পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় শিশুর পা হারানোর অভিযোগ

পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় শিশুর পা হারানোর অভিযোগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে গ্রাম্য ডাক্তারের অপচিকিৎসায় অনিক নামের এক মাস বয়সী শিশুর পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কথিত ডাক্তারের নাম নরেন্দ্রনাথ ওরফে কিশোর,তার পিতা হরিপদ সেও একজন গ্রাম কবিরাজ। এই গ্রাম্য চিকিৎসকের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন আবদুল্লাহপুর রসুলপুর রোড (কলাকান্দি চৌরাস্তা) বাজারের কদমপুর এলাকার একটি ফার্মেসি আছে পাশাপাশি তিনি কবিরাজি ও করেন।

অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহ্পুর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাসার ও সীমা দম্পতির ঘরে গত ৯ই সেপ্টেম্বর জন্ম নেয় শিশু অনিক। জন্মের ছয় দিন পর এই শিশুটি কান্নাকাটি করা তার পিতা গ্রাম্য চিকিৎসক কিশোরের ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে সে শিশুর পায়ে ট্রাইজন নামে ইনজেকশন পুশ করে, বলে আর কান্না করবে না ভালো হয়ে যাবে।

পরবর্তীতে একদিন পর শিশুর পা ফুলে গেলে শিশুর আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর চাপের মুখে গ্রাম্য চিকিৎসক ভুল চিকিৎসার কথা স্বীকার করে শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে (এন আই সি ইউ প্রয়োজন হলে) উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানকার চিকিৎসক জানান শিশু অনিকের ডান পায়ের হাড়ে পচন ধরেছে। এখন তার পা কাটা ছাড়া কোন উপায় নেই।

অবশেষে গত ২৬ সেপ্টেম্বর শিশুটির পা কেটে ফেলা হয়। গত কাল বাসায় ফিরে শিশু অনিকের বাবা সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন। এ বিষয়ে জানতে ডাক্তার কিশোরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরাণীগঞ্জ সার্কেল) শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, ভুল চিকিৎসার জন্য শিশুটির পা কেটে ফেলা অত্যান্ত দুঃখজনক। আর কেরানীগঞ্জের অলিগিলতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নামে বেনামে ফার্মেসিতে যারা অপ চিকিৎসা বা ভুল চিকিৎসা দিয়ে থাকেন বলে আমি শুনেছি। তবে শিশুটির পরিবারের কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

শেয়ার করুন