পড়ে যাবে। এ কারণে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন