নামাজের সুযোগে বন্ধুর ২৪ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট যুবক

ব্যবসায়িক পার্টনার ও বন্ধুর টাকা চুরির অপরাধে জাহিদুল ইসলাম রিপন নামের এক ব্যক্তিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজধানীর কতোয়ালি থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে খুলনা থেকে তাদের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার তাদের আদালতে তোলার কথা।

গ্রেপ্তরকৃতরা হলেন- রাজধানীর পুরান ঢাকার ইসলামপুর আহসান উল্লাহ সড়কের হক মার্কেটের ‘মেসার্স জে আর ফেব্রিক্সে’র অংশীদার জাহিদুল ইসলাম রিপন (২৬), তার ভাগ্নে অহিদুর রহমান মিলন (২৬) ও খালাতো ভাই আমিনুল ইসলাম (৩৫)।

কতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুরান ঢাকার ইসলামপুর আহসান উল্লাহ সড়কের হক মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় দোকান ভাড়া নিয়ে ফেব্রিক্সের ব্যবসা শুরু করেন জুয়েল ইসলাম মিঠু ও জাহিদুল ইসলাম রিপন। তারা দুজন ব্যবসায়িক অংশীদারের পাশাপাশি বন্ধুও। নিজেদের নামের সঙ্গে মিল রেখে দোকানের নামও রাখেন ‘মেসার্স জে আর ফেব্রিক্স’।

গত মঙ্গলবার ব্যবসায়িক কাজে ব্যাংক থেকে ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন জুয়েল ইসলাম মিঠু। পরে দোকানে এসে সেখান থেকে পাওনাদারকে ১ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। এরপর বন্ধু রিপন ও দোকানের কর্মচারী ইমরানের জিম্মায় বাকি টাকা রেখে মসজিদে জোহরের নামাজ পড়তে যান মিঠু। এ সময় রিপনের মাথায় টাকার লোভ চেপে বসলে সে কৌশলে কর্মচারী ইমরানকে চা আনতে পাঠায় এবং সুযোগ বুঝে দোকানে থাকা ২৪ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর মিঠু দোকানে ফিরে এসে দেখেন রিপন সেখানে নেই। দোকানে রেখে যাওয়া টাকাও নেই। এমনকি তার ফোনও বন্ধ। তখন ঘটনা বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে কতোয়ালি থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান তিনি। এ ঘটনায় মিঠু বাদী হয়ে একটি মামলাও দায়ের করেন। মামলা নং ১৬। পরে পুলিশ অভিযানে নেমে ঘটনার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা থেকে রিপন, তার ভাগ্নে মিলন ও খালাতো ভাই আমিনুলকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া টাকার সাড়ে ২৩ লাখ উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকেই রিপন ঘন ঘন তার অবস্থান পরিবর্তন করে। যার কারণে অবস্থান নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। অবেশেষ খুলনায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পবিত্র পুলিশের একটি টিম নিয়ে সেখানে যায়। তারপর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিলন ও আমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া টাকার সাড়ে ২৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। মূলত চুরি যাওয়া টাকা গচ্ছিত রাখা এবং তা আত্মসাতের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অপরাধে তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযান দলের নেতৃত্ব দেওয়া এসআই পবিত্র জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লোভে পড়েই রিপন এমন কাজ করেছে বলে স্বীকার করেছে। তাদের আজ শনিবার ঢাকা মহানগর মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে তোলা হবে।

শেয়ার করুন