পরীমণির সাথে নাম জড়িয়ে এবার মুখ খুললেন সিয়াম, নিচ্ছেন ব্যব,স্থা

পরীমণির সাথে নাম জড়িয়ে এবার মুখ খুললেন সিয়াম, নিচ্ছেন ব্যব,স্থা

ঢাকাই চলচিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি আটক হওয়ার পর থেকেই আরেক অভিনেতা সিয়াম আহমেদকে নিয়ে তার চর্চা শুরু হয়েছে সামাজিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে ছোট বড় কয়েকটি নিউজ পোর্টালেও। এবার এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা সিয়াম।

সিয়াম অভিযোগ করেছেন, তাকে নিয়ে কাল্পনিক গল্প থেকে শুরু করে নানা মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে। এতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক—সব ক্ষেত্রেই ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও জানান তিনি। রোববার (৮ আগস্ট) রাত ৮টা ৩৭ মিনিটে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়গুলো তুলে ধরেন সিয়াম আহমেদ। তিনি লেখেন, সম্মানিত ভক্ত এবং শুভানুধ্যায়ীগণ,

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যাক্তি এবং কিছু তথাকথিত ভুইফোঁড় অনলাইন পোর্টাল আমার নাম উল্লেখ করে মূলত অনলাইন মাধ্যমে আমাকে নিয়ে কাল্পনিক গল্প থেকে শুরু করে নানাবিধ মিথ্যাচার ছড়িয়ে যাচ্ছেন। এটা বলা বাহুল্যমাত্র যে সমস্ত গল্পগাঁথা, মিথ্যাচার ও নোংরামো’র মূলত কোনো-ভিত্তি-ই নেই।

একজন সামান্য মিডিয়াকর্মী হিসেবে আমি প্রতিটি সময় চেষ্টা করি আমার শুভানুধ্যায়ী থেকে শুরু করে সম্মানিত সকল দর্শককে সুস্থ বিনোদন দেবার জন্য এবং তাঁদের জন্য আমার চেষ্টার শেষ নেই। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার আমার এই বিরামহীন প্রচেষ্টা সব সময় চলমান।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আপনারা বোধকরি লক্ষ্য করে থাকবেন যে বর্তমানে বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে একটা অস্থিতিশীল কিংবা অস্থির যা-ই বলিনা কেন তেমন পরিবেশ বিরাজমান। সেগুলোর কারন কিংবা বিধেয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতেই পারে।

যে কোন যৌক্তিক তর্ক-বিতর্ক নতুন ভাবনার বিকাশ ঘটায় এবং এগুলো সুস্থ সমাজের উপাদানও বটে। কিন্তু এইসব তর্ক বিতর্ক আর মিথ্যাচার কিংবা কুৎসা রটাবার যে ‘ফাইন-লাইন’ রয়েছে সেটি ছাপিয়ে যখন আমাকে হীন উদ্দেশ্যে নানাবিধ মিথ্যাচারে বিদ্ধ করা হয় এবং একইসাথে আমার পারিবারিক জীবনকে ক্ষতিগস্থ করবার চেষ্টা করা হয় তখন কেবল একজন অভিনেতা/

মিডিয়াকর্মী হিসেবেই নয়, বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেও আমার দায় জন্মে আমাকে যারা ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন এবং যারা আমার শুভাকাংখী তাঁদের প্রতি আমার একটি বার্তা পৌঁছে দেয়ার। বলা বাহুল্য এই বার্তা আমাকে যারা ভালোবাসেন কিংবা শুভাকাংখী তাঁদের জন্য স্বস্তির হলেও খুব সম্ভবত যারা এই কুৎসা রটাচ্ছেন তাদের জন্য স্বস্তির নয়।’

এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এ অভিনেতা লেখেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমার ভক্ত-শুভাকাংখীরা কিছু বিষয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। আগেই উল্লেখ করেছি কিছু ব্যাক্তি এবং কিছু তথাকথিত ভুইফোঁড় অনলাইন পোর্টাল আমার নাম উল্লেখ করে মূলত অনলাইন মাধ্যমে আমাকে নিয়ে কাল্পনিক গল্প থেকে শুরু করে নানাবিধ মিথ্যাচার ছড়িয়ে যাচ্ছেন। আমি এইসব ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ করছি।

স্পস্টত এইসব বক্তব্য এবং সেগুলো ছড়িয়ে দেয়া মানহানিকর এবং একই সাথে বাংলাদেশে বিদ্যমান সাইবার অপরাধের যে নানাবিধ ধারা-উপধারা রয়েছে তার অন্তর্ভূক্ত। এই সমস্ত মিথ্যে মানহানিকর বক্তব্য, রটনা আমার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক সকল ক্ষেত্রেই ক্ষতির মুখোমুখি করেছে এবং আমি এই পুরো ব্যাপারটিতে মর্মাহত ও বিষ্মিত।’ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একজন আইন মান্যকারী নাগরিক। পেশায় একজন অভিনেতা এবং আইনজীবি।

আমি স্পস্ট জানাতে চাই যারা যারা এইসব মানহানিকর কর্মকান্ড তথা এই কুৎসা রটনায় এখন পর্যন্ত জড়িত আমি প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ দ্রষ্টব্য) আমি মনে করি একজন আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে আদালতের উপর বিচারের ভার ছেড়ে দেয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। আমি এই লেখাটির মাধ্যমে সে-সমস্ত ব্যাক্তিদের কাছে আহবান করব, আপনারা যারা এইসব কুৎসা, মিথ্যাচার, নোংরামো সামান্য হলেও একোমোডেট করেছেন কিংবা সেটির অংশ হয়েছেন (বুঝে কিংবা না বুঝে) দয়া করে আপনারা তা থেকে বিরত থাকুন।

একজন ব্যাক্তির জীবন মিথ্যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবার সামান্য অধিকার আসলে কেউ রাখতে পারেন আমি তা কোনোভাবেই মনে করিনা। একই সাথে আমি এও মনে করিনা কারো বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা বা ছড়াবার কাজগুলো গৌরবের কোন সূত্রও হতে পারে। আমি আমার সমস্ত দর্শক, শুভানুধ্যায়ীদের অনুরোধ করব, আপনারা এইসব সাইবার বুলিইং এর বিরুদ্ধে সুতীব্র অবস্থান নিন এবং সাইবার বুলিদের ‘না’ বলুন।’

শেয়ার করুন