পশুরহাট বসানোর সুপারিশ

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ২৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসালে করোনা পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে। এ কারণে প্রধান প্রধান চলাচল সড়ক ও জনবসতি এড়িয়ে শহরতলীর ফাঁকা স্থানে কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাট বসাতে সুপারিশ করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। একই ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলাতেও। গত মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনটি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে। ওই প্রতিবেদনের একটি কপি যায়যায়দিনের কাছে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদুল আজহা আসন্ন। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী পহেলা আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসে। এ বছর করোনা মহামারির কারণে হাটগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পরিকল্পিতভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে করোনা সংক্রমণের অধিক ঝুঁকির শঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার মধ্যে গাবতলী ও সারুলিয়ায় দুটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে আশুলিয়া, গাজীপুর, শ্রীপুরের মাওনা, কাপাসিয়া, কুমিলস্নার চান্দিনা, নোয়াখালীর রামগঞ্জ, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, নেত্রকোনার সিধলী, ঝিনাইদহের ভাটইবাজার, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়ার ভাদালিয়া, সাতক্ষীরার দেবহাটার পারুলিয়া, খুলনার ডুমুরিয়ার খর্নিয়া, বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার ধাপেরহাট ও রাজশাহীর পুটিয়াসহ দেশের যেসব স্থানে স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এমনকি সামাজিক দূরত্বও নেই। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া ঢাকার ভেতরে শাহজাহানপুর ও আরমানিটোলায় অস্থায়ী পশুর হাট বসে। বর্তমান এই দুটি এলাকা করোনার রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া আরমানিটোলা হাটের অদূরে করোনা চিকিৎসার জন্য মহানগর হাসপাতাল অবস্থিত। এমন পরিস্থিতিতে এই এলাকায় পশুর হাট বসলে আশপাশের এলাকাবাসী ও মহানগর হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। এছাড়া গত ২৮ জুন গেন্ডারিয়ার ধুপখোলা মাঠ, কমলাপুরের টিটিপাড়া মাঠে পশুর হাট না বসানোর জন্য স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে অন্যান্য বছরের মতো এবার রাজধানীসহ সারাদেশে বৃহৎ পরিসরে ও যত্রতত্র পশুর হাট বসতে না দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঈদুল আজহার সময়ে রাজধানীতে ২৪-২৫টি পশুর হাট বসে। এর বাইরেও বিভিন্ন অলিগলিতেও পশুরহাট বসে। এ বছর ঢাকা দক্ষিণে ১৪ ও উত্তরে ১০টি পশুর হাট বসানোর জন্য সিটি করপোরেশন তালিকা চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগর এলাকায় এতগুলো পশুরহাট বসালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। এ কারণে প্রধান প্রধান চলাচলের রাস্তা ও জনবসতি এলাকা এড়িয়ে শহরের উপযুক্ত স্থানে পশুরহাট বসানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একইভাবে দেশের অন্যান্য বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাপ্তাহিক হাট হিসেবে না রেখে প্রতিদিন হাট বসানোর মাধ্যমে নতুন ও অস্থায়ী হাট নিরুৎসাহিত করা যেতে পারে। কারণ প্রতিটি জেলায় ও উপজেলায় একাধিক পশুর হাট রয়েছে। এসব হাটগুলোকে ঈদের অন্তত ১৫ দিন আগ থেকে সপ্তাহের প্রতিদিন চালু রাখা সম্ভব হলে পশুর কেনাবেচার সংকুলান সম্ভব হবে। পাশাপাশি হাটগুলোকে পুরানো ও অভিজ্ঞ ইজারাদারদের দিয়ে পরিচালনা করলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সহজও হবে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ২০১৫ অনলাইন মার্কেট পেস্নস বিক্রয় ডটকমে পশু বিক্রি শুরু করে। এরপর দারাজ, বেঙ্গল মিট, আমেরিকান ডেইরি, দেশি মিট, প্রিয়শপ, আমারদেশ-আমার গ্রামসহ আরও বেশ কয়েকটি অনলাইন কোম্পানি পশু বিক্রি এমনকি প্রয়োজনে মাংস কেটে ডেলিভারি দেওয়ার কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এসব পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম, অফিস, গুরুত্বপূর্ণ সভা, ভার্চুয়াল কোর্ট ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ফলপ্রসূ হয়েছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এ বছর অনলাইন ভিত্তিক পশু বিক্রির কার্যক্রম উৎসাহিত ও পৃষ্ঠপোষকতা করা যেতে পারে। এতে স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুরহাটে ক্রেতাদের চাপ কমবে।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে গাবতলী ও সারুলিয়ার স্থায়ী পশুর হাট ছাড়া বাকি হাটগুলো, পূর্বাচল (রাজউক প্রকল্প এলাকা), টঙ্গি বিশ্ব ইজতেমা ময়দান, উত্তরা ৩য় প্রকল্প এলাকা, রাজউক ঝিলমিল প্রকল্প এলাকা (কেরানীগঞ্জ) ও পূর্বাচল ৩শ ফিট এলাকায় ও আফতাব নগরের পূর্ব সীমানায় খোলা স্থানসহ শহরতলীর অন্যান্য উপযুক্ত স্থানে বসানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। দেশের অন্যান্য বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরের যেসব স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে সেগুলোকেই সাপ্তাহিক হাট না রেখে প্রতিদিনই খোলা রাখা যেতে পারে। এতে নতুন হাট বসানোর ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হবে। অনলাইলে পশু বিক্রি জনপ্রিয় করতে সরকারিভাবে প্রচার প্রচারণা ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বৃহৎ পরিসরে পর্যাপ্ত শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নিশ্চিত করা যায় এমন স্থানে কোরবানির পশুরহাট বসানোকে প্রাধান্য দেওয়া। হাটে প্রবেসের সময় সব ক্রেতা-বিক্রেতার শারীরিক তাপমাত্রা পরীক্ষা, সাবান-পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার ও শতভাগ মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক নিশ্চিত করা। কোরবানির পশুবাহী যানবাহনকে পর্যাপ্তভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। একইভাবে হাট এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে দূষণমুক্ত রাখা ও প্রতিটি হাটে করোনা রোগের ভ্রাম্যমাণ নমুনা সংগ্রহের জন্য মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: