ডিবির এক প্রশ্নে চুপ হয়ে যান ডা. সাবরিনা

করোনাভাইরাসের রিপোর্ট জালিয়াতির দায়ে প্রতিষ্ঠানটির গ্রেফতার হওয়া চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনের তিন দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে শুক্রবার (১৭ জুলাই)। এর আগে বুধবার রাতে ডিবি কার্যালয়ে তার সঙ্গে স্বামী আরিফ চৌধুরীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডা. সাবরিনা তার স্বামী আরিফকে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আরিফকে উদ্দেশ করে বলেন- তোর জন্যই আজ আমার এই অবস্থা। তুই আমাকে শেষ করে দিয়েছিস। সবকিছু করে এখন আমাকে ফাঁসিয়েছিস। আরিফও পাল্টা জবাবে বলেন, সব দোষ কি আমার? তুমি তো এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলে। তুমিও জানতে সবকিছু।

এদিকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ডা. সাবরিনা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নিজেকে নির্দোষ বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তা তার মোবাইল ফোনের মেসেজ দেখালে তিনি দাবি করেন, স্বামী আরিফ চৌধুরী তাকে এসব মেসেজ পাঠাতে বাধ্য করেছিলেন।

জেকেজির চেয়ারম্যান কিনা এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে বিষয়টি অস্বীকার করেন। অবশ্য ঘটনা আলোচনায় আসার শুরু থেকেই জেকেজির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

এ পর্যায়ে সাবরিনার মেসেজ পাঠানো এবং জেকেজি থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে বেতন নেয়ার প্রমাণ দেখান তদন্তকর্মকর্তা। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজির চেয়ারম্যান হয়ে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ভঙ্গ করেছেন আপনি’।

ডিবির এই প্রশ্নে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী একেবারে চুপ হয়ে যান বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন গণমাধ্যমকে বলেন, আরিফ ও সাবরিনাকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাঁরা দুজনই করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার মাধ্যমে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন।

আরিফ-সাবরিনাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তাদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদে এমন অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে কিছু ক্লু নিয়ে কাজ করছি আমরা।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন জেকেজির গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ও ডা. সাবরিনার স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকেই সরকারি চিকিৎসক হয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে থাকা সাবরিনার নাম এবং জালিয়াতির তথ্য নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এ সময় একটি ল্যাপটপে ১৫ হাজার ভুয়া রিপোর্ট তৈরির আলামত পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

এর পর রবিবার (১২ জুলাই) ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের তেজগাঁও ডিসি কার্যালয়ে ডাকা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে ২৭ হাজার রোগীকে করোনা টেস্টের রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনা সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ জনের ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করা হয়, যা জব্দ করা ল্যাপটপে পাওয়া গেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: