নাপিতের সাথে গাইনি ডাক্তারের বিয়ে মানেন না সিআইডি এসপি!

রংপুর নগরীর সেনপাড়া এলাকার গাইনি চিকিৎসক অ’পহৃত হওয়ার ২১ মাস পর ঢাকার মোহাম্ম’দপুর থেকে তাকে উ’দ্ধার করেছে সিআইডি পু’লিশ। গ্রে’ফতার করা হয়েছে অ’পহ’রণকারীকে। মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) রংপুর নগরীর কেরানী পাড়ায় সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান, রংপুর সিআইডির এসপি মিলু মিয়া বিশ্বা’স।

এ সময় সিআইডির এসপি ডাক্তার স’ম্পর্কে বলেন, নিচু শ্রেণির একজন নাপিদকে পালিয়ে বিয়ে করে শুধু পরিবারকে ছোট করেননি পুরো চিকিৎসক সমাজকে লজ্জায় ফেলেছেন তিনি। স্বাধীনতা আছে বলেই, যা খুশি করতে পারেন না। অ’পহ’রণ মা’মলার আ’সামি হিসাবে নাপিদ রফিকুল ইস’লাম বাপ্পীকে গ্রে’ফতার দেখিয়ে সেদিন পেছনে হাত মুড়ে হ্যান্ডকাপ পড়ানো অবস্থায় উপস্থাপর করা হয়। উপস্থাপন করা হয় ওই নারীর বর্তমান ও আগের সংসারের দুই শি’শু সন্তানকেও।

আ’দালতে তোলার আগে এভাবে গণমাধ্যমের সামনে তাদের উপস্থাপনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল এ কর্মক’র্তা ‘মিডিয়া ট্রায়েল’ সম্পন্ন করেছেন বলে অ’ভিযোগ উঠেছে। প্রেস বিফ্রিংয়ে মা’মলার উদ্ধৃতি দিয়ে এসপি মিলু মিয়া জানান, গত বছরের মা’র্চ মাসে গাইনি চিকিৎসক অ’পহৃত হয়েছেন-ম’র্মে নগরীর কোতোয়ালি থা’নায় একটি অ’পহ’রণ মা’মলা করেন তার বাবা। মা’মলায় তিনি অ’ভিযোগ করেন, আলমনগর কলোনির নাপিদ বাপ্পী তার মে’য়েকে অ’পহ’রণ করে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন পু’লিশ চেষ্টা করেও অ’পহৃত ডাক্তার মিতুকে উ’দ্ধার করতে পারেনি। পরে মা’মলা’টি সিআইডিতে দেওয়া হয়।

সিআইডির ত’দন্তকারী কর্মক’র্তা উপ-পরিদর্শক ইউনুছ দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে ঢাকার মোহাম্ম’দপুর এলাকার চাঁনমিয়া হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে ওই চিকিৎসককে উ’দ্ধার করেন। সেই সঙ্গে অ’পহ’রণকারী বাপ্পীকে আ’ট’ক করেন। মিলু মিয়া জানান, ওই নারী তার আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে বাপ্পীর সঙ্গে প্রে’মের স’ম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার আগের স্বামীর ঘরে একটি ছে’লেসন্তান এবং বাপ্পীর ঘরে একটি সন্তান রয়েছে। তারা অনেক দিন আগেই বিয়ে করে সংসার করে আসছিলেন।

৮-৯ বছর ধরে বাপ্পীর সঙ্গে প্রে’মের স’ম্পর্ক ছিল ওই নারীর। তারা আগেও একবার পালিয়ে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে এসপি মিলু মিয়া জানান, ওইসময় অনেক বুঝিয়ে তাকে বাড়িতে আনা হলেও আবার তারা পালিয়ে যান। বাপ্পী পেশায় নাপিদ হলেও তিনি ওই নারী চিকিৎসকের বাবার ব্যবসায় ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন। তারা পালিয়ে গিয়ে ঢাকার মোহাম্ম’দপুরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে চেম্বার দিয়ে রোগী দেখতেন ওই নারী। তিনি যা রোজগার করতেন তাই দিয়ে বাসাভাড়াসহ তাদের সংসার চলত বলে জানান এসপি মিলু বিশ্বা’স।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ওই নারী চিকিৎসক গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, বাপ্পীর সঙ্গে ২১ মাসের বিবাহিত জীবনে তাদের একটি ছে’লেসন্তান রয়েছে। তারা সুখেই আছেন। তাকে অ’পহ’রণ করা হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় বাপ্পীর সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। তার বাবা তাদের নামে মিথ্যা মা’মলা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ২২ ডিসেম্বর তাদের আ’দালতে তোলে সিআইডি। আ’দালতে উপস্থাপনের পরপরই ওই নারী জানান, তিনি স্বামী–সন্তান নিয়ে সুখে সংসার করছেন, অ’পহ’রণের শিকার হননি। আ’দালত তার এ বক্তব্যের পরপরই তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। তার স্বামী এখনো অ’পহ’রণ মা’মলায় কারাগারে।

প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারী কাকে বিয়ে করেছেন, তা নিয়ে সিআইডির এ সংবাদ সম্মেলন আলোচনার জন্ম দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সংবাদ সম্মেলন করে পু’লিশ আ’দালতের নির্দেশনা এবং আইন দুই-ই লঙ্ঘন করেছে এমন মন্তব্যও করেছেন নেটিজেনরা। তবে সংবাদ সম্মেলনের পর এবং এত আলোচনা–সমালোচনার পরও মিলু মিয়া বিশ্বা’স গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, পু’লিশ যা করেছে ঠিক করেছে। তিনি বলেন, উনি ভালো চিকিৎসক। তিনি ঢাকায় তিন জায়গায় রোগী দেখতেন।

যাকে তিনি বিয়ে করেছেন, তিনি লেখাপড়া জানেন না। চিকিৎসকের বাবার ফুটফরমাশ খাটতেন। চিকিৎসকেরও কাজে সাহায্য করতেন। এর আগেও তিনি একবার এ নাপিতের সঙ্গে পালিয়ে যান। পরে বুঝিয়ে–শুনিয়ে প্রথম স্বামীর কাছে ফেরত আনা হয়। তখন তো তিনি ব্যভিচার করেছেন। প্রথম স্বামীকে ভালো না লাগলে তার দ্বিতীয়বার বিয়ে করার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছা তা করা নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: