Breaking News

জীবিকার তাগিদে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বিচিত্র জীবন

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের প্রধান উৎস টিউশনি। এর মাধ্যমে থাকা-খাওয়ার খরচের পাশাপাশি পড়াশোনার খরচও উঠে আসে। কিন্তু গত মা’র্চ থেকে দেশে করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ শুরু হলে তাদের এই আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় খরচ জোগাতে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন অনেকেই।

এদিকে, এসব শিক্ষার্থীরা কর্মব্যস্ত থাকায় তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনার বাইরে থাকায় তাদের শিক্ষাজীবনে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আয়েশা দেওয়ান। করো’নার আগে পড়াশোনার খরচ টিউশনের আয়ে মেটাতেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকায় তাকে টিউশন হারাতে হয়েছে। করো’নায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বেতন নেওয়ায় ছাড় নেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। ফলে পড়েছেন আর্থিক সংকটে।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের গণিত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রীতা রানীর পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে এখন তাকে টিউশন করে পড়াশোনার খরচ চালাতে হচ্ছে। যার কারণে পড়াশোনায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

করো’নাকালীন আর্থিক সঙ্কটে পড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যোগ দেওয়া তাদের শিক্ষাজীবনে কতটুকু প্রভাব ফেলছে, জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইস’লাম বলেন, এটা আসলে ক্ষতি নয়। তার মতে এটা একটা গ্যাপ। আর শিক্ষার্থীরা চাইলেই সেটা পুষিয়ে নিতে পারবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জা’পানি ভাষা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাকি আক্তার জানান, করো’নার বাড়তি সময় কাজে লাগিয়ে কম্পিউটার কোর্স করছেন তিনি। পরবর্তীতে এটা তার কাজে দিবে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি আর্থিক সঙ্কট কা’টাতে প্রত্যাশা করেন সরকারি সহায়তার।

এ ব্যাপারে রাইসুল ইস’লাম বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা একটু কঠিন। কঠিন হলেও অসম্ভব ছিলনা যদিনা এক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার কোনো সমস্যা না থাকত।

আর্থিক সংকটের কারণে গাজীপুরের একটি সুতার ফ্যাক্টরিতে সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ইনচার্জ হিসেবে জব করছেন এশিয়ান ইউনিভা’র্সিটির বিবিএর তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইভান। তিনি জানান, ইউনিভা’র্সিটিতে ৯-১০ মাসে ৫০ হাজার টাকারও বেশি বেতন পরিশোধ করা বাকি। তিন সেমিস্টারের ড্রপে পড়ে পড়াশোনা আর চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা এখন তা নিয়েই সন্দিহান তিনি।

এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করো’নাকালীন সময়েও বেতন পরিশোধে বাধ্য করছে শিক্ষার্থীদের। নামমাত্র যা ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা এই সঙ্কট’কালে যথেষ্ট না শিক্ষার্থীদের জন্য। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাইসুল ইস’লাম বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। মানবিক বিবেচনার চেয়ে তাদের কাছে বাণিজ্যিক স্বার্থই বড়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মুন রেডিও ধ্রবতে পার্ট টাইম জব করছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইস’লাম করো’নার কারণে গ্রামে স্টেশনারির দোকান দিয়েছেন। অনেকটা সময় পড়াশোনা থেকে দূরে থাকার কারণে তারা চাইছে এথন অন্তত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে ভা’রতের উদাহ’রণ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ঝুঁ’কি। তাই পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন না খোলাই ভালো।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস’লামী শিক্ষার দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র রাকিবুল হাসানের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজে’লার চারাতলা গ্রামে। মা-বাবা দিনমজুর। পড়াশোনা বন্ধ থাকায় তিনি এখন ভ্যান চালান।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযু’ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র চানু হোসেন ক্যাম্পাসের আশপাশে দুটি টিউশনি করতেন। এখান থেকেই তার হাতখরচ, পড়াশোনার খরচ উঠে আসে। কিন্তু করো’না সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই তার সেই টিউশনি বন্ধ হয়ে যায়।

ইস’লামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুঈদ রহমান বলেন, এখন যেসব শিক্ষার্থীরা কাজ করছে, তাদের অনেকে আগে টিউশনি করে খরচ চালাত। কিন্তু এখন অনেক কম টাকাতেও ক’ষ্ট’কর কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পড়াশোনার পরিবেশের বাইরে থাকায় সবার ক্ষেত্রে না হলেও অনেকের ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনের ওপর একটা দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ একবার পেশাগত জায়গায় গেলে পরে পড়াশোনায় ভালো’ভাবে মনোযোগ দেওয়া যায় না। খুব বেশি প্রত্যয়ী না হলে সেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন।

শেয়ার করুন

Check Also

করো’না র টিকা নিতে গিয়ে জানতে পারলেন তিনি মা’রা গেছেন

করো’নাভাই’রাসের টিকার (ভ্যাকসিন) নিব’ন্ধন ক’রতে গিয়ে দে’খতে পান ২০১৪ সালের ৩ জুনে মা’রা গেছেন তিনি। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *