ট্রেনে কা’টা পড়েছে শ’রীরের নীচের অং’শ, মনের জোরে যেভাবে করেছে সে এই সাফল্য অর্জন

ট্রেনের ত’লায় প’ড়ে ট্রেনের চা’কা তে এসে গিয়েছিলো কো’মর থেকে “পা” পর্যন্ত অংশ। একটি ট্রেন নয়, তার কোমরের উ’পর দি’য়ে চ’লে গিয়েছিল দু দুটি ট্রেন। সেই অবস্থা থেকে প্র’তিকূল পরিবেশ কে জয় করে আজও সে জীবিত। শুধু জীবিতই নয়, এখন সে সাফল্যের দোরগোড়ায়। অর্ধেক মানুষ বলা যায় তাকে। তবুও জীবন যু’দ্ধে হার মানেনি।

বিহারের বেগুসারাই জেলার ঢাকজারি গ্রামের বাসিন্দা দেব। ছোট ছোট তিন সন্তানকে রেখে দেব এর বাবা কম বয়সে মা’রা যান।তার মায়ের জমানো টাকা ছিল তার বাবার চিকিৎসার খরচ যোগাতে সব শে’ষ হয়ে যায়। তার বাবার মৃ-ত্যুর পর থেকে মা বন্দনা দেবী বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে হা’ড়ভা’ঙ্গা পরিশ্র’ম করে ছেলেমেয়েদের মানুষ করবার জন্য টাকা জোগাড় করেছিলেন।

নিজের ছেলেমেয়েদের কখনো অ’ভুক্ত অবস্থায় থাকতে দেননি। পরিস্থিতির দুরব’স্থা দেখে দেব মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকে কাজে লেগে পড়ে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোন রকমে পড়াশোনা করেছিল। মায়ের কষ্ট দেখে পরিবারের কাজে সাহায্য করা থেকে শুরু করে পশুপালন ছোট বয়স থেকে কোন কাজে খামতি রাখেনি দেব। তবে জীবনের বেশ কিছু সময় ধরে ভাগ্য তার সহায় হয়নি।

২০১৫ সালে ১লা জুন দেব দেব গিয়েছিলেন হায়দ্রাবাদে। বারাউনি স্টেশনে ট্রেন ঢুকছে। তখন রেললাইন থেকে ট্রেন মাত্র দশ হাত দূরে রয়েছে। দেব পড়ে গিয়েছিল রেল লাইনের উপরে। সে জানিয়েছে, একটি ট্রেন হঠাৎই তার কো’মরের উ’পর দি’য়ে চ’লে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য আরেকটি ট্রেন এসে তার কোম’রের উ’পর দিয়ে আবারো চলে যায়।এরপর থেকে প্রায় টানা তিন ঘণ্টা ধরে প্ল্যাটফর্মের ওপরেই পড়েছিলেন দেব।

কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। অবশে’ষে কিছু লোকের প্রচেষ্টায় তাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে ছিল তার এক বন্ধু। ডাক্তার প্রায় জবাব দিয়েই দিয়েছিল যে তাকে আর বাঁচানো যাবে। তবে ভাগ্য তার সহায় হয়েছিল ঠিক তখন। জীবনের গতি অন্যদিকে মোড় নিলেও বেঁচে ফেরেন তিনি।

এরপর প্রচ’ন্ড কষ্টের মুখোমুখি হয়ে এদিক ওদিক ঘুরে প্লাটফর্মে শুয়ে কাটিয়েছেন তিনি। কারোর কাছে চাকরি চাইতে গেলে মুখ ঘুরিয়ে নিত।রোজ বান্দ্রা থেকে জুহু যাতায়াত করেছেন। সেলিব্রিটি দের বাড়ির সামনে দিয়ে বহুবার যাতায়াত করেছেন তিনি। নায়ক জ্যাকি শ্রফ এর থেকে ৫০০০ টাকার একটি খাম পেয়েছিলেন দেব।

এই ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর তার সাথে দেখা হয় অলং’কার ডিজাইনার ফারহা খান আলীর। তার এমন অবস্থা দেখে তিনিও তাকে দশ হাজার টাকা দেন। শরীরের নিচের অংশ না থাকায় হাঁটাচলার জন্য অসুবিধা ভোগ করতে হতো তাকে।তাই ওই অলং’কার ডিজাইনার তাকে একটি ট্রাই সাইকেল কিনে দেন। তখন তিনি বলেছিলেন,”যতদিন পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকব, আমার সাধ্য মতন আমি তোমাকে সাহায্য করবো।”

এরপর তিনি শরী’রের দিকে নজর দিতে শুরু করেন। শরীরের নিম্নাংশ নেই তো কি হয়েছে,নিজের শ’রীরকে শক্ত ও সুঠাম করে তুলতে তিনি প্রতিনিয়ত ব্যা’য়াম করেছেন। ইন্ডিয়া’স গট ট্যালেন্ট তে অডিশন পর্যন্ত দিয়ে এসেছেন তিনি। শে’ষ করেছেন এ দ্বাদশ শ্রেণির পড়া।

জীবনে যু’দ্ধে জয়ী হয়ে তিনি বলেছেন, “ভে’ঙে পড়া কখনই উচিত নয়। জীবনে চলার পথে অনেক বাঁধা- বিপ’ত্তি আসবেই। সেগু’লিকে পাশ কা’টিয়ে নয় সেগু’লির সামনা সামনি হয়ে মুখোমুখি হয়ে লড়াই করে বাঁ’চতে হবে। সমস্ত অসুবিধাকে ভাগিয়ে দিতে হবে।” এমন ঘটনা থেকে প্রত্যেকেরই উচিত সঠিক শিক্ষা নেওয়া। একটি অঙ্গ চলে গিয়েছে বলে অ’ক্ষম বা প্রতিব’ন্ধী হয়ে যাওয়া নয়।। মনের দিক থেকে প্রতিব’ন্ধী না হলেই হল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: