নার্সের অবহেলায় নষ্ট শতাধিক টিকা

পটুয়াখালীর বাউফলে নার্সদের অবহেলায় শতাধিক করোনার টিকা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ ঘটিকায় বাউফল উপজেলা পরিষদ অফিসার ক্লাবে এ ঘটনা ঘটেছে।সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জেলার বাউফল উপজেলায় টিকা প্রদান কেন্দ্রে কাজের সুবিধার জন্য আগে থেকেই অনেকগুলো সিরিঞ্জে টিকা ভরে রাখেন নার্সরা। বিষয়টি দেখে প্রতিবাদ জানান টিকা নিতে আসা ব্যক্তিরা। পরে নার্সরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই সিরিঞ্জগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দেন।নার্সদের দাবি অনভিজ্ঞতার কারণেই এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা কার্যক্রমের স্থান সংকুলন না হওয়ায় উপজেলা পরিষদের অফিসার ক্লাবে গত ১লা অক্টোবর থেকে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে কোভিড-১৯ টিকার কার্যক্রম শুরু হয়। শুক্রবার ব্যাতিত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। নিয়ম রয়েছে যখন টিকা পুশ করা হবে ঠিক তখনই ভায়াল (বোতল) থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে ওষুধ বের করে টিকা গ্রহণকারীর শরীরে পুশ করতে হবে, যাতে টিকার কার্যকারিতা অক্ষুণ্ন থাকে।কিন্তু সারেজমিনে দেখা যায়, টিকা ক্রার্যক্রমে দায়িত্বে থাকা বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসি আক্তার ভাওয়েল থেকে শতাধিক টিকার ডোজ সিরিঞ্জে ভরে জমা করে রাখেন এবং পরবর্তীতে সেই টিকাগুলো আখি বেগম ও রিপা বেগম শিক্ষার্থীদের শরীরে পুশ করছেন। ওই সময় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সোহরাব হোসেন বাঁধা দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা বলায় টিকাদানকারীরা অশালিন আচরণ করেন।

অন্যদিকে আজ মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, টিকা গুলো এক ভাওয়েল থেকে বের করে সিরিঞ্জের মাধ্যমে অন্য ভাওয়ালে রাখা হয়। পর্যবেক্ষণ সংবাদকর্মী সেই ছবি সংগ্রহ করতে গেলে বাধা প্রদান করেন টিকা কার্ড স্ক্যান করার দায়িত্বে থাকা এক যুবক। সেই যুবক নিজেকে ইউএনও মহোদয়ের বডি গার্ড হিসেবে পরিচয় দেন।বিষয়টি নিয়ে ইপিআই টেকনিসিয়ান মো. মঞ্জুরুল হক জানান, এভাবে রাখলে টিকার স্বাভাবিক গুনগত মান নষ্ট হয়ে যায়। ইতিমধ্যে টিকাগুলো পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে।

এই বিষয়ে মো. সোহরাব হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি তার ছেলেকে নিয়ে গণটিকা কেন্দ্রে যায়। এ সময় তিনি দেখতে পান টিকা কার্যক্রমে দায়িত্বে থাকা বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসি আক্তার ভায়াল থেকে শতাধিক টিকার ডোজ সিরিঞ্জে ভরে জমা করে রাখেন। এরপর একএক করে শিক্ষার্থীদের সেই টিকাগুলো শিক্ষার্থীদের হচ্ছে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক বাধা দিয়ে কারণ জানতে চাইলে টিকাদানকারীরা তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন।

টিকা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসি আক্তার, আখি ও রিপা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইপিআই টিকা কার্যক্রমের কোন ধরনের অভিজ্ঞতা না থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ইপিআই কার্যাক্রম যারা পরিচালনা করেন তারা শুরু থেকেই ভাওয়েল থেকে টিকা সিরিঞ্জে ভরে জমা রেখে একের পর এক পুশ করেন বিধায় আমরাও একই নিয়ম পালন করছি।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে ঘটনার সাথে জড়িত নার্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.