পুলিশভ্যানে বসে ফেসবুক লাইভে যা বললেন শিশুবক্তা রফিকুল

রাজধানীর মতিঝিল শাপলাচত্বরে বাম দল ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। আজ ​বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) দুপুর ১২টায় মতিঝিল শাপলাচত্বর এই ঘটে।

এতে বেশ কয়েকজন আহত হবার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রফিকুল ইসলাম মাদানী ওরফে শিশু বক্তাকে আটক করেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার জেরে শাপলাচত্বর হয়ে দৈনিক বাংলা-গুলিস্তান রাস্তাটি বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে বিকল্প রাস্তা হিসেবে শাপলাচত্বর থেকে ফকিরাপুল হয়ে গাড়ি চলাচল করছে।

পুলিশের কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে রফিকুল ইসলাম ওরফে শিশুবক্তা বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সম্মানিত দেশবাসী আপনারা দেখছেন পুলিশ আমাদেরকে ধরে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে আসছে। এই আমাদের

আরো কিছু ভাই, (আটক কয়জনকে দেখান) আমরা আসলে দেশের বিরুদ্ধে না। ইসলামের বিরুদ্ধে না। আমাদেরকে পুলিশ ভাইয়েরা আহত করেছে। আমি বলবো আমাকে আঘাত করা বা দেশকে আঘাত করা একই কথা। আমরা দেশ বিরোধী না, ইসলাম বিরোধী না। আমরা মোদির বিরুদ্ধে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে রাজধানীর মতিঝিল শাপলাচত্বরে যুব অধিকার পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে যুব, ছাত্র অধিকারসহ কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করতে চাইলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে সং;ঘ;র্ষ বাধে। এসময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে

টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। মিছিলকারীরাও পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) দুপুর ১২টায় মতিঝিল শাপলাচত্বরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার পর মতিঝিল এলাকা থেকে পুলিশ শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানিসহ ১১ জনকে আটক করে কাভার্ডভ্যানে করে নিয়ে যায়।

আজকের বিক্ষোভ থেকে আটক হওয়া রফিকুল ইসলাম রাজধানীর জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদরাসায় লেখাপড়া করেছেন। শারীরিক আকৃতিতে ছোট হওয়ায় তাকে সবাই শিশুবক্তা বলেন এবং এ হিসেবেই পরিচিতি পান তিনি। নেত্রকোনা জেলার পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদরাসার পরিচালক রফিকুল ইসলাম ২০ দলীয় জোটভুক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও রাবেতাতুল ওয়ায়েজিনের সঙ্গে যুক্ত আছেন বলেও জানা যায়।

এর আগে গতকাল, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের প্রতিবাদে করা বিক্ষোভ মিছিলে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছে ২০-২৫ জন।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, সরকারি দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এই হামলা চালিয়েছে। ছাত্রলীগ অবশ্য বলছে, তারা এ ঘটনা সম্পর্কে জানে না।২৩শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে মোদীর সফরের প্রতিবাদে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতৃত্ত্বে বিক্ষোভ করে বেশ কয়েকটি বাম দলের ছাত্র সংগঠন।
blob:https://www.facebook.com/aada3d37-1cf3-417f-b57d-8619ad14cf58

শেয়ার করুন