‘প্রয়োজন হলে টাকা দিয়ে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে নেব’

‘প্রয়োজন হলে টাকা দিয়ে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে নেব’

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনা অফিসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। জেল ফেরত গর্জনিয়ার থিমছড়ি এলাকার বিভিন্ন কারণে আলোচিত সমালোচিত শফিউল আলম (প্রকাশ বিডিআর শফি) আসন্ন রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হতে ইতোমধ্যেই জোরালো লবিং শুরু করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জামায়াত নেতা পরিচয় বহনকারী শফিউল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ টাকার খেলা। টাকা দিলে জামায়াত প্রার্থী কেন, নৌকার মনোনয়নও পাওয়া কোনো ব্যাপার না। প্রয়োজন হলে টাকা দিয়ে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে নেব। তারপরও চেয়ারম্যান হয়ে নেতৃত্ব দিতে চাই।

বিডিআর বিদ্রোহ মামলার অন্যতম আসামি শফিউল আলম (বিডিআর শফি) দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। সেজন্য তার চাকরি চলে যায়। তিনি আসন্ন গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন আদায়ে এখন ব্যস্ত বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির অনেক নেতাকর্মী।

এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মৌলার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের সময় শফিউল আলম দীর্ঘ কারাভোগ করে আসার পর এলাকায় জামায়াতের নাম-পরিচয় বহন করতে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তার নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে সবকিছুই চলে।

তিনি আরও বলেন, নিজের অপরাধপ্রবণতা কমাতে বর্তমানে তিনি জামায়াতের প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।

এদিকে একই এলাকার মাস্টার রহিম উল্লাহ বলেন, শফিউল আলম পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে সাজা ভোগ করে বের হওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে জামায়াতের নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছেন। যদি শফিউল আলমকে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেওয়া হয় তাহলে উন্নয়ন বামদিক দিয়ে অতিবাহিত হবে।

গর্জনিয়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াহিয়া চৌধুরী বলেন, শফিউল আলম হঠাৎ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পেছনে কী এমন ইন্ধন রয়েছে, তার মনে প্রশ্ন জাগে। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পর থেকে শফিউল আলম কারাভোগ করেন। কিন্তু হঠাৎ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জামায়াতের প্রার্থী হওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় তদবির চালাচ্ছেন। তার এমন কাণ্ড দেখে জনমনে প্রশ্ন জাগছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আনোয়ারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন