দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হওয়া কি সম্ভব?

একেবারে অসম্ভব নয়, যদিও এখানে কিছু কিন্তু, এবং, অথবা প্রভৃতি বিবেচনায় রাখার বিষয় আছে। হংকংয়ে ৩৩ বছরের এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হন। কিন্তু প্রায় চার মাস পর আবার তিনি করোনা পজিটিভ হলেন। বিবিসি নিউজে (ওয়ার্ল্ড) ২৪ আগস্ট এ খবর প্রকাশের পর বিশ্বের সব পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়।

পরপর দুবার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা। একধরনের আতঙ্ক ছড়ায়। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে করোনায় সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট অ্যান্টিবডি কি বেশি দিন টেকে না? বিষয়টি জটিল। শুধু একটি ঘটনায় সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসা যায় না। একাডেমিক ম্যাগাজিন দ্য কনভারসেশনে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, এই একটি ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলেও তাঁর রোগের কোনো লক্ষণ ছিল না এবং জটিল কোনো পরিস্থিতির উদ্ভবও হয়নি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, অ্যান্টিবডির ব্যাপারটি কী? বিজ্ঞান ম্যাগাজিন কসমস (অনলাইন) ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছে। সাধারণভাবে বলা যায়, কোনো সংক্রমণ রোধে শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তা দ্বিতীয়বার তাৎক্ষণিকভাবে সংক্রমণ ঠেকাতে খুব কম ক্ষেত্রেই সক্ষম হয়। কারণ, সুস্থ হওয়ার কয়েক মাস পর সাধারণত সৃষ্ট অ্যান্টিবডির প্রতিরোধ-সক্রিয়তা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।

তবে শরীরের বিশেষায়িত প্রতিরোধী কোষগুলো একেকটি সংক্রমণ স্মৃতিতে ধারণ করে রাখে। ফলে আবার সংক্রমণ ঘটলে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সহজেই তা চিহ্নিত করতে পারে এবং দ্রুত বিপুলসংখ্যক সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি ও অন্যান্য ইমিউন-কোষ (টি-সেল নামে পরিচিত) তৈরি করতে শুরু করে। এর ফলে নতুন সংক্রমণ কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব হয়।

হংকংয়ের ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয়তো এ রকম কিছু ঘটেছে। প্রথম আক্রান্ত হওয়ার সময় রোগের লক্ষণগুলো স্পষ্ট ছিল। দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হলেও কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এর কারণ হতে পারে এই যে তার শরীর সফলভাবে রোগ প্রতিরোধ করতে পেরেছে।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি হালকাভাবে দেখা উচিত নয়। এটা কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি কোভিড-১৯ একবার হওয়ার পর আবার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে? এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা দরকার।

জিনগত বৈশিষ্ট্যের রূপান্তর (নতুন স্ট্রেইন)?
এর আগেও এ রকম কিছু ঘটনার কথা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এদের অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, নতুন সংক্রমণ নয়, বরং একই সংক্রমণের রেশ চলছিল, সুস্থ হওয়ার বেশ কিছু দিন পর আবার প্রকট হয়ে ওঠে। অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুস মৃত ভাইরাস শরীর থেকে বের করছিল। সে জন্যই হয়তো সুস্থ হয়ে টেস্টে নেগেটিভ আসার পর আবার পজিটিভ এসেছে।

কিন্তু হংকংয়ের সেই যুবকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় সংক্রমণে ভাইরাসের জেনেটিক গঠন একটু ভিন্ন। অর্থাৎ দ্বিতীয়বার ছিল করোনাভাইরাসের সামান্য পরিবর্তিত স্ট্রেইন। তাই বলতে হয়, এটা সুখবর যে জেনেটিক গঠন একটু ভিন্ন হলেও শরীর নতুন স্ট্রেইনকেও কোভিড-১৯ হিসেবে চিহ্নিত করে সফল প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছে। এখানেই নতুনত্ব।

জামাকাপড়ে ভাইরাস কত সময় টিকে থাকে?
এটা নির্ভর করে আমরা বাইরে কোথায় ছিলাম, তার ওপর। ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীরা সারাক্ষণ করোনা রোগীদের কাছে থাকেন, তাই তাঁদের জামাকাপড় অবশ্যই প্রতিদিন ধুয়ে নিতে হবে। কিন্তু যদি এমন কোনো জায়গায় যাই, যেখানে জনসমাগম বেশি নয় এবং সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, তাহলেও কি জামাকাপড় প্রতিদিনই সাবান দিয়ে ধুয়ে রাখতে হবে? যদি তা করি, তাহলে সবচেয়ে ভালো।

শুধু জামাকাপড়ই নয়, সাবান দিয়ে গোসল করে নেওয়াই নিরাপদ। সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত হাত-পা-মুখ, গলা-কাঁধ সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিলেও মোটামুটি চলে। আর জামাকাপড় আলাদা কোনো প্যাকেটে বা বাক্সে রাখতে হবে। বিশেষষজ্ঞদের মতে অন্তত তিন দিন পর সেই জামাকাপড় আবার ব্যবহার করা যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More