Breaking News

তোমাকে পেলে হয়ত আমি বেঁচেই যেতাম: এভাবেই রাজুদের মৃ’ত্যু হয়!

‘তোমাকে পেলে হয়ত আমি বেঁচেই যেতাম!’ বা ‘পাওয়া না পাওয়ার এই দুনিয়ায় তোমাকে পেলে হয়ত সব পাওয়া হয়ে যেতো!’ অথবা ‘প্রে’মিকার শরীর অন্য কেউ ছোঁয়ার আগে প্রে’মিকের মৃ’ত্যু হোক!’ কিংবাব ‘আচ্ছা, যেই ঘরে এক সময় শান্তির ঘুম ঘুমিয়েছি, যেই ঘরের ফ্যানের বাতাসে গায়ের ঘাম শুকিয়েছি, সেই ঘরে সেই ঘরের ফ্যানের সাথে নিজেকে ঝোলানো কি ঠিক হবে? এই ঘর এই রুমে ছোট ভাইকে নিয়ে প্রতিটি রাত কাটিয়েছি, সেই ঘরে কি আদৌ ঝুলে যাওয়া ঠিক হবে? ছোট ভাই যখন এই ঘরে ঘুমাবে, “বারবার মনে হবে বড় ভাই মা’থার উপর একটা দড়িতে ঝুলে আছে!’

এমনই সব পোস্ট ছিল অন্তর রাজের। পরিচিত জনদের নিকট তিনি রাজু নামেই পরিচিত ছিলেন। অন্তর রাজের প্রোফাইলে ম্যারিটাল স্ট্যাটাসে ‘ডিভোর্সড’ আপডেটেড ছিল। তবে সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রে’মিকার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়ায় হতাশায় ভুগছিলেন অন্তর রাজ।

প্রায় দীর্ঘদিন ধরেই ফেসবুকে আত্মহ’ত্যার পোস্ট দিচ্ছিল অন্তর। সেসবের আপডেট তথ্যও পাওয়া গেছে। ফেসবুকের বন্ধুরা নানাভাবেই বোঝাতে চেষ্টা করেছে তাঁকে। কোনোকোনোবার বুঝেছে অন্তর, ফিরে এসেছে। ফের ফিরে গেছে সেই আত্মহ’ত্যার দিকে।

সর্বশেষ একটি পোস্ট দেখা যায় সে লিখেছে, ‘টেনশন নিয়েন না, যা করার করে ফেলেছি, ৭.৫ এমজি ২০ টা, আর ১০ এমজি ২০ টা, ঘুমাচ্ছি চিরতরে ঘুম। কোনো এক ব্রিজের ওপর বসে আছি। টুপ করে পড়ে যাবো একটু পর।’ এরপরেই হাসির ইমোজি।

জানা যায়, কুড়িগ্রামের ধরলা নদী থেকে অন্তরের ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়। গণমাধ্যমে খবর এসেছে, ‘কুড়িগ্রামের ধরলা নদীতে ভেসে ছিল এক অ’জ্ঞাত যুবকের লা’শ। শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন নদীর তীরে লা’শ ভেসে থাকতে দেখে পু’লিশকে খবর দেয়। পরে পু’লিশ এসে সকাল ৯টার দিকে লা’শটি উ’দ্ধার করে। উ’দ্ধার হওয়া ওই যুবকের বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। লা’শের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগও উ’দ্ধার করেছে পু’লিশ।’

আত্মহ’ত্যার ঘোষণা দেওয়ার পূর্বে সর্বশেষ পোস্টে অন্তর লিখেছিলেন দীর্ঘ পোস্ট। ১৮ ফেব্রুয়ারি লেখা ওই পোস্টে লিখেন, ‘কি দিয়ে শুরু করব, বুঝে উঠতে পারছি না। এখন আমাকে অনলাইনে দেখলে নির্ঘাত সবাই গালি গালাজ করবে। কেউ বলবে নাট’কবাজ, কেউ বলবে ভাই’রাল হতে চাই, কেউ বলবে কাউকে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করতে চাচ্ছি, কেউ কুলাঙ্গার বলে গালি দিবে, কেউ বলবে টাকা মে’রে খেয়েছি আরো কত কি!

হ্যাঁ আসলেই আমি নাট’কবাজ, কারণ আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কোন ওয়ে পাচ্ছিলাম নাহ! তাই বাধ্য হয়ে নাট’ক করতে হয়েছে। অবশ্য পুরোপুরি নাট’ক বলাও চলে নাহ, কারণ প্রতিটা নাট’কের সমাপ্তি আমি জীবন দিয়েই শেষ করতে চেয়েছিলাম। পারিনি কিংবা করতে দেয়নি আমাকে। সুই’সাইড পোস্ট করেছিলাম যদি এটা দেখে কারো করুণা হয়, কেউ যেনো আমা’র জীবনটা ভিক্ষা দেয়, কিন্তু হয়নি এমন কিছুই! আমাকে বাচিয়ে রাখার আশা দেখিয়ে ঠকিয়েছে প্রতিনিয়ত! তাই যেতে পারিনি সময় করে, তাই আমি আজ নাট’কবাজ।

ভাই’রাল? আরে ভাই, ভাই’রাল হয়ে কি হবে? যে মানুষ প্রচন্ড মানুষিক যন্ত্র’ণায় তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে তাকে এভাবে কেউ ট্রিট করে। খাঁড়াও, ম’রলে ভূত হয়ে তোমাদের ঘাড় মট’কাবো।

হ্যাঁ আমি ইমোশনাল টর্চার করতে চেয়েছিলাম, করেছিও। কেনো করেছি জানেন, কারণ আমি ম’রতে চাইনি। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম। যে জিনিসটা চেয়েছি, তার জন্য কি এতোটুকুও করা যায় না? জীবন বাঁ’চানো ফরজ, আমি ফরজ কাজটিই করতে চেয়েছিলাম। যেখানে বেঁচে থাকার একটিই মাত্র৷ পথ সেখানে সেই পথে হাঁটতে চাওয়া কি অ’প’রাধ? কে ম’রতে চাই বলুন তো!

হ্যাঁ অবশ্যই আমি কুলাঙ্গার। যে মানুষগুলো আমাকে গায়ের র’ক্ত পানি করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছে, তাদের কথা আমি ভাবিনি। যে মানুষগুলো আমা’র প্রতি বিশ্বা’স রেখে বড় করেছে, বড় হয়ে তাদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য, আমি তাদের কথা ভাবিনি। যে ছোট ভাইটা, আমা’র এসব পাগলামী দেখে কেদে চোখ ভাসিয়েছে, তার চোখের জলের দাম আমি দিতে পারিনি। আমি তো কুলাঙ্গারই। কিন্তু কাউকে তিলে তিলে ক’ষ্ট না দিয়ে একবারেই সব শেষ করে দেওয়াটা কি বেটার অ’পশন নাহ। প্রিয়জনদের সামনে ধুকে ধুকে ম’রার ক’ষ্টটা না দিয়ে একবারেই সব শেষ করে দিলাম। বছর ধরে না কেঁদে একবারই কাদুক।

চলার পথে আর্থিক লেনদেন হয়েই থাকে। দু একজন পাওয়ানাদার, দেনাদার থেকেই যায়। আমা’র কাছেও দু একজন পাবে, আমিও পাঁচ-ছয় জন থেকে পাবো। সব কিছু শেষ করেই যেতে চেয়েছিলাম, পারিনি। কারণ এত ক’ষ্টের মাঝে এসব মা’থায় ঢুকাতে পারিনি। সবাইকে শোধ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। সময় মত পেয়ে যাবেন। আর যদি না পান, তাহলে মাফ করে দিয়েন। আমা’র শরীরে মাংস বেশি নেই যে আখিরাতে শোধ করে নিবেন। লস হবে আপনাদের!

এগুলো আমা’র আত্মসম’র্পণ করার চেষ্টা মাত্র। যারা এমন ভাবেন তারা যদি এসব শোনার পরও খুশি না হোন, তাহলে আমা’র লা’শকে আবার ফাসিতে ঝুলায়েন। শা’স্তি দিয়েন আমাকে।

এই পোস্টটা যখন পড়ছেন, তখন হয়ত আমা’র ডেড বডিতে পচন শুরু হয়েছে কিংবা কোন এক লা’শ কা’টা ঘরে লা’শ সনাক্ত না হওয়ায় পড়ে আছে বেওয়ারিশ হিসাবে দাফনের জন্য। আমি জানি আমি চলে যাওয়াতে কারো বাল ছেড়া যাবে না। গেলে আমা’র ফ্যামিলিরই যাবে। বাড়ির বড় ছে’লে। প্রতিবেশিদের হাজার কথা শুনতে হবে। আমি সরি মা, আমি সরি বাবা, আমি সরি মাসুদ। এছাড়া আমা’র কোন উপায় ছিলো না। আমি খুব ক’ষ্টে ছিলাম মা, বুঝাতে পারব না মা এই ক’ষ্ট কতটা তীব্র। এই ক’ষ্ট সহ্য করার সাম’র্থ আমা’র নেই মা। মাফ করো তোম’রা আমাকে। আমি বেঁচে থাকলে আরো জ্বলতে হতো তোমাদের, অনেক জ্বালিয়েছি, আর জ্বালাবো না তোমাদের।

আর কেনো ম’রছি, কার জন্য ম’রছি, কিসের জন্য ম’রছি এটা না হয় ঘোলাটেই থাকুক। আমিও প্রকৃতির মতই র’হস্য রাখতে পছন্দ করি কিংবা রাখতে হয়।

আল-বিদা বলতে বলতে হাঁপিয়ে উঠেছি, আপনাদেরকেও বির’ক্ত করেছি। কথা দিচ্ছি আর কখনো বির’ক্ত করবো না। আসি এবার, আল্লাহ হাফেজ। পরের জন্মে দেখা হবে।

হ্যাঁ এই পোস্ট যখন নেটিজেনরা পড়ছিলেন, তখন নিশ্চুই অন্তর রাজের লা’শে হয়তো পচন ধরেছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর রাজের মৃ’ত্যু হয়।

শেয়ার করুন

Check Also

করো’না র টিকা নিতে গিয়ে জানতে পারলেন তিনি মা’রা গেছেন

করো’নাভাই’রাসের টিকার (ভ্যাকসিন) নিব’ন্ধন ক’রতে গিয়ে দে’খতে পান ২০১৪ সালের ৩ জুনে মা’রা গেছেন তিনি। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *