ছিলেন কৃষক, স্বপ্নে পাওয়া ফর্মুলায় এখন তিনি কবিরাজ

ছিলেন কৃষক, স্বপ্নে পাওয়া ফর্মুলায় এখন তিনি কবিরাজ

শেরপুরের ইদু মিয়া (৫৫) কৃষক ছিলেন কয়েক মাস আগেও, সংসারের হাল টানতেন দিনরাত ক্ষেতে কাজ করে। সেই লোকটিই হঠাৎ বনে গেছেন কবিরাজ। প্রতিদিন শত শত মানুষকে দিচ্ছেন পানি ও তেল পড়া। স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নিয়েছেন লাইসেন্সও। কথিত ওই কবিরাজের দাবি, স্বপ্নে পাওয়া কিছু নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি চালাচ্ছেন চিকিৎসা। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ স্পষ্ট করে বলছে, এমন চিকিৎসার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই।

স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশনায় তেল ও পানি পড়া আর ঝাড়ফুঁক দিয়ে চিকিৎসা করা ওই ব্যক্তির নাম ইদু মিয়া। গত তিন মাস ধরে বনে গেছেন কবিরাজ। বাত-ব্যথা, জন্ডিস, হাপানি থেকে শুরু করে হেন রোগ নেই, যার চিকিৎসা নেই ইদু মিয়ার কাছে। সবার জন্য পথ্য নির্দিষ্ট। হয় তেল, না হয় পানিপড়া। ইদু মিয়ার দাবি ফর্মুলা তিনি পেয়েছেন স্বপ্নে।

শেরপুর সদরের ভাতশালা ইউনিয়নের কুঠরাকান্দা গ্রামের ইদু মিয়া জুটিয়েছেন কয়েকজন সাগরেদও। যারা গ্রামে গ্রামে তার সুনাম প্রচার করে। তাদের দাবি, চিকিৎসার জন্য কোনো টাকা নেয়া হয় না। তবে কেউ খুশি হয়ে দিলে না করেন না ইদু মিয়া। তবে সমস্যা নিয়ে আসা প্রত্যেককেই তেল ও পানির বোতল বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয় ইদু মিয়ার বাড়ির পাশের এক দোকান থেকে।

ইদু মিয়া জানান, কবিরাজির জন্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়েছেন তিনি। কিন্তু আদতেই এমন অনুমতি দেওয়ার বিধান আছে কিনা, এমন প্রশ্ন ছিল চেয়ারম্যান নাজমুন নাহারের কাছে। তিনি জানালেন, লাইসেন্স তিনি নিজে দেননি। তাকে না জানিয়েই সার্টিফিকেটটি দেওয়া হয়েছে। কিছু ফর্ম আগে থেকেই সই করা থাকে। এমন একটি ফর্মই ইদু মিয়া কোনোভাবে যোগাড় করেছে।

শেরপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কাশেম মোহাম্মদ আনোয়ারুর রউফ সাংবাদিকদের বলেন ঝাড়ফুঁক পদ্ধতি অবৈজ্ঞানিক। চিকিৎসা বিজ্ঞান কখনোই তা সমর্থন করে না। এসব অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন