নারায়ণগঞ্জে হেফাজত-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

সারাদেশে চলছে হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের প্রভাব। আজ রবিবার (২৮ মার্চ) সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে হেফাজতে ইসলাম। মোদিবিরোধী আন্দোলনের সংঘর্ষে পাঁচ হেফাজত কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় হরতালের ডাক দেয় সংগঠনটি। সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে নারায়ণগঞ্জে পিকেটিংয়ের সময় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গুরুতর অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ রবিবার (২৮ মার্চ) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল, সানারপাড় ও সাইনবোর্ড এলাকাসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। এ সময় একটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাস আগুন দিয়ে পুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়লে দুজন আহত হন। দফায় দফায় হেফাজতের নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ হেফাজতের কর্মীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়ে আগুন নেভালে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‍্যাবের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে রবিবার সকাল থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পুলিশের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীরা শিমরাইল ইউটার্ন এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়ে সড়কে বাঁশ, কাঠ, বেঞ্চ ও টায়ারসহ অন্যান্য জিনিসে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। রাস্তায় আগুন দিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়ে থাকতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

এর আগে শুক্রবার (২৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসা ছাত্রদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিনা উস্কানিতে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করেছে। এ সময় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী, থানা পুলিশ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুপুর আড়াইটার দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা মাদ্রাসার সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি মাদ্রাসা এলাকা অতিক্রম করার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাঁধা এড়িয়ে হাটহাজারী থানার সমানে গেলে তারা ফের বাঁধার সম্মুখীন হয়।

এ সময় উত্তেজিত মাদ্রাসাছাত্ররা থানা কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের (মাদ্রাসা ছাত্র) ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছুঁড়লে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে তিন ছাত্র ও একজন পথচারীসহ চারজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দীন তালুকদার। তিনি জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অনেককে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

নিহতরা হলেন- হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র কুমিল্লা জেলার মো. রবিউল ইসলাম, মাদারীপুর জেলার মো. মেহরাজুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলার মো. আব্দুল্লাহ মিজান এবং পথচারী হাটহাজারী উপজেলার মো. জসিম। এমপি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ ঘটনায় যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সঙ্গে কথা হয়েছে। ওনি চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে হাটহাজারীতে আসলে আমরা এ ব্যাপারে আলোচনায় বসবো।

 

শেয়ার করুন