ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে পড়লো স্কুলছা’ত্রী

ময়মনসিংহে পরিবারকে দায়ী করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে অর্কপ্রিয়া ধর শ্রীজা (১৬) নামে এক স্কুলছা’ত্রী আত্মহ’ত্যা করেছে। নি’হত অর্কপ্রিয়া ধর শ্রীজা নগরীর পু’লিশ লাইন এলাকার শিক্ষক স্বপন ধরের মে’য়ে। সে নগরীর বিদ্যাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। শিক্ষক স্বপন ধর ময়মনসিংহ কমা’র্স কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক।

রবিবার (১৩ মা’র্চ) বেলা ৪ টার দিকে নগরীর স্বদেশী বাজার ঢাকা লিটন কনফেকশনারীর সামনে থেকে ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়। এর আগে বেলা দুইটার দিকে ফেসবুক পোস্ট দিয়ে ওই এলাকার বহুল ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহ’ত্যা করে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থা’নার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ম’রদেহ উ’দ্ধার করে ময়নাত’দন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের ম’র্গে পাঠানো হয়েছে। তবে, কি কারণে এমন ঘটনা৷ ঘটেছে বিষয়টি জানতে ত’দন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

মৃ’ত্যুর আগে অর্কপ্রিয়া ধর শ্রীজা নিজের ফেসবুকে ইংরেজি ও বাংলায় একটি ফেসবুক পোষ্ট দেন। যেখানে তার মৃ’ত্যুর জন্য তিনি তার পরিবারকে দায়ী করে গেছেন। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের বাংলা অংশটুকু হুবহু তুলে ধ’রা হলো-

যারা বলেন বাবা মা’র সাথে একটু ঝগড়া হইলেই মই’রা যাওয়া লাগে? গিয়ে দেখেন গা এইটা এক দিনের ঝগড়া ছিল না, কি পরিমান মানসিক চাপ দিলে একটা মানুষ ম’রতে যায় নিজে থেকে। আমি নিজে যতদিন ধরে ট্রাই করতেসি আমি দেখতেসি। ৩ বছর ধরে সুই’সাইডাল চিন্তায় ভুইগা আমা’র এতদিনে সাহস হইসে। তাই, সবাইরেই ভাবসে আর সুই’সাইড কই’রা ফেলসে এম্নে জাজ করতে যাইয়েই না। কেও হেল্প চাইলে তো বুলি ছাড়া কিছু পারেন না। আবার কিসু করে ফেললে তখন তার দোষ। ভিক্টিম ব্লেম ছাড়া জীবনে কিসু শিখছিলেন? যারা সুই’সাইড করে তারা বাপ মা রে মাই’রা করে না, বাপ মা ই এদের সুই’সাইড এর পথে ঠেইলা দেয়।

আপনার মনে হয় আমা’র খুব ইচ্ছা ছিল ম’রার? বাধ্য হইসি। আপনাদের তৈরি সমাজ আর পেরেন্টিং এর কারনে। কেও মে’য়েরে নিজের আলাদা লাইফ দিতে না পারলে প্লিজ মে’য়ে নিয়েন না, আপনার এক ডিসিশনের জন্য একটা মানুষের জীবন নষ্ট কইরেন না। আর এই সো কল্ড বাপ মা রে দেবতার আসন থে নামান। আপনার বাপ মা ডেভেল্পড মাইন্ডেড বা আপনার সাথে পারস্পেক্টিভ মিলে দেইখা সবারটা এক না। সবাইরে নিজেরে দিয়া জাজ করা বন্ধ করেন। আই নো অনেকে বলবেন এর থেও বড় প্রব্লেম থাকে মানুষের লাইফ এ।

মানুষ তাও বাইচা থাকে। বাট ওদের প্রব্লেম আর আমা’র প্রব্লেম এক না দেইখাই যে ওদের টা প্রব্লেমের পর্যায়ে পরে আর আমা’র টা পরে না এটা তো কথা না। আমা’র মানসিক, পারিবারিক অবস্থা ওর সাথে যেমন মিলবে না আমা’র রিয়েকশনও ওর সাথে মিলবে না। আমা’র জন্য সুই’সাইড ই একমাত্র উপায় ছিল। সব মুহুর্তে শেষ হয়ে যাবে। ফাইট যে করি নাই তা না, চার বছর ধরে করসি। এখন আর পারতেসিনা। সব ট্রাওমা এখন ফিজিক্যাল রিয়েকশন শুরু করসে। এখন আর সম্ভব না। আর অ’পশন নাই।

আমা’র ফ্রেন্ড দের বলতেসি, থ্যাংক্স আ লট। তোদের জন্যই এতদিন বাচতে পারসি। এত্ত এত্ত হেল্প করার জন্য থ্যাংক্স। অনেক ভালোবাসি তোদের। পাওনা রইল অনেক কিছু। ভালো থাকিস। ট্রাই করিস তোদের সময়ে এই ট’ক্সিক পেরেন্টিং দূর করতে। আর আবারও বলতেসি আমি যা ট্রাওমা ভোগ করসি এগ্লা একদিনের না। দিনের পর দিন মানসিক নি’র্যাতন সহ্য করার পরে এই ডিসিশন নিসি। সেই ক্লাস সিক্স থেকে।

আর তার আগে তো ভালো করে বুঝি ই নাই। যাই হোক জানি তার পরও কেউ চেঞ্জ হবেন না। সেই ভিক্টিম ব্লেম ই করে যাবেন। আর আমা’র পেরেন্ট কেউ এই পোস্ট দেখে থাকলে আর আমা’র জমানো টাকা গুলা খুইজা পাইলে অনু রে দিয়, নিজে তো দেখসি আমা’র সাথে কি করস, মে’য়ে হওয়ার দোহায় দিয়া সব রাইট কাই’রা নিস, সুতরাং ও বড় হইলে ওর লাগতে পারে।

আশা করি আমি ছোট থাকতে যা টাকা পাইসিলাম বা জমাইসি তার মত মাই’রা দিবা না। আর আমা’র ভাইরে তো কিসু বলার ই নাই। সেম জেনারেশনে থাইকাও কেম্নে আমা’রে হ্যারাস কই’রা গেল জানিনা। জানার ইচ্ছাও নাই। আর কেয়ার করতে পারব না। আমা’র সাথে যা করসো সবাই আশা করি হাজার গুনে কারমা হিসেবে ফেরত পাও। আর না বোঝার ভান কইর না।

আমি ১৬ বছর থেকেই বুঝতে শিখলে তোমাদের জন্য ৪০ বছরে বোঝা কোনো ব্যাপার ই না। তার পরও চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝায়ে দেওয়ার চেষ্টা করসি। শুনো নাই, খালি লোকে কি বলবে ভাইবা গেসো। এখন থাকো গিল্ট নিয়া। এখন দেখো লোকে কি বলে দেখ আর রিগ্রেট কর। এগ্লাই তোমাদের পাওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.