Breaking News

ফেরির ফগ লাইট জলেই গেল

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষকে রাজধানীতে আসতে হলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া অথবা শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে ফেরিতে উঠতে হয়। এই দুই নৌপথে ফেরি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি ও মানুষ পারাপার হয়। শীতে কুয়াশার মধ্যেও যাতে ফেরি চলাচল ব্যাহত না হয়, সে জন্য চার বছর আগে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি ফেরিতে উন্নত প্রযুক্তির ফগ লাইট লাগানো হয়। তবে এসব ফগ লাইট কোনো কাজে আসেনি। ফেরি–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোটি কোটি টাকার এসব ফগ লাইটের চেয়ে সাধারণ সার্চলাইট অনেক কাজের।

কুয়াশায় চলাচলের পর্যাপ্ত আলো বা উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা না থাকায় একটু ভারী কুয়াশা পড়লেই রাতে আট থেকে নয় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া ঘাটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১৬ জানুয়ারি রাত থেকে ভারী কুয়াশা পড়তে থাকে। এ কারণে ওই নৌপথে ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ ছিল। এভাবে ১৭ জানুয়ারি প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা, ১৮ জানুয়ারি সাড়ে ৮ ঘণ্টা, ২০ জানুয়ারি ৭ ঘণ্টা, ২২ জানুয়ারি সাড়ে ৯ ঘণ্টা, ২৩ জানুয়ারি ৯ ঘণ্টা এবং ২৪ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। অষ্টম দিনের মতো রোববার রাত আড়াইটা থেকে (ক্যালেন্ডারের হিসাবে ২৫ জানুয়ারি) গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত দুই দফা প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ ছিল। এই নিয়ে এক সপ্তাহে ৬৭ ঘণ্টার বেশি ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ওই পথে যাতায়াতকারী লাখো মানুষকে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আব্দুস সাত্তার বলেন, ফগ লাইট নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। ১০টির মধ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলছে সাতটি এবং বাকি তিনটি ফেরি চলছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার (মাওয়া ঘাট) নৌপথে। এক-দুটি লাইট ভালো থাকলেও তেমন কাজ হচ্ছে না। তবে ফগ লাইটের সঙ্গে উন্নত রাডার স্থাপন, ইকোসাউন্ড সিস্টেম এবং জিপিএস বসানো থাকলে হয়তো চলাচল করতে পারত।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয় জানায়, ২০১৬ সালের জুন মাসে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে দরপত্রের মাধ্যমে ১০টি ফেরিতে ক্ষমতাসম্পন্ন ফগ লাইট বসানো হয়। একেকটি ৭ হাজার কিলোওয়াটের লাইট কিনতে ৫০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়। বলা হয়েছিল, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। অথচ কয়েক দিন পরই অধিকাংশ লাইট নষ্ট হয়ে যায়।

যেসব ফেরিতে ফগ লাইট স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে রো রো ফেরি ভাষাশহীদ বরকতও রয়েছে। এই ফেরির ইনচার্জ মাস্টার মুনসুর আহম্মেদ বলেন, চার বছর আগে এটিসহ ১০টি ফেরিতে কুয়াশার ফগ লাইট স্থাপন করা হয়। কয়েক দিন পরই এই ফেরির লাইট নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সমাধান হয়নি। এ ছাড়া এই লাইট দিয়ে ভারী বা মাঝারি কুয়াশার মধ্যেও চলাচল করা যায় না। সাধারণ হালকা কুয়াশা হলে সেটা কিছুটা কাজে লাগে। এর চেয়ে পুরোনো সার্চ লাইটগুলোই অনেক কার্যকর।

কুয়াশায় ঘাটে ভোগান্তি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে কুয়াশার কারণে রাত আড়াইটা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে চালু হয়। দেড় ঘণ্টা পর আবার কুয়াশা পড়লে সকাল আটটা থেকে দ্বিতীয় দফায় ফেরি বন্ধ রেখেছে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল করার পর আবারও ভারী কুয়াশা পড়তে থাকে। চারদিক কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ সকাল আটটা থেকে ফেরি বন্ধ করে দেয়। এর আগে উভয় ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া আরও তিনটি ফেরি মাঝনদীতে আটকা পড়ে।

সকাল সোয়া নয়টার দিকে এই ঘাটে যান চলাচল শুরু হয়। ততক্ষণে উভয় পারে পারাপারের অপেক্ষায় জমা হয় সহস্রাধিক গাড়ি।

প্রতিনিধি মাদারীপুর জানান, ঘন কুয়াশার কারণে রোববার রাত সোয়া ১০টা থেকে গতকাল সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল। এদিকে দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে আটকা পড়েছে দেড় হাজারের বেশি যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই নৌপথে আসা যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকেরা।

গতকাল সকালে বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) আশিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ১২ ঘণ্টা ফেরি না চলায় ঘাটে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ। প্রতিটি সংযোগ সড়ক, টার্মিনাল যানবাহনে ভরা। বাংলাবাজার ঘাটেই তিনটি টার্মিনাল ও সংযোগ সড়কে সাড়ে ছয় শ পণ্যবাহী ট্রাক, শতাধিক যাত্রীবাহী বাস, সাড়ে চার শ ছোট গাড়ি আটকা পড়েছে। শিমুলিয়া ফেরিঘাটেও একই অবস্থা। আটকা পড়া বেশির ভাগ যানবাহন গতকাল রাত আটটার পর পারাপারের অপেক্ষায় ঘাটে আসে। এখন ফেরি ছাড়লেও আটকা পড়া এসব যানবাহন পারাপার হতে দিন কেটে যাবে।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার রাত নয়টার পর থেকেই ঘাট এলাকায় কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাত সোয়া ১০টার দিকে কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে যায়। পদ্মা নদী ও চারপাশে প্রচুর কুয়াশা পড়ায় নদীপথে সব ঝাপসা হয়ে আসে। ফলে নৌপথের দিকনির্দেশনামূলক বাতি অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এ সময় পদ্মা নদীতে দিক নির্ণয়ে সমস্যায় পড়েন ফেরিচালকেরা। দুর্ঘটনা এড়াতে সোয়া ১০টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এ সময় মাঝ পদ্মায় যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে আটকা পড়ে ছয়টি ফেরি। দুর্ঘটনা রোধে ফেরিগুলো নোঙর করে রাখা হয়। পরে আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে কুয়াশার মাত্রা কমে এলে আটকা পড়া ফেরিগুলো ঘাটে পৌঁছায়। এরপরই স্বাভাবিক হয় ফেরি চলাচল।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সকাল পৌনে ১০টা থেকে ফেরি চলা শুরু হয়েছে। মাঝনদীতে আটকা পড়া ফেরিগুলোও ঘাটে এসেছে। এখন ১৬টি ফেরি সচল আছে।

শেয়ার করুন

Check Also

করো’না র টিকা নিতে গিয়ে জানতে পারলেন তিনি মা’রা গেছেন

করো’নাভাই’রাসের টিকার (ভ্যাকসিন) নিব’ন্ধন ক’রতে গিয়ে দে’খতে পান ২০১৪ সালের ৩ জুনে মা’রা গেছেন তিনি। …