টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ১৫১টি গ্রাম প্লাবিত

৬৬৫টি ঘরবাড়ি নদীতে সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গেছে এবং আংশিকভাবে বিলীন হয়েছে ১৬২৪টি ঘরবাড়ি অতি বর্ষণ এবং অব্যাহত উজানী ঢলের কারণে টাঙ্গাইলের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে অস্বাভাভিক হারে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টায় ধলেশ্বরী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১০০ সেন্টিমিটার।

এছাড়া , যমুনা নদীর পানি ৬৮ সেন্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল বেগে নদীর পানি ঢুকছে লোকালয়ে। এতে করে নতুন করে বন্যা কবলিত হয়ে পরছে বিস্তীর্ণ এলাকা। দ্বিতীয় দফায় বন্যায় ১৪৬০ হেক্টর ফসলি জমি ডুবে গেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বুধবার সকালে ধলেশ্বরী নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১ মিটার, যমুনা নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার. বেড়ে ৬৮ সেন্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি ৪৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী এবং গোপালপুর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভা আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮০৪ মানুষ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৮৪ হাজার ৭১২ জন। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ২১ হাজার ১৭৮টি। অপরদিকে ৬৬৫টি ঘরবাড়ি নদীতে সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গেছে এবং আংশিকভাবে বিলীন হয়েছে ১৬২৪টি ঘরবাড়ি।

নাগরপুরে ১টি স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরও ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, নদীভাঙনে ১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আংশিক ১৭ টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ৬ উপজেলার ১৯৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সম্পূর্ণ কাঁচা রাস্তা সম্পূর্ণভাবে এবং ৬২ কিলোমটির কাঁচা রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ১০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সম্পূর্ণ ৩টি সেতু এবং আংশিক ২১টি সেতুর ক্ষতি হয়েছে।

জেলায় বন্যার্তদের জন্য ৪০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শিশু খাদ্য ২ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য ২ লাখ টাকা এবং শুকনা খাবারের ৪ হাজার প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রথম দফায় বন্যায় টাঙ্গাইলে ৩ হাজার ৮৩৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত আরও অন্তত ১৪৬০ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। পানি বাড়তে থাকলে দ্বিতীয় দফায় নিমজ্জিত কৃষি জমির পরিমাণও বাড়বে।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, নদীগুলোতে ব্যাপক হারে পানি বাড়ছে। সামনে আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানি সরে গেলে নদী ভাঙন তীব্র হবে। তবে সামনে বড় ধরনের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙনরোধে আমাদের কাজ অব্যহত রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: