ফরিদপুরে বৃষ্টি চেয়ে দু’রাকাত নামাজ আদায়

ফরিদপুরের সালথায় আল্লাহর কাছে বৃষ্টি কামনা করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেছে এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর উপজেলার কাগদী গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ নফল নামাজ আদায় করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, সালথা উপজেলার কাগদী এলাকায় জমিতে বৃষ্টির জন্য ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হয়েছে। জমির খোলা মাঠের মধ্যে এ নামাজ আদায় করা হয়। এসময়, নফল নামাজ শেষে মোনাজাতও করা হয়। তারা, বৃষ্টি কামনা ও সকল প্রকার বালা-মসিবত থেকে মুক্তি কামনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

শুভ জন্মদিন ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’

বিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষের জন্ম হচ্ছে। কিন্তু ৪৮ বছর আগে আজকের এই দিনে, মানে ১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল এমন একজনের জন্ম হয়েছিল যিনি না জন্মালে পূর্ণতা পেতো না সবার প্রিয় তালিকায় তুঙ্গে থাকা ক্রিকেট। একের পর এক রেকর্ডের মালা উঠতো না কারও গলায়। ক্রিকেট আকাশে জ্বলতে দেখা যেতো না সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি। তিনি হচ্ছেন ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন রমেশ টেন্ডুলকার।

এবারে ৪৮ গণ্ডী পেরিয়ে ৪৯ বছরে পা রাখলেন শচীন টেন্ডুলকার। ১৯৭৩ সালের এই দিনে তখনকার বোম্বের (বর্তমান মুম্বাই) সাহিত্য সাহাশ কর্পোরেটিভ সোসাইটিতে জন্ম নেয় এক বিস্ময় বালক। নাম তার শচীন। যাকে আধুনিক ক্রিকেটের ডন বলা হয়। বাবা ঔপন্যাসিক রমেশ টেন্ডুলকার তার প্রিয় শিল্পী শচীন দেব বর্মনের নামানুসারে তার নাম রেখেছিলেন শচীন। ব্যাট হাতে সেই স্কুল জীবন থেকেই নজর কেড়েছিলেন ভারতের এ‘ব্যাটিং দেবতা’।

১৯৮৯ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল শচীনের। এর পরের গল্পটা তো সবারই জানা। ক্রিকেট অভিধানের প্রায় সব রেকর্ডই নিজের নামের পাশে যোগ করে ‘লিটল মাস্টার’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। ক্রিকেট ইতিহাসে গ্রেট গ্রেট ব্যাটসম্যানের অভাব নেই। যুগে যুগে ভিন্ন ভিন্ন তারকা ব্যাটসম্যানদের দেখেছে ক্রিকেট-বিশ্ব।

কিন্তু শচীনের মতো ব্যাটসম্যানের দেখা মিলেছে একবারই। ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার ঘোষণা দেওয়ার আগে শচীন নিজেকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন অন্য ব্যাটসম্যানদের চোখে তা স্রেফ স্বপ্ন!

অভিষেকের পর থেকে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত টেস্ট শচীন টেস্ট খেলেছেন ২০০টি। যাতে ৫৩.৭৮ গড়ে রান করেছেন ১৫ হাজার ৯২১। ৫১টি শতক ও ৬৮টি অর্ধশতকে এই রান করেন লিটল মাস্টার। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৪৮ রান। হাত ঘুরিয়ে উইকেটও নিয়েছেন ৪৬টি।

টেস্টের তুলনায় শচীনের ওয়ানডে ক্যারিয়ার ছিল আরও বর্ণাঢ্য। ক্যারিয়ারে একদিনের ম্যাচ খেলেছেন ৪৬৩টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যা সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। ৪৪.৮৩ গড়ে রান করেছেন ১৮ হাজার ৪২৬। ৪৯টি শতক ও ৯৬টি অর্ধ শতকে এই রান করেছেন শচীন। ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (২০০*) এসেছে তার ব্যাট থেকেই। বল হাতেও ছিলেন বেশ উজ্জ্বল। ক্যারিয়ারে তার ওয়ানডে উইকেটের সংখ্যা ১৫৬টি। টেস্ট ও ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান ও সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিতে সবার অনেক উপরে শচীন। ২০১২ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একশ সেঞ্চুরির বিরল কীর্তি গড়েন শচীন। ক্রিকেট ইতিহাসে এই রেকর্ড কখনও ভাঙবে কিনা সন্দেহ!

ক্যারিয়ারে মোট ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন শচীন। তার সর্বশেষ বিশ্বকাপ অর্থাৎ ২০১১ সালে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে ক্যারিয়ারে প্রাপ্তির খাতাটা ষোলোকলায় পূর্ণ করেন ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি।

গত বছরের মতো এবারও জন্মদিন উদযাপন করছেন না শচীন। করোনাভাইরাস মহামারির সম্মুখযোদ্ধাদের সম্মানে কোনও ধরনের আয়োজন করেননি তিনি। তাছাড়া কিছুদিন আগেই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ৪৮তম জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে শুভেচ্ছায় ভাসিয়েছেন নেটিজেনরা।

ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন রমেশ টেন্ডুলকারকে কেউ বলে থাকেন কিংবদন্তি, কেউ বা লিটল মাস্টার কিংবা সর্বকালের সেরা। আসলে কোনও বিশেষণে শচীনকে আটকে রাখা যায় না। তাকে এক শব্দে ব্যক্ত করা কঠিন কাজ। তারপরও বলা যায় তিনি ক্রিকেটের ঈশ্বর। শুভ জন্মদিন ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *